হেমন্ত সোরেনের বাড়ি ঘেরাওয়ের ডাক ঝাড়খণ্ডের প্রতিবাদী ছাত্রদের, সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করতে বলা হল রাহুল গান্ধীকে

আন্দোলনে থাকা জেএলকেএম নেতা দেবেন্দ্র মাহতোকে নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি ১৪ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন। অভিযোগ, তাঁকে মিছিলের অংশ নিতে সদর হাসপাতাল থেকে বেরোতে বাধা দেয় পুলিশ। তাঁকে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

Published on: Aug 16, 2026, 10:08:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Jharkhand Student Protest Latest Update: ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ছাত্রদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। শনিবার স্বাধীনতা দিবসে আন্দোলনকারীরা রাঁচিতে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ করেন। একই সঙ্গে আগামী ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকারি বাসভবন ঘেরাও করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।

ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ছাত্রদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। (Somnath Sen)
ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ছাত্রদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। (Somnath Sen)

শনিবার ছিল আন্দোলনের ২২তম দিন। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়াম থেকে তিরঙ্গা যাত্রা শুরু হয়। মিছিল শেষ হয় আলবার্ট এক্কা চকে। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে পথে স্লোগান দেন ছাত্ররা। ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জেএমএম-কংগ্রেস জোট সরকার তাঁদের দাবিতে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করছে না। তাঁদের দাবি, যে সব নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।

জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বিকল্প হিসেবে ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে জেএসএসসি-সিজিএল এবং কিছু জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।

মঞ্চের নেতা রবীন্দ্র পাসোয়ান জানিয়েছেন, ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করা হবে। তাঁর অভিযোগ, জেএমএম এবং কংগ্রেস তাঁদের নিয়ে রাজনীতি করছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ছাত্রদের পাশে থাকার কথা বললেও বাস্তবে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি বলেও অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। তাঁদের আরও দাবি, সরকার যদি বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ না করে, তবে কংগ্রেসকে জেএমএম-নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান চালিয়ে যাবেন।

এদিকে, আন্দোলনে থাকা জেএলকেএম নেতা দেবেন্দ্র মাহতোকে নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি ১৪ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন। অভিযোগ, তাঁকে মিছিলের অংশ নিতে সদর হাসপাতাল থেকে বেরোতে বাধা দেয় পুলিশ। তাঁকে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বিজেপি বিধায়ক এবং ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেনও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন। তিনি হেমন্ত সোরেন সরকারকে ‘স্বৈরাচারী সরকার’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর প্রশ্ন, সরকার যদি কোনও দুর্নীতিতে যুক্ত না থাকে, তাহলে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করতে সমস্যা কোথায়?

তবে আন্দোলনের মধ্যেই সরকার কিছু পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে হেমন্ত সোরেন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্ন ওঠায় চাকরিপ্রার্থীদের একটি প্রজন্মের বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা হবে। দোষী প্রমাণিত হলে প্রভাব বা পদমর্যাদা না দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী একই সঙ্গে বলেন, প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী বলা উচিত নয়। ভবিষ্যতে পরীক্ষায় কারচুপি ঠেকাতে ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন। নির্দিষ্ট বার্ষিক পরীক্ষা ক্যালেন্ডার, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, সময়মতো উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট প্রকাশ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক স্তরে জবাবদিহির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তবে ছাত্ররা স্পষ্ট করেছে, শুধু কয়েকটি পরীক্ষা নয়। পুরো নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই তাঁদের মূল দাবি। সেই কারণেই ২০ আগস্টের ঘেরাও কর্মসূচিকে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More