Flight services amid Israel-Iran war: দুবাই থেকে ভারতে আসার বিমান পরিষেবা শুরু! এইসব দেশ থেকেও ফিরতে পারবেন ভারতীয়রা

ইজরায়েল এবং ইরানের যুদ্ধের জেরে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছিল উড়ান পরিষেবা। আটকে পড়েছিলেন ভারতীয়রাও। তবে কিছুটা ছন্দে ফিরল বিমান পরিষেবা। আবুধাবি থেকে নয়াদিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে এসেছেন ভারতীয়রাও।

Published on: Mar 03, 2026 12:37 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ছিল কার্যত রণক্ষেত্র। নিরাপত্তার খাতিরে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল এবং আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিপাকে পড়েছিলেন হাজার-হাজার যাত্রী। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় দুবাই-সহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে আবারও কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে বিমান পরিষেবা।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আবুধাবি থেকে দেশে ফেরার আবেগ, দিল্লি বিমানবন্দরের দৃশ্য। (ছবি সৌজন্যে পিটিআই)
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আবুধাবি থেকে দেশে ফেরার আবেগ, দিল্লি বিমানবন্দরের দৃশ্য। (ছবি সৌজন্যে পিটিআই)

কেন থমকে গিয়েছিল বিমান পরিষেবা?

ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের পর সমগ্র পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে জর্ডন, লেবানন, ইরাক এবং ইরানের আকাশপথ দিয়ে যাতায়াত করা সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক উড়ান সংস্থাগুলি রুট পরিবর্তনের পথে হাঁটে। আকাশপথও বন্ধ করেে দেওয়া হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছিল ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর, কারণ ইউরোপ বা আমেরিকায় যাওয়ার জন্য এই আকাশপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দুবাই ও অন্যান্য দেশের বর্তমান চিত্র

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে উড়ান চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। এমিরেটস, এতিহাদ এবং কাতার এয়ারওয়েজের মতো বড় সংস্থাগুলি পুনরায় তাদের পুরনো রুটে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এখনও কিছু এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং পাইলটদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

ভারতীয় যাত্রীদের ওপর এর প্রভাব

ভারত থেকে যাঁরা মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপে যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর। গত কয়েকদিন ধরে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ভিস্তারার মতো বিমান সংস্থাগুলি ইরান ও ইজরায়েলের আকাশপথ এড়িয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করছিল। এর ফলে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছিল খরচ। গন্তব্যে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অতিরিক্ত লাগছিল।এখন পরিষেবা স্বাভাবিক হতে শুরু করায় টিকিটের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং যাত্রীদের হয়রানি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা নিয়ে কি বলছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি?

যদিও বিমান চলাচল শুরু হয়েছে, কিন্তু এয়ারলাইন্সগুলো এখনো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। আইএটিএ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে যে যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের কাছে অগ্রাধিকার। যদি নতুন করে কোনও উত্তেজনার খবর আসে, তবে আবারও রুট পরিবর্তন বা বাতিল করা হতে পারে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সতর্কতা

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে 'ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ' পর্যায়ে রয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন যে দ্রুত স্থিতি ফিরে আসবে। তবে সাধারণ যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে অবশ্যই নিজ-নিজ উড়ান সংস্থার ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে ফ্লাইটের বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করে নিন।যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যারা টিকিট বাতিল করেছিলেন, তাদের রিফান্ড বা রি-শিডিউলিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক এয়ারলাইন বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। তাই বিমর্ষ না হয়ে সরাসরি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।