Tejas Mk-2 Programme: 'কার্যকারিতা বিচারে...,' উর্দি ছাড়তেই তেজস এমকে-২-এর তীব্র সমালোচনা প্রাক্তন ভাইস-চিফের
Tejas Mk-2 Programme: বর্তমানে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম স্টেলথ ও সেন্সর ফিউশন প্রযুক্তির পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-২২ বা চিনের জে-২০ বিশ্বজুড়ে আধিপত্য দেখাচ্ছে। চিন ইতিমধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ৫০০টি জে-২০ যুদ্ধবিমান বাহিনীতে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
Tejas Mk-2 Programme: দেশের উচ্চাভিলাষী 'তেজস এমকে-২' যুদ্ধবিমান প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করলেন ভারতীয় বায়ুসেনার সদ্য প্রাক্তন ভাইস-চিফ এয়ার মার্শাল নাগেশ কাপুর (Nagesh Kapoor) । তাঁর মতে, আগামী ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে যখন এই যুদ্ধবিমান বিপুল সংখ্যায় বায়ুসেনায় যুক্ত হতে শুরু করবে, তখন যুদ্ধক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা বা প্রাসঙ্গিকতা অনেকটাই তলানিতে ঠেকে যেতে পারে।

অবসর গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মাথায় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে এক সাক্ষাৎকারে এই ভয়াবহ ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন এয়ার মার্শাল নাগেশ কাপুর। যখন চিন ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের দিকে এগোচ্ছে এবং পাকিস্তান পঞ্চম প্রজন্মের বিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে, তখন ২০৩৫ সালে ভারতের মতো একটি দেশের কাছে চতুর্থ প্রজন্মের বিমান থাকা কতটা যুক্তিযুক্ত-এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রাক্তন ভাইস-চিফ সরাসরি বলেন, 'কার্যকারিতার বিচারে, এটি একেবারেই কোনও কাজের কথা নয়।'
বর্তমানে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম স্টেলথ ও সেন্সর ফিউশন প্রযুক্তির পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-২২ বা চিনের জে-২০ বিশ্বজুড়ে আধিপত্য দেখাচ্ছে। চিন ইতিমধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ৫০০টি জে-২০ যুদ্ধবিমান বাহিনীতে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ‘সেন্সর ফিউশন’ হলো এমন এক প্রযুক্তি যা বিমানের রাডার, ইনফ্রারেড ক্যামেরা ও অন্যান্য সেন্সরের ভিন্ন ভিন্ন তথ্যকে কম্পিউটারের মাধ্যমে একত্রিত করে ককপিটে পাইলটের সামনে শত্রুর অবস্থান ও আক্রমণের জন্য একটামাত্র নিখুঁত ডিজিটাল ছবি তুলে ধরে। এর পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ড্রোন সংযোগভিত্তিক ষষ্ঠ প্রজন্মের 'জে-৩৬' ও 'জে-৫০' প্রযুক্তিতে গতি এনেছে বেজিং। এই আবহে এয়ার মার্শাল মনে করেন, তেজস এমকে-২-এর মতো চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে একদম সামনের সারিতে না পারলেও দেশের সুবিশাল সীমানা রক্ষায় ফাঁকফোকর মেটাতে সীমিত আকারে ব্যবহৃত হতে পারে।
যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা 'হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড' (HAL)-এর চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার সমালোচনা করে এয়ার মার্শাল নাগেশ কাপুর বলেন, 'নিজেদের তৈরি যুদ্ধবিমান থাকবে-এর কোনও বিকল্প নেই। কিন্তু আমরা আর কতকাল অপেক্ষা করব?' ২০০১ সালে তেজসের প্রথম ট্রায়াল হলেও এবং পরে ৪৬,০০০ কোটি টাকার চুক্তিতে ৮৩টি উন্নত 'তেজস এমকে-১এ' অর্ডার দেওয়া সত্ত্বেও, আজ পর্যন্ত একটি যুদ্ধবিমানও হাতে পায়নি আইএএফ। মার্কিন জেনারেল ইলেকট্রিক ইঞ্জিনের সময়মতো সরবরাহ না পাওয়া এবং এইচএএল-এর অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতাই এর মূল কারণ। তেজস এমকে-২ প্রোটোটাইপের সময়সীমা ২০২২ থেকে পিছিয়ে বর্তমানে ২০২৭ সালে গিয়ে ঠেকেছে। এইচএএল-এর এই ঢিমেতাল কাজের গতি বিমান বাহিনীর তাগিদের সঙ্গে মোটেও মিলছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ভারতের প্রথম দেশীয় স্টেলথ যুদ্ধবিমান এএমসিএ (অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট) প্রকল্পও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা মিস করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, অতিরিক্ত অর্ডারের চাপে ফেব্রুয়ারিতে এইচএএল-কে এএমসিএ প্রকল্প থেকে বাদ দিয়ে তিনটি বেসরকারি কনসোর্টিয়ামকে দায়িত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে এখন আর ধাপে ধাপে এগোনার সুযোগ নেই বলে মনে করেন এয়ার মার্শাল নাগেশ কাপুর। তাঁর মতে, ভারতের উচিত চতুর্থ বা ৪.৫ প্রজন্মের পেছনে অযথা সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয় না করে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়া। ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনের যৌথ ষষ্ঠ প্রজন্মের 'এফসিএএস' কিংবা ব্রিটেন, ইতালি ও জাপানের 'জিসিএপি' প্রকল্পের মতো শক্তিশালী ইউরোপীয় কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ভারতের হাত মেলানো উচিত, যাতে সরাসরি ষষ্ঠ প্রজন্মের অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে প্রবেশের পথ সুগম হয়।
E-Paper

