উত্তাল ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে নয়া মোড়, প্রশ্নফাঁস নিয়ে আলোচনায় রাজি হেমন্ত সরকার

গত ৫ জুলাই ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ১৪তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না এবং একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচিতে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা।

Published on: Aug 6, 2026, 10:11:56 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সরকারি চাকরির নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন। টানা ১২ দিন ধরে রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। প্রথমে সীমিত পরিসরে শুরু হলেও এখন সেই আন্দোলন গণআন্দোলনের চেহারা নিয়েছে। চাপের মুখে অবশেষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে হেমন্ত সোরেন সরকার। যদিও ছাত্রদের স্পষ্ট দাবি, কোনও রুদ্ধদ্বার বৈঠক নয়, সমস্ত আলোচনা হতে হবে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে এবং প্রকাশ্যে।

অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার গুরপ্রীত সিং ভুল্লর জানান, ধৃতদের মধ্যে একটি মডিউলকে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা ছাত্র আন্দোলনের সময় সেখানে পাঠানো হয়েছিল। (REUTERS)
অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার গুরপ্রীত সিং ভুল্লর জানান, ধৃতদের মধ্যে একটি মডিউলকে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা ছাত্র আন্দোলনের সময় সেখানে পাঠানো হয়েছিল। (REUTERS)

গত ৫ জুলাই ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) ১৪তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না এবং একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচিতে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। সময়ের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শত শত ছাত্র-ছাত্রী।

আন্দোলনের জেরে বুধবার বিক্ষোভস্থলে যান রাঁচির মহকুমাশাসক কুমার রজত। তিনি আন্দোলনকারীদের জানান, সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চায়। এজন্য পাঁচ থেকে সাত জনের একটি প্রতিনিধি দল গঠনের আবেদনও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগগুলির তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

কিন্তু সরকারের এই প্রস্তাবে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, কোনও গোপন বৈঠক হবে না। আলোচনার পুরো প্রক্রিয়াই হতে হবে সংবাদমাধ্যমের সামনে এবং ক্যামেরার উপস্থিতিতে। তবেই সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তাঁরা।

আন্দোলনের অন্যতম নেতা দেবেন্দ্র মাহাতো, যিনি গত পাঁচ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন, জানিয়েছেন যে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল গঠন করা হবে। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন এবং অবস্থান বিক্ষোভ চলবে।

এদিকে ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ডের ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন জানাতে দলের সদস্যরা রাঁচিতে যাবেন। তাঁর দাবি, শুধু নিয়োগে স্বচ্ছতার প্রশ্ন নয়, বিচারব্যবস্থা, রাজনীতি, সংবাদমাধ্যম এবং নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও এই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

এই ইস্যুতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেন, ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেস-সমর্থিত সরকার থাকায় ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে রাহুল গান্ধী কোনও মন্তব্য করছেন না। তাঁর প্রশ্ন, আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে এখনও কেন কথা বলেননি রাহুল গান্ধী বা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন?

অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী ইরফান আনসারি জানিয়েছেন, সরকার ইতিমধ্যেই আলোচনার পথ খুলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী একটি কমিটিও গঠন করেছেন। ছাত্রদের দাবিগুলি যুক্তিসঙ্গত হলে সরকার তা বিবেচনা করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে, নিয়োগে স্বচ্ছতার দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ঝাড়খণ্ডের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। সরকার আলোচনায় রাজি হলেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের অবস্থানে অনড়। ফলে আলোচনার টেবিলে আদৌ সমাধানের পথ বেরোয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More