Jamui Groping Case: জামুই কাণ্ডে চাঞ্চল্য, নাবালিকার নিগ্রহে ধৃত নন্দনের বাবা ২৩ বছরের পুরনো জোড়া খুনের মামলায় গ্রেফতার
জামুইয়ের সাম্প্রতিক ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত নন্দন যাদবকে গ্রেফতারের পর তাঁর অতীত খতিয়ে দেখতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, তাঁর বাবা গণোরি যাদব ২০০৩ সালের একটি জোড়া খুনের মামলায় দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক।
Jamui Groping Case Update: এক নাবালিকাকে হেনস্থার অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের হাতে উঠে এল ২৩ বছরের পুরনো খুনের মামলা! জামুইয়ের সাম্প্রতিক ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত নন্দন যাদবকে গ্রেফতারের পর তাঁর অতীত খতিয়ে দেখতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, তাঁর বাবা গণোরি যাদব ২০০৩ সালের একটি জোড়া খুনের মামলায় দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক। শেষ পর্যন্ত তাঁকেও গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত জামুইয়ে এক কিশোরীকে রাস্তার মধ্যে হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে। গত ১৯ সেপ্টেম্বরের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, কোচিং থেকে বাড়ি ফেরার পথে দশম শ্রেণির দুই পড়ুয়াকে একদল যুবক রাস্তায় আটকাচ্ছে। অভিযোগ, কিশোরটিকে মারধর করার পাশাপাশি তাঁর নাবালিকা বন্ধুকে টানাহেঁচড়া ও শারীরিক ভাবে হেনস্থা করা হয়। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পরেই ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।
এই ঘটনায় পুলিশ একের পর এক অভিযুক্তকে ধরতে শুরু করে। এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও দু’জন নাবালককে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মূল অভিযুক্ত নন্দনকে গ্রেফতারের পর তদন্ত আরও অন্য দিকে মোড় নেয়। পুলিশ তাঁর পূর্বের অপরাধের রেকর্ড যাচাই করতে গিয়ে তাঁর বাবা গণোরির নাম খুঁজে পায়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যও খতিয়ে দেখা হয়। তার পরই ২০০৩ সালের মামলাটির পুরনো নথি নতুন করে সামনে আসে।
পুলিশের দাবি, ২০০৩ সালের ৩ এপ্রিল প্রতাপপুর গ্রামে ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে ডি পি যাদব এবং পুনে যাদব নামে দুই ব্যক্তিকে খুন করা হয়। নিহতদের মায়ের অভিযোগে গণোরি যাদবের নামও অভিযুক্ত হিসাবে উঠে এসেছিল। তার পর থেকেই তিনি পুলিশের নজর এড়িয়ে চলছিলেন। প্রায় ২৩ বছর পর জামুইয়ের সাম্প্রতিক মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই তাঁর হদিস মেলে। গ্রেফতারের পর তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
এ দিকে নন্দনকে গ্রেফতারের পর আরও নাটকীয় ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় সংঘর্ষে তাঁর পায়ে গুলি লাগে। পুলিশের বক্তব্য, নন্দন পালানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং গুলি চালিয়েছিলেন; আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর জামুইয়ে নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় কয়েক জনের দাবি, ওই এলাকায় বাইরে থেকে কিছু অসামাজিক লোকজন নিয়মিত জড়ো হত এবং মহিলাদের হেনস্থা করার অভিযোগও ছিল। একই সঙ্গে আদালতে হাজিরার সময় মামলার আর এক অভিযুক্ত হরিরাম যাদবকে এক আইনজীবী চড় মারেন। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাটি জামুইয়ের বদনাম করেছে বলেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওই কাজ করেছেন।
এরই মধ্যে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, নাবালিকা ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। তাঁর পরিচয় ফাঁস করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ফলে একটি সাম্প্রতিক হেনস্থার মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পুরনো খুনের মামলার অভিযুক্তের গ্রেফতারি—জামুইয়ের এই ঘটনা নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


