Jamuka bill passed: বিপাকে বাংলাদেশের কট্টরপন্থী দল! পাক বাহিনীর সহযোগী জামাত, সংসদে পাস জামুকা বিল

Jamuka bill passed: বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমদ আজম খান ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন বিল, ২০২৬’ অবিলম্বে পাসের জন্য উত্থাপন করেন।

Published on: Apr 10, 2026 7:22 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Jamuka bill passed: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের কট্টর ইসলামপন্থী দল জামাতে ইসলামী-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর নাম বহাল রেখেই জাতীয় সংসদে 'জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬' পাস হয়েছে। বাংলাদেশে সংশোধিত এই আইনে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামাতে ইসলামী এবং নেজামে ইসলামকে সেই সময়ের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু সংসদে এতে বিরোধী দলনেতা ও জামাতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান আপত্তি তুললেও জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) লিখিতভাবে স্পিকারকে জানিয়েছে, বিলটি নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই। ফলে অস্বস্তির মধ্যে পড়েছে জামাতে ইসলামী।

বাংলাদেশ সংসদে পাস জামুকা বিল (AP Photo/Anupam Nath)
বাংলাদেশ সংসদে পাস জামুকা বিল (AP Photo/Anupam Nath)

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমদ আজম খান ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন বিল, ২০২৬’ অবিলম্বে পাসের জন্য উত্থাপন করেন। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। যদিও বিলটি পাসের সময় সংসদে কিছুটা বিতর্ক ও নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। সংসদে আপত্তি জানানোর সুযোগ পেয়ে বিরোধী দলনেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। তবে তিনি বিলের নির্দিষ্ট কোনও ধারায় সংশোধনী প্রস্তাব তোলেননি। তবে তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি-র পক্ষ থেকে এই বিলের ওপর কোনও আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে জানানো হয়। সংসদের নজরে আনতেও অনুরোধ করেছে। এরপর মন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন এবং অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব দেন এবং কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়। পরে সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে বিলটি পাস হয়।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২-এর বিদ্যমান সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, 'যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় সহযোগী-রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামাতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন-এমন সব বেসামরিক নাগরিক, যাদের বয়স ওই সময়ে সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন সীমার মধ্যে ছিল; তারা 'বীর মুক্তিযোদ্ধা' হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।' এদিকে, সংজ্ঞা নিয়ে আপত্তি তুলে বিরোধী দলনেতা বলেন, 'মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামাতে ইসলামী, নেজামে ইসলামের নাম স্বাধীনতার পরে তখনকার শাসকও আনেননি। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও আনেননি। তিনবারের অতি সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) তিনিও আনেননি। এ জিনিসটা সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ফ্যাসিস্টের বিকৃত একজন প্রতিভূ শেখ হাসিনা এবং পরবর্তী পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকার তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে সামান্য পরিবর্তন-সহ।'

তিনি আরও বলেন, 'কী আছে এখানে? তৎকালীন তিনটি সংগঠনের নাম নেওয়া হয়েছে-তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামাতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম পার্টি। পাক সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরও কিছু অক্সিলারি ফোর্সের সঙ্গে তিনটি রাজনৈতিক দলের নাম এসেছে এবং বর্তমান উপস্থাপনায় বা প্রস্তাবনায় তৎকালীন এই তিন সংগঠনের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ ভালো জানেন, একাত্তরের ওই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল, আল্লাহ তাআলা তার নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ একমাত্র সাক্ষী। আমরা যারা আছি তারা আংশিক সাক্ষী। আমরা চাই প্রিয় বাংলাদেশ রাজনীতির সুস্থ ধারায় জনগণের প্রতি দায় এবং দরদ নিয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে এই দেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক সংগঠন তার কার্যক্রম পরিচালনা করুক।'