Jamia Protest: ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি জামিয়া কর্তৃপক্ষের, আন্দোলন প্রত্যাহারে অনড় শিক্ষার্থীরা

Jamia Millia Islamia Protest: সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ জামিয়ার রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মহ. মাহতাব আলম রিজভী ক্যাম্পাসে আসেন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশটি তাদের সামনে তুলে ধরেন এবং আন্দোলন প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, তাদের দাবিগুলো পূরণ করা হয়েছে।

Published on: Oct 26, 2026, 11:37:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Jamia Millia Islamia Protest: রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় (Jamia Millia Islamia) ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে, ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদিত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি, আন্দোলন চলাকালীন পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে জারি করা শো-কজ ও বরখাস্তের নোটিশ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংবিধান অনুমোদন ও নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকা এবং অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় একাংশ ছাত্রের অসন্তোষ রয়েই গিয়েছে।

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় কর্তৃপক্ষের, আন্দোলন প্রত্যাহারে অনড় শিক্ষার্থীরা (Hindustan Times)
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় কর্তৃপক্ষের, আন্দোলন প্রত্যাহারে অনড় শিক্ষার্থীরা (Hindustan Times)

ছাত্র সংসদের নির্বাচনের দাবিতে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভর চলছে। রবিবার গভীর রাতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা সম্বলিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করে বিক্ষোভকারীদের একাংশ। তবে কিছু শিক্ষার্থী এই সমঝোতার শর্তাবলীতে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবশ্যই তাদের দাবিগুলো সমাধানের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ দিতে হবে এবং যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে কয়েক দিন ধরে চলা আন্দোলনের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আয়োজনে সম্মত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। যদিও কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলন প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, তবে ভিন্নমত পোষণকারী গোষ্ঠী প্রশ্ন তুলেছে যে, প্রশাসনের দেওয়া লিখিত প্রতিশ্রুতি তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে আদৌ সমাধান করবে কিনা তা নিয়ে।

একটি ছাত্র সংগঠনের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ জামিয়ার রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মহ. মাহতাব আলম রিজভী ক্যাম্পাসে আসেন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশটি তাদের সামনে তুলে ধরেন এবং আন্দোলন প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, তাদের দাবিগুলো পূরণ করা হয়েছে। এই আদেশে ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র অনুমোদনের ১৫ দিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জারি করা সাসপেনশন ও কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ নোটিশ) প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি, আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা কর্মীদের আচরণ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। তবে, এই প্রত্যাহারের বিরোধিতা করা শিক্ষার্থীরা সংবিধান অনুমোদনের জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগের বিষয়ে তাদের দাবি পূরণ করা হয়নি। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তাঁদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।

প্রতিবাদের কারণ কী?

২০০৬ সালের পর থেকে জামিয়ায় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ পুনরুদ্ধার, পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে জারি করা সাসপেনশন ও শোকজ নোটিস প্রত্যাহার এবং আন্দোলনের সময় নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবিতে ১২ অক্টোবর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। ধর্নার পাশাপাশি অনশনেও বসেন কয়েক জন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলোচনার জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করলেও প্রথম দিকে অচলাবস্থা কাটেনি। ২৪ অক্টোবর আন্দোলনকারী পড়ুয়া ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে আসার পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ওই দিন থেকেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।