Jude Bellingham: ১০০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে জোড়া গোল! জুড বেলিংহ্যামের অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড, নাম এলিট তালিকায়
Jude Bellingham World Cup record: বিশ্বকাপের মঞ্চে মাত্র ১০০ সেকেন্ডের কম সময়ের ব্যবধানে জোড়া গোল (Brace) করার এক অবিশ্বাস্য নজির গড়েছেন তিনি। ফুটবল বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে বেলিংহ্যামের আগে মাত্র একজন ফুটবলার এই অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন।
Fastest brace in World Cup history: বিশ্ব ফুটবলের মেগা মঞ্চে প্রতিনিয়ত তৈরি হয় নতুন নতুন রেকর্ড, আবার অনেক পুরনো রেকর্ড ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। কিন্তু কিছু রেকর্ড এমন থাকে যা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে যায়। ইংল্যান্ডের তরুণ তুর্কি এবং রিয়াল মাদ্রিদের মহাতারকা জুড বেলিংহ্যাম (Jude Bellingham) ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক কীর্তি গড়েছেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে মাত্র ১০০ সেকেন্ডের কম সময়ের ব্যবধানে জোড়া গোল (Brace) করার এক অবিশ্বাস্য নজির গড়েছেন তিনি। ফুটবল বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে বেলিংহ্যামের আগে মাত্র একজন ফুটবলার এই অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন। এবার সেই এলিট গ্রুপ বা অভিজাত তালিকায় দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম লেখালেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।
ফুটবল বিশ্বকাপে প্রতি সেকেন্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। সেখানে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যেতে এক মুহূর্তই যথেষ্ট। কিন্তু কোনো ফুটবলার যদি ম্যাচের এত বড় মঞ্চে চোখের পলকে পর পর দুটি গোল করে বসেন, তবে তা রূপকথার চেয়ে কম কিছু নয়। জুড বেলিংহ্যাম ঠিক এই কাজটিই করে দেখিয়েছেন।
ম্যাচের সেই রোমাঞ্চকর ১০০ সেকেন্ডের ঝড়
ম্যাচের প্রথমার্ধ বা দ্বিতীয়ার্ধের এক বিশেষ মুহূর্তে যখন প্রতিপক্ষ দল ম্যাচের রাশ ধরে রাখার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই মাঠে বেলিংহ্যাম ঝড়ের উদয় হয়। প্রথম গোলটি করার পর প্রতিপক্ষ দল যখন সেই ধাক্কা সামলে ওঠার সুযোগটুকুও পায়নি, ঠিক তার পরের মিনিটেই অর্থাৎ মাত্র ১০০ সেকেন্ডের (১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড) কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বল জালে জড়িয়ে দেন বেলিংহ্যাম। এই অবিশ্বাস্য ‘ব্রেস’ বা জোড়া গোল স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে স্তব্ধ করে দেয়।
সাধারণত একটি গোল হওয়ার পর খেলা পুনরারম্ভ বা কিক-অফের পর প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগ গোছানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বেলিংহ্যামের ক্ষিপ্র গতি, নিখুঁত পজিশনিং এবং গোল করার অদম্য খিদে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেয়।
ইতিহাসের পাতায় মাত্র দুই জন! কার রেকর্ড ছুঁলেন বেলিংহ্যাম?
ফুটবল বিশ্বকাপের প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাসে ১০০ সেকেন্ডের কম সময়ে জোড়া গোল করার নজির প্রায় অসম্ভব এক বিষয় ছিল। বিশ্ব ফুটবলের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, বেলিংহ্যামের আগে কেবল মাত্র একজন কিংবদন্তি ফুটবলার এই কীর্তি গড়তে পেরেছিলেন।
ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিও বা জার্মানির গার্ড মুলারের মতো বিশ্বখ্যাত স্ট্রাইকাররাও যা করতে পারেননি, সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন ২৩ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ মিডফিল্ডার। এই রেকর্ডের মাধ্যমে বেলিংহ্যাম প্রমাণ করে দিলেন যে কেন তাঁকে এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ‘প্রজন্মের সেরা প্রতিভা’ (Generational Talent) হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইংল্যান্ড ফুটবল ও জুড বেলিংহ্যামের উত্থান
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে ইতিমধ্যেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন বেলিংহ্যাম। এবার ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের জার্সিতেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন তিনি। একজন মিডফিল্ডার হয়েও যেভাবে তিনি স্ট্রাইকারের মতো বক্সে ঢুকে গোল করছেন, তা আধুনিক ফুটবলে বিরল। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, বেলিংহ্যামের এই খেলার ধরণ এবং মানসিক শক্তি ইংল্যান্ড দলকে আগামী দিনে বিশ্ব ফুটবলের আরও বড় ট্রফি জেতাতে সাহায্য করবে।
রেকর্ড গড়া সহজ হতে পারে, কিন্তু বিশ্বকাপের মতো চরম চাপের মঞ্চে মাত্র ১০০ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি গোল করে ইতিহাসে নাম লেখানো অলৌকিকতার চেয়ে কম নয়। জুড বেলিংহ্যামের এই মহাকাব্যিক পারফরম্যান্স ফুটবল ইতিহাসে যুগের পর যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ফুটবল বিশ্বের এই নতুন রাজার রাজত্ব যে কেবল শুরু হলো, তা এই বিশ্বরেকর্ডই প্রমাণ করে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


