Commonwealth Medalist on Kargil War: 'এই জয় কার্গিলের..,' কমনওয়েলথ গেমসে পাকিস্তান-বধ করে শহিদদের শ্রদ্ধার্ঘ্য জাদুমণির

Kargil Vijay Diwas: রবিবার পুরুষদের ৫৫ কেজি বিভাগের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের সুমামা রহমানকে ৫-০ ব্যবধানে হেলায় হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছেন ২২ বছরের মণিপুরি বক্সার।

Published on: Jul 27, 2026, 14:08:56 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Kargil Vijay Diwas: রবিবার দেশজুড়ে পালিত হয়েছে কার্গিল বিজয় দিবস। সালটা ছিল ১৯৯৯। রীতিমতো পরিকল্পনা করে লাদাখের কার্গিল জেলা দখল করেছিল পাকিস্তানি সেনা। এরপরই শুরু হয় লড়াই। যা রূপ নেয় ঐতিহাসিক কার্গিল যুদ্ধের। ২৬ জুলাই আসে সেই ঐতিহাসিক দিন। পাক সেনাকে পরাস্ত করে ভারত। আর সেই কার্গিল বিজয় দিবসে কমনওয়েলথ গেমসে পাকিস্তানকে বক্সিংয়ে পরাস্ত করলেন ভারতের জাদুমণি সিং মান্দেংবাম। রবিবার পাক প্রতিদ্বন্দ্বী সুমামা রেহমানকে রিংয়ের লড়াইয়ে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে জয় উৎসর্গ করলেন কার্গিল বীর সেনাদের।

পাকিস্তান-বধ করে শহিদদের শ্রদ্ধার্ঘ্য জাদুমণি সিং মান্দেংবাম-র (PTI)
পাকিস্তান-বধ করে শহিদদের শ্রদ্ধার্ঘ্য জাদুমণি সিং মান্দেংবাম-র (PTI)

রবিবার পুরুষদের ৫৫ কেজি বিভাগের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের সুমামা রহমানকে ৫-০ ব্যবধানে হেলায় হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছেন ২২ বছরের মণিপুরি বক্সার। একইসঙ্গে গ্লাসগো থেকে দেশের জন্য সোনা আনার অঙ্গীকারও শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়। রবিবার সারা দেশ যখন ২৭তম কার্গিল বিজয় দিবস পালন করছে, তখন স্কটল্যান্ডের মাটিতে ইতিহাস লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জাদুমণি। ১৯৯৯ সালের যুদ্ধে শহিদ জওয়ানদের চরম আত্মত্যাগকে স্মরণ করে গোটা দেশ। ঠিক সেই দিনেই কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে জ্বলে উঠলেন ভারতীয় বক্সার। রিংয়ের ভেতরে পাকিস্তানের সুমামাকে থিতু হওয়ার কোনও সুযোগই দেননি। গোটা বাউট জুড়ে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ। ক্ষিপ্র ফুটওয়ার্ক। নিখুঁত পাঞ্চ। ফলস্বরূপ পাঁচজন বিচারকই সর্বসম্মতভাবে বা আনঅ্যানিমাস ডিসিশনের মাধ্যমে ভারতীয় বক্সারের পক্ষে রায় দেন।

ঐতিহাসিক কার্গিল বিজয় দিবসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের পর ২২ বছর বয়সি ভারতীয় বক্সার বলেন, 'আমি আমার এই জয় কার্গিলের শহিদদের উৎসর্গ করছি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিততে পেরে দারুণ লাগছে। কোয়ার্টার ফাইনালে আরও ভালো পারফর্ম করব। ভারতের জন্য সোনা জয়ই আমার মূল লক্ষ্য।' আগামী মঙ্গলবার শেষ আটের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে রিংয়ে নামবেন তিনি। সেই লড়াই জিততে পারলেই অন্তত একটি ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত। কারণ কমনওয়েলথ গেমসে বক্সিংয়ের নিয়মানুযায়ী সেমিফাইনালে পরাজিত দুই প্রতিযোগীকে ব্রোঞ্জ দেওয়া হয়। গত বছর নয়ডায় আয়োজিত বিশ্ব বক্সিং কাপ ফাইনালে ৫০ কেজি বিভাগে নেমেছিলেন জাদুমণি। সেখানে কড়া লড়াই করে রুপো জিতে নেন। তবে চলতি মরশুমে ওজন বাড়িয়ে ৫৫ কেজি বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই প্রতিশ্রুতিমান তরুণ। গ্লাসগোয় টুর্নামেন্ট জুড়ে এখনও পর্যন্ত তাঁর ফর্ম বেশ আশাব্যঞ্জক। পর পর জোড়া ম্যাচে বিচারকদের সর্বসম্মত রায়ে জয়লাভ। খেলায় শারীরিক শক্তি ও ট্যাকটিকাল বুদ্ধির দুরন্ত মিশেল! ফলে তাঁর হাত ধরে বক্সিংয়ে পদকের জোরালো আশা দেখছে ভারতীয় শিবির।

শুধু বক্সিং নয়। রবিবার গ্লাসগোয় আরও একাধিক ইভেন্টে দুরন্ত সাফল্য পেয়েছে ভারত। বিশেষ করে ভারোত্তোলকদের পারফরম্যান্স নজরকাড়া। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন অলিম্পিক্সে পদকজয়ী তারকা মীরাবাঈ চানু। পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে রুপো ছিনিয়ে নিয়েছেন চানামবাম ঋষিকান্ত সিং। ৬৫ কেজি বিভাগেও এসেছে পদক। সেখানে রুপো জিতেছেন ভারতের ভারোত্তোলক রাজা মুথুপাণ্ডি। এবার বক্সিংয়ে জাদুমণি কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠায় ভারতের পদক তালিকা যে আগামী কয়েক দিনে আরও সমৃদ্ধ হতে চলেছে, সে বিষয়ে চরম আশাবাদী দেশের ক্রীড়ামহল।