ISRO Satellite Launch: মহাকাশ থেকে সীমান্তে নজরদারি চালাবে ভারত, ইওএস-০৫ উৎক্ষেপণ করতে চলেছে ইসরো

EOS-05-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটি একটি নির্দিষ্ট এলাকার উপর দীর্ঘ সময় ধরে নজর রাখতে পারবে। সাধারণ পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ এক জায়গার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ছবি তোলে এবং পরে আবার অনেকক্ষণ পর সেই এলাকায় ফিরে আসে। কিন্তু EOS-05 একই বিস্তীর্ণ এলাকার উপর প্রায় নিয়মিত নজর রাখতে পারবে।

Published on: Sep 3, 2026, 13:10:29 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মহাকাশ থেকে ভারতের বিভিন্ন এলাকার উপর আরও বেশি সময় ধরে নজর রাখতে এবার নতুন উপগ্রহ পাঠাতে চলেছে ইসরো। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ৫৫ মিনিটে শ্রীহরিকোটা থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হবে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ EOS-05। প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় ভূস্থির কক্ষপথে থাকবে এই উপগ্রহ।

মহাকাশ থেকে ভারতের ভূখণ্ডের উপর আরও দীর্ঘক্ষণ নজর রাখার নতুন ক্ষমতা পেতে চলেছে ভারত।  (প্রতীকী ছবি)
মহাকাশ থেকে ভারতের ভূখণ্ডের উপর আরও দীর্ঘক্ষণ নজর রাখার নতুন ক্ষমতা পেতে চলেছে ভারত। (প্রতীকী ছবি)

EOS-05-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটি একটি নির্দিষ্ট এলাকার উপর দীর্ঘ সময় ধরে নজর রাখতে পারবে। সাধারণ পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ এক জায়গার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ছবি তোলে এবং পরে আবার অনেকক্ষণ পর সেই এলাকায় ফিরে আসে। কিন্তু EOS-05 একই বিস্তীর্ণ এলাকার উপর প্রায় নিয়মিত নজর রাখতে পারবে।

ইসরোর মতে, EOS-05-কে GISAT-1A নামেও চিহ্নিত করা হয়েছে। ভূস্থির কক্ষপথ থেকে পৃথিবীর ছবি তোলার ক্ষেত্রে এটি ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই উপগ্রহের সাহায্যে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে সীমান্ত অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর উপর নজর রাখা সহজ হতে পারে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রেও এই উপগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ঝড়, বজ্রপাত, আগুন, বন্যা বা পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তনের মতো ঘটনা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে কোনও ঘটনা কীভাবে শুরু হচ্ছে এবং কীভাবে তার পরিবর্তন হচ্ছে, তা আরও ভালোভাবে বোঝা যেতে পারে।

ভারতের বেশিরভাগ পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ এখন তুলনামূলকভাবে পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে ঘোরে। কার্টোস্যাট এবং রিস্যাট সিরিজের মতো উপগ্রহ নির্দিষ্ট সময় অন্তর কোনও এলাকার ছবি তোলে। তাই কোনও একটি জায়গার পরিবর্তন সবসময় সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় না। EOS-05-এর ক্ষেত্রে এই সমস্যা অনেকটাই কমবে, কারণ এটি একই অঞ্চলের উপর থেকে দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

এই উপগ্রহে রয়েছে দুটি মাল্টিস্পেকট্রাল ক্যামেরা। অর্থাৎ, বিভিন্ন ধরনের আলোর তরঙ্গ ব্যবহার করে পৃথিবীর ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে ক্যামেরাগুলি। এর একটি ক্যামেরার রেজোলিউশন ৪২ মিটার প্রতি পিক্সেল। এর সাহায্যে জমি, জল, কৃষি এবং পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।

EOS-05-এর গুরুত্ব শুধু সাধারণ পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্ত এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কৌশলগত জায়গার উপর নিয়মিত নজর রাখার ক্ষেত্রেও এর তথ্য কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে কোনও এলাকায় হঠাৎ কোনও পরিবর্তন হলে তা দ্রুত নজরে আসার সম্ভাবনা বাড়বে। তবে এটিকে সরাসরি ‘গুপ্তচর উপগ্রহ’ বলা ঠিক হবে না। এটি মূলত পৃথিবী পর্যবেক্ষণের উপগ্রহ, যার তথ্যের বেসামরিক এবং কৌশলগত—দুই ধরনের ব্যবহার হতে পারে।

এই মিশনের সঙ্গে ইসরোর একটি পুরনো ব্যর্থতার স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে। ২০২১ সালের ১২ আগস্ট GSLV-F10 রকেটের মাধ্যমে GISAT-1 উৎক্ষেপণের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিনে সমস্যার কারণে সেই মিশন সফল হয়নি। সফল হলে সেটিই ভারতের প্রথম ভূস্থির কক্ষপথভিত্তিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ হতে পারত।

এবার EOS-05-এর মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করছে ইসরো। পাশাপাশি প্রায় আট মাসের বিরতির পর ফের বড় উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থা। সফল হলে EOS-05 ভারতের মহাকাশভিত্তিক নজরদারি ও পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় নতুন সক্ষমতা যোগ করবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More