Jaishankar on Pak: নদীর জল নিয়ে পাকিস্তানের নাকে কান্নায় দাবড়ানি! ‘খারাপ প্রতিবেশী’ নিয়ে ইসলামাবাদকে পাঠ দিলেন জয়শংকর
ইউনুসের বাংলাদেশ থেকে সদ্য ফেরা জয়শংকর বলেন,'আমাদের বেশিরভাগ প্রতিবেশীই স্বীকার করে যে ভারত যদি বৃদ্ধি পায়, তাহলে তাদের বৃদ্ধিও আমাদের সাথেই হবে।' তাঁর ভাষণেও তাঁর বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার শেষযাত্রায় পৌঁছনর প্রসঙ্গ উঠে আসে।
সদ্য পাকিস্তানের তরফে, ভারতের চেনাব জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বহু বার্তা দেওয়া হয়েছে।পাকিস্তানের বিদেশ দফতরের মুখপাত্র আন্দ্রাবি এই নিয়ে বহু প্রশ্ন তোলেন। তারা IWT প্রসঙ্গ তুলে সুর চড়া করে। এরপর শুক্রবার পাকিস্তানকে ‘খারপ প্রতিবেশী’ নিয়ে কার্যত পাঠ পড়ালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর।

আইআইটি মাদ্রাজের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। সেখানে স্পষ্টভাবে জয়শংকর বলেন,যে দেশ সন্ত্রাসকে সমর্থন করে, আর সহযোগিতা চায়, তার থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে ভারতের। অনুষ্ঠানে জয়শংকর বলেন,' যখন সন্ত্রাসবাদের সাথে জড়িত খারাপ প্রতিবেশীদের কথা আসে, তখন ভারতের তার জনগণকে রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং যা কিছু প্রয়োজন তা করবে। আপনি আমাদের সাথে (একইসঙ্গে) আমাদের জল ভাগ করে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা এবং আমাদের দেশে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করতে পারেন না।'
আইআইটি মাদ্রাজের অনুষ্ঠানে সেখানে জয়শংকর, ভারতের প্রতিবেশী সম্পর্কিত নীতির বিষয়ে বিস্তারিত বলতে গিয়ে বলেন, যে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি 'সাধারণ জ্ঞান' দ্বারা পরিচালিত হয় এক্ষেত্রে, যা সহযোগিতামূলক প্রতিবেশী এবং শত্রু প্রতিবেশীদের মধ্যে স্পষ্টভাবে পার্থক্য করে। জয়শংকর বলেন,' আপনারও খারাপ প্রতিবেশী থাকতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদেরও আছে। যখন আপনার খারাপ প্রতিবেশী থাকে, তখন পশ্চিমের প্রতিবেশীর দিকে তাকান। যদি কোনও দেশ সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে, অবিচলভাবে এবং অনুতপ্ত না হয়ে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাবে, তাহলে আমাদের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জনগণকে রক্ষা করার অধিকার রয়েছে। আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব।' হুঁশিয়ারির সুর চড়া করে জয়শংকর বলেন,' আমরা কীভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করব তা আমাদের উপর নির্ভর করে। কেউ আমাদের বলতে পারে না যে আমাদের কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয়। নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমরা যা কিছু করতে হবে তা করব।'
এদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে নদীর জলবণ্টন প্রসঙ্গে জয়শংকর বলেন,' বহু বছর আগে, আমরা জল বণ্টনের একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলাম, কিন্তু যদি দশকের পর দশক ধরে সন্ত্রাসবাদ থাকে, তাহলে কোনও ভালো প্রতিবেশী মনোভাব থাকে না। যদি কোনও ভালো প্রতিবেশী মনোভাব না থাকে, তাহলে আপনি সেই ভালো প্রতিবেশীর জন্য থাকা সুবিধাগুলি পাবেন না। আপনি বলতে পারবেন না, ‘দয়া করে আমার সাথে জল ভাগাভাগি করুন, কিন্তু আমি আপনার সাথে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাব।’ এটা পুনরায় ঠিকঠাক হওয়ার যোগ্য নয়।' এই অনুষ্ঠানে ‘ভালো প্রতিবেশী’ প্রসঙ্গে শ্রীলঙ্কার কথা তোলেন জয়শংকর। তিনি বলেন,' ভালো প্রতিবেশীদের সাথে, ভারত বিনিয়োগ করে, সাহায্য করে এবং ভাগ করে নেয় — তা সে কোভিডের সময় টিকা হোক, ইউক্রেন সংঘাতের সময় জ্বালানি ও খাদ্য সহায়তা হোক, অথবা শ্রীলঙ্কার আর্থিক সংকটের সময় ৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা হোক।' ইউনুসের বাংলাদেশ থেকে সদ্য ফেরা জয়শংকর বলেন,'আমাদের বেশিরভাগ প্রতিবেশীই স্বীকার করে যে ভারত যদি বৃদ্ধি পায়, তাহলে তাদের বৃদ্ধিও আমাদের সাথেই হবে।' তাঁর ভাষণেও তাঁর বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার শেষযাত্রায় পৌঁছনর প্রসঙ্গ উঠে আসে।
ABOUT THE AUTHORSritama Mitraশ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More
E-Paper


