Jantar Mantar CJP Protest: যন্তর মন্তরে অনুপ্রবেশ, CJP-র ২ নেতাকে ৫ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হল!

মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের বন্ধ ফটক টপকে ভিতরে ঢোকার অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। বুধবার বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হলে তাঁদের পাঁচ দিনের হেফাজতে পাঠানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজধানীতে।

Published on: Oct 14, 2026, 09:42:59 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

দিল্লির যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল পুলিশ। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল আদালত। মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের বন্ধ ফটক টপকে ভিতরে ঢোকার অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। বুধবার বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হলে তাঁদের পাঁচ দিনের হেফাজতে পাঠানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজধানীতে। অন্য দিকে, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, জাতীয় পতাকা তোলাই কি তাঁদের অপরাধ?

সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল আদালত (@abhijeet_dipke)
সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল আদালত (@abhijeet_dipke)

বন্ধ ফটক টপকে ভিতরে ঢোকার অভিযোগ

মঙ্গলবার সকালে সৌরভ ও আশুতোষের সঙ্গে দলের জাতীয় সংগঠন বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্ক্য শিন্ডে-সহ আরও কয়েক জন যন্তর মন্তরে পৌঁছন। অভিযোগ, বিক্ষোভস্থল হিসাবে যন্তর মন্তরের সরকারি স্বীকৃতি প্রত্যাহার করার পরেও তাঁরা সেখানে ঢোকার চেষ্টা করেন। বন্ধ ফটক টপকে ভিতরে প্রবেশ করেন কয়েক জন। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকর্মীরা তাঁদের বাধা দেন এবং আটক করেন।

সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন আশুতোষ। তাতে দেখা যায়, সৌরভ, আশুতোষ এবং অজিঙ্ক্য বন্ধ ফটক টপকে ভিতরে ঢুকছেন। তাঁদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। সেখানে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়। পুলিশের বক্তব্য, অনুমতি ছাড়া এলাকায় প্রবেশ করায় তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে।

কেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ?

সিজেপি-র এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে তারা।

যদিও নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা রাজনৈতিক অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া। অন্য দিকে, বিরোধী দল এবং আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে যোগ্য ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ চলছে।

কী বললেন অভিজিৎ দিপকে?

দলের দুই নেতাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পরেই সমাজমাধ্যমে সরব হন সি জে পি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ। তাঁর বক্তব্য, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা তোলার জন্যই সৌরভ ও আশুতোষকে জেলে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে তিনি বলেন, বিরোধী মত দমন করার চেষ্টা না করে সরকার চাইলে সরাসরি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুক।

অভিজিতের দাবি, যন্তর মন্তরকে সরকারি বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিলেও প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। তবে এই ঘটনার বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।

যন্তর মন্তর নিয়ে নতুন বিতর্ক

দিল্লি পুলিশ সম্প্রতি যন্তর মন্তরকে সরকারি বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বিকল্প হিসাবে তিনটি জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু সি জে পি-র মতো আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির আপত্তি, দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রতিবাদস্থল বন্ধ করে দেওয়ায় আন্দোলন করা কঠিন হয়ে পড়বে। অন্য দিকে, প্রশাসনের যুক্তি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিক্ষোভের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকা প্রয়োজন।

ফলে এক দিকে ভোটার তালিকা নিয়ে আন্দোলন, অন্য দিকে বিক্ষোভের জায়গা নির্ধারণ নিয়ে সংঘাত—দুইয়ের জেরে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। সৌরভ ও আশুতোষের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ সেই বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিল। এখন নজর, তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয় এবং যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাত কোন দিকে এগোয়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More