Captain Smit Machchhar: ‘চরিত্রের দৃঢ়তা...,’ সাহসিকতার সম্মান গ্রহণের জন্য ভারতীয় পাইলটকে আমন্ত্রণ ইজরায়েলের
Israel Presidential Award Smit Machchhar: ইজরায়েলের প্রেসিডেন্টের এই পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান হিসেবে পরিচিত।
Israel Presidential Award Smit Machchhar: ককপিটের মধ্যেই সহ-পাইলটের প্রাণঘাতী আক্রমণ প্রতিহত করে ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু-সহ ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর (Captain Smit Machchhar)। তাঁর এই অসামান্য সাহসিকতার জন্য ইজরায়েলের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড ফর সিভিয়ান হিরোইজম’ (Presidential Award for Civilian Heroism)-এ ভূষিত করার ঘোষণা করেছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার। ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে জেরুজালেমে আমন্ত্রণ জানিয়ে ইজরায়েলের সর্বোচ্চ নাগরিক বীরত্বের পুরস্কার গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

ইজরায়েলের প্রেসিডেন্টের এই পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান হিসেবে পরিচিত। চিঠিতে আইজ্যাক হারজগ লিখেছেন, 'ব্যথা ও যন্ত্রণাকে অতিক্রম করে নিজের মধ্যে শক্তি খুঁজে পাওয়া, জীবনের উপর আসা তাৎক্ষণিক বিপদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আপনার চরিত্রের দৃঢ়তা ও অসাধারণ সাহসের পরিচয় দেয়।' তাঁর মতে, মাচ্ছর ইজরায়েলের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন। তিনি আরও লিখেছেন, স্মিত মাচ্ছরের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য সকলেই প্রার্থনা করছেন। সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁকে জেরুজালেমে স্বাগত জানিয়ে ইজরায়েলের মানুষের কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাতে চান তিনি। চিঠিতে বলা হয়েছে, 'ক্যাপ্টেন মাচ্ছর সুস্থ হয়ে ওঠার পর ইজরায়েলের জনগণের পক্ষ থেকে তাঁকে 'অসামরিক ক্ষেত্রে সাহসিকতার জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড' প্রদান করা আমার জন্য সম্মানের বিষয় হবে।'
চিঠিতে হারজগ লেখেন, 'ঘটনাপ্রবাহ কোনও থ্রিলার গল্পের মতো মনে হলেও, আকাশে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের সময় ককপিটে যে চরম আতঙ্ক ও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কেবল কল্পনা করা যেতে পারে।' হারজগ ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি ১৯১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অটোমান বাহিনীর হাত থেকে ইজরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফাকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে লেখেন, 'আপনার বীরত্ব আপনাকে সেই সব ভারতীয় সেনার মর্যাদাপূর্ণ সারিতে স্থান দিয়েছে, যারা ১০০ বছরেরও বেশি সময় আগে 'পবিত্র ভূমি'র (হোলি ল্যান্ড) শহরগুলিকে মুক্ত করতে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন এবং চিরকালের জন্য ইজরায়েলের ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছিলেন। ক্যাপ্টেন মাচ্ছর, আপনিও এখন থেকে আমাদের জনগণের ইতিহাসের এক অমূল্য অংশ হয়ে থাকবেন; এটি ভারত প্রজাতন্ত্র ও ইজরায়েলের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক ও বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে৷' তিনি আরও লেখেন, 'সুস্থ হয়ে ওঠার পথে আপনার যাত্রা শুরু হচ্ছে; আমি জানি যে আপনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অত্যন্ত যত্নে রয়েছেন। আপনার পূর্ণ ও দ্রুত আরোগ্যের জন্য আমরা সবাই আন্তরিক প্রার্থনা করছি। আপনি সুস্থ হয়ে ওঠার পর জেরুজালেমে স্বাগত জানাতে এবং আমাদের কৃতজ্ঞ জাতির পক্ষ থেকে আপনার প্রতি ভালোবাসা ও ধন্যবাদ জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি৷'
প্রাথমিক তদন্তের দাবি অনুযায়ী, ওমানের ওই সহ-পাইলট স্বীকার করেছিলেন, তাঁর পরিকল্পনা ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে তেল আভিভের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে বিমানটি আছড়ে ফেলা। অভিযোগ, কো-পাইলট ককপিটের জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত কুড়ুল দিয়ে পিছন থেকে বারবার আঘাত করেছিলেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছরকে। গুরুতর আহত হওয়ার কারণে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারও করতে হয়। বর্তমানে তিনি দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিপদের মধ্যেও সাহসিকতার পরিচয় দেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছার। যাত্রীদের ককপিটে ঢোকার সুযোগ করে দিয়ে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেন। তাঁর এই পদক্ষেপে সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
E-Paper

