Jammu And Kashmir Love Infiltration: প্রেমের টানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে, দুই মাস পর পাক যুবককে ফিরিয়ে দিল ভারতীয় সেনা
নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছিলেন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ২২ বছরের যুবক জিশান মির। প্রায় দুই মাস ভারতে থাকার পর শনিবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান সেনার হাতে তুলে দিল ভারতীয় সেনা।
প্রেম, পারিবারিক টানাপোড়েন আর পূর্বপুরুষের ভিটের টান—এই তিনের টানেই নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছিলেন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওজেকে) ২২ বছরের যুবক জিশান মির। প্রায় দুই মাস ভারতে থাকার পর শনিবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান সেনার হাতে তুলে দিল ভারতীয় সেনা। শ্রীনগর-ভিত্তিক চিনার কোর জানিয়েছে, গত ৩১ মে উরি সেক্টর দিয়ে এলওসি পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় জিশান মিরকে আটক করা হয়েছিল। শনিবার দুপুরে কুপওয়ারার অমন সেতুতে তাঁকে পাকিস্তান সেনার প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জিশান দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক আর্থিক চাপে ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উপার্জন করে সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটে বারামুলার তুলওয়ারি গ্রামের বাসিন্দা ইরম বানোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গভীর সম্পর্কে পরিণত হয়।
কথা বলতে বলতেই দু'জন জানতে পারেন, জিশানের পূর্বপুরুষদের বাড়িও ছিল তুলওয়ারি গ্রামেই। এরপরই ভারতে এসে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। তদন্তকারীদের দাবি, পরিকল্পনা ছিল জিশান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে সরাসরি সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের জন্য যে আইনি সাজা রয়েছে, তা ভোগ করার পর তিনি পূর্বপুরুষদের সম্পত্তির দাবি জানাবেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করবেন।
তবে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। সীমান্ত পার হওয়ার পরই ভারতীয় সেনা তাঁকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় জিশান তাঁর উদ্দেশ্যের কথা জানান। এরপর ইরম বানোকেও ডেকে পাঠানো হয়। তিনি জিশানের বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান, যেন জিশানকে ভারতে থাকতে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে। এই ঘটনার সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠন, গুপ্তচরবৃত্তি বা অন্য কোনও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দিক জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাঁকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভারতীয় সেনা জানিয়েছে, ভারতে থাকার সময় জিশানের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হয়েছে। তাঁকে প্রয়োজনীয় যত্ন ও সম্মানের সঙ্গে রাখা হয়েছিল। সেনার বক্তব্য, এই পদক্ষেপ তাদের মানবিক মূল্যবোধ এবং পেশাদারিত্বেরই প্রতিফলন। জিশানের গল্প যেন সীমান্তের কাঁটাতারের ওপার-এপারের এক অন্য বাস্তবতার ছবি তুলে ধরে। সামাজিক মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, পূর্বপুরুষের ভিটের টান এবং ভালো ভবিষ্যতের আশায় তিনি সীমান্ত পেরিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ না হয়ে তাঁকে ফিরতে হল নিজের দেশেই।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


