Jammu & Kashmir New Barrage Project: পাকিস্তানকে নয়া ধাক্কা দেওয়ার প্রস্তুতি ভারতের, ৪ দশক পর কাজ শুরু এই প্রকল্পে
উলার ব্যারেজ প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ঝিলাম নদীর জলের প্রবাহ সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা। সিন্ধু জল চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার এবং জম্মু ও কাশ্মীর সরকার এই প্রকল্পটি স্থগিত রেখেছিল বিগত ৪ দশক ধরে। তবে এবার ওমর আবদুল্লাহ সরকার এই প্রকল্পটিকে পুনরায় চালু করতে চলেছে।
২০২৫ সালে পহেলগাঁও জঙ্গি হানার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর ফলে ভারত সিন্ধু দল বণ্টন চুক্তি বাতিল করেছিল। অপারেশন সিঁদুরের পরও সেই চুক্তি আর কার্যকর করা হয়নি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই নিয়ে অনেক কাকুতি মিনতি, আবেদন এসেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার পরিষ্কার করে বলেছে, এই সিন্ধু চুক্তিটি শান্তির জন্য ছিল, পাকিস্তান যদি শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে না চায় তবে এই চুক্তি থাকবে না। এখন এই আবহে জম্মু ও কাশ্মীর সরকার চার দশক ধরে বন্ধ থাকা উলার ব্যারেজ প্রকল্পটি পুনরায় শুরু করতে চলেছে।
উলার ব্যারেজ প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ঝিলাম নদীর জলের প্রবাহ সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা। (PTI)
এই উলার ব্যারেজ প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ঝিলাম নদীর জলের প্রবাহ সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা। সিন্ধু জল চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার এবং জম্মু ও কাশ্মীর সরকার এই প্রকল্পটি স্থগিত রেখেছিল বিগত ৪ দশক ধরে। তবে এবার ওমর আবদুল্লাহ সরকার এই প্রকল্পটিকে পুনরায় চালু করতে চলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে এই প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করবে। এই ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শীতকালে ঝিলান নদীর জলের প্রবাহ কমে যায়, যার কারণে উলারের বেশিরভাগ অংশ শুকিয়ে যায়। বান্দিপোরা থেকে সোপোর পর্যন্ত শত শত মানুষ এই হ্রদে মাছ ধরেন। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বিধানসভায় সম্প্রতি বলেছেন যে তাঁর সরকার ঝিলামের তুলবুল প্রকল্পে (উলার ব্যারেজ) কেন্দ্রের সাথে কাজ করছে। এছাড়া আখনুরের চেনাব নদী থেকে জম্মু শহরে জল সরবরাহের জন্যেও একটি প্রকল্পে কেন্দ্র এবং জম্মু ও কাশ্মীর সরকার কাজ করছে। এই উলার ব্যারেজ প্রকল্পটি আগে এশিয়ান ব্যাঙ্কের অর্থায়নে হওয়ার কথা ছিল। তবে সিন্ধু চুক্তির কারণে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
উল্লেখ্য, ভারত সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করার পর থেকেই পাকিস্তানের থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাক সেনা প্রধান আসিম মুনির নিজে বলেছেন, ভারত যদি জল বন্ধ করে দেয় তাহলে যুদ্ধ হবে এবং ভারতের বাঁধগুলি নাকি মিসাইল মেরে ধ্বংস করে দেবে পাকিস্তান। যদিও এই সব শুকনো হুমকিতে নিজেদের অবস্থান বদল করেনি ভারত। এর আগে সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে পদক্ষেপ করে ভারত। জম্মু ও কাশ্মীরের চন্দ্রভাগা নদীর উপর ১,৮৫৬ মেগাওয়াটের এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মিত হবে রামবন জেলার সিধু গ্রামের কাছে। সাওয়ালকোট ছাড়াও রয়েছে ১৩২০ মেগাওয়াটের কিরঠাই ওয়ান, ১০০০ মেগাওয়াটের পাকাল ডাল এবং ২২২৪ মেগাওয়াটের আরও তিনটি প্রকল্প নিয়েও এগোবে ভারত।