Jantar Mantar CJP Protest Food Order: যন্তর মন্তরে খাবার পাঠাচ্ছে কে? আস্তাকুঁড় থেকে প্যাকেট কুড়িয়ে তদন্তে পুলিশ

গত কয়েক দিনের খাবারের অর্ডার ও ডেলিভারির তথ্য খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় যাচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। কোথাও কোথাও দোকানের মালিকদের কাছ থেকে বিনামূল্যে দেওয়া খাবার এবং টাকার বিনিময়ে দেওয়া অর্ডারের আলাদা তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

Published on: Jul 25, 2026, 10:58:48 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Jantar Mantar CJP Protest Food Order: দিল্লির জন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনের মধ্যে এবার খাবার সরবরাহ নিয়েও সক্রিয় হয়েছে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ, আন্দোলনস্থলে বড় পরিমাণে খাবার ও পানীয় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই কোন কোন ক্যাফে, রেস্তোরাঁ বা খাবারের দোকান থেকে এই সরবরাহ করা হচ্ছে, তা খুঁজে বের করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। এমনকি আন্দোলনস্থলে পড়ে থাকা খালি খাবারের প্যাকেট ও র‍্যাপার থেকেই বিভিন্ন দোকানের সন্ধান মিলছে বলে জানা গিয়েছে।

গত কয়েক দিনের খাবারের অর্ডার ও ডেলিভারির তথ্য খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় যাচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। (Hindustan Times)
গত কয়েক দিনের খাবারের অর্ডার ও ডেলিভারির তথ্য খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় যাচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। (Hindustan Times)

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনের খাবারের অর্ডার ও ডেলিভারির তথ্য খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় যাচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। কোথাও কোথাও দোকানের মালিকদের কাছ থেকে বিনামূল্যে দেওয়া খাবার এবং টাকার বিনিময়ে দেওয়া অর্ডারের আলাদা তথ্যও চাওয়া হয়েছে। কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, তাঁদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।

দক্ষিণ দিল্লির এক রেস্তোরাঁ মালিক জানিয়েছেন, গত তিন দিন ধরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০০টি খাবারের প্যাকেট জন্তর মন্তরে পাঠানো হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার পুলিশ তাঁদের দোকানে গিয়ে জানতে চায়, কারা এই অর্ডার দিয়েছিল এবং কীভাবে খাবার পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, আন্দোলনস্থলে পড়ে থাকা খাবারের প্যাকেট থেকেই ওই রেস্তোরাঁর পরিচয় জানা যায়।

ওই ব্যবসায়ীর দাবি, থানায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে জানানো হয়, আন্দোলনের ভিড়ে কিছু অসামাজিক ব্যক্তি রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে সেখানে আর খাবার না পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। যদিও এই বিষয়ে দিল্লি পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে, অনলাইন খাবার সরবরাহকারী সংস্থা সুইগি ও জোম্যাটোর মাধ্যমে দেওয়া বড় অর্ডারের উপরও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পুলিশ নাকি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছে, একসঙ্গে বড় সংখ্যায় খাবারের অর্ডার এলে তা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা উচিত। তবে এই নির্দেশ বাধ্যতামূলক কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও সরকারি নির্দেশ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

জন্তর মন্তরের আশপাশের কয়েকটি স্থানীয় ক্যাফে আন্দোলনকারীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার, জল এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা করার কথা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিল। কিন্তু পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর অনেকেই সেই পোস্ট মুছে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও অনেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার, পানীয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাচ্ছেন। রেস্তোরাঁ শিল্পের একাংশের মতে, খাবার সরবরাহের উপর নজরদারি আন্দোলনের গতি কমানোর একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। এর আগে ইন্টারনেট পরিষেবায় বিঘ্ন এবং কিছু এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধের ঘটনাও সামনে এসেছিল।

তবে ফুড ডেলিভারি পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে যে গুজব ছড়িয়েছে, তা স্পষ্টভাবে খারিজ করেছে দিল্লি পুলিশ। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে একটি পরামর্শ জারি করে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ যেন নিষিদ্ধ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত না করেন। পাশাপাশি ফুড ডেলিভারি, ক্যাব এবং ই-কমার্স সংস্থাগুলিকে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিষেবা পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের দাবি, ফুড ডেলিভারি অ্যাপের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। এই ধরনের খবর সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। তবে আন্দোলনস্থলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে বড় অর্ডার ও সরবরাহের বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে। ফলে আন্দোলন ঘিরে খাবার সরবরাহ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More