যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লি জুড়ে কড়া পাহারা! পথে ৪০০০০ নিরাপত্তাকর্মী, বন্ধ মেট্রো, ইন্টারনেট

শুধু রাস্তা নয়, যাতায়াত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও একাধিক বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। প্রথমে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ রাখার কথা জানানো হলেও পরে সেই তালিকা কমিয়ে ৪৫টি করা হয়।

Published on: Oct 10, 2026, 08:27:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক। আর তার আগেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হল দেশের রাজধানী দিল্লিকে। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি। বিক্ষোভ ঘিরে অশান্তির আশঙ্কায় দিল্লি জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ৪০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধাসেনা। বন্ধ একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ। মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জুড়ে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছতে বাধা দেওয়াই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। (Vishal Kapoor)
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। (Vishal Kapoor)

শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। সংসদ মার্গ, যন্তর মন্তরে যাওয়ার রাস্তা এবং কনট প্লেসের আশপাশে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড। পুলিশ ও আধাসেনার পাশাপাশি রাখা হয়েছে দাঙ্গা মোকাবিলার গাড়ি এবং পুলিশ ভ্যান। নতুন দিল্লি জেলাকে ২০টি নিরাপত্তা অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা যাতে কোনও ভাবে নিষিদ্ধ এলাকায় ঢুকতে না পারেন, সে জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে ৩৭টি প্রবেশপথ। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভের জেরে যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয়, সেই কারণেই এই ব্যবস্থা।

শুধু রাস্তা নয়, যাতায়াত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও একাধিক বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। প্রথমে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ রাখার কথা জানানো হলেও পরে সেই তালিকা কমিয়ে ৪৫টি করা হয়। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত জনপথ ও কর্তব্য পথের সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার বাসিন্দা এবং যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

যানজটের আশঙ্কায় দিল্লির একাধিক রাস্তায় যান চলাচলের পথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শনিবার সকাল ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছনোর কথা ছিল, এমন কিছু মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনও বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই বিক্ষোভ?

নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপত্তি রয়েছে বিক্ষোভকারীদের। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে সিজেপি। যদিও এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

দিল্লি পুলিশ অবশ্য এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পুলিশের বক্তব্য, আগের বিক্ষোভগুলিতে হিংসা এবং বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছিল। গত জুলাই মাসে বিক্ষোভ সামলাতে গিয়ে ২০০-রও বেশি পুলিশকর্মী আহত হয়েছিলেন বলে দাবি প্রশাসনের। পুলিশ আরও জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে একসঙ্গে প্রায় এক হাজার মানুষ নিরাপদে জমায়েত করতে পারেন। ফলে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী সেখানে জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তবে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রশাসনের বিধিনিষেধের মধ্যেও তাঁরা কর্মসূচি পালনে অনড়। ফলে এক দিকে কড়া নিরাপত্তা, অন্য দিকে বিক্ষোভের প্রস্তুতি, সব মিলিয়ে শনিবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজধানীতে। এখন নজর, শেষ পর্যন্ত যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীরা জমায়েত করতে পারেন কি না এবং পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে দিল্লি পুলিশ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More