বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মামলায় হাই কোর্টের নিশানায় কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার

মামলাটি দায়ের করেছিলেন বেঙ্গালুরুর এক চিকিৎসক। তাঁর অভিযোগ, তিনি একজন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে পুলিশ এবং ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-কে তথ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে উল্টে তাঁর বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের করা হয়।

Published on: Jul 30, 2026, 13:16:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কর্নাটক হাই কোর্টের এক সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে ঘিরে বেআইনি অনুপ্রবেশের বিষয়টি ফের জাতীয় স্তরে আলোচনায় উঠে এসেছে। একটি মামলার শুনানিতে আদালত মন্তব্য করেছে, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনওরকম শিথিলতা বা বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি প্রশ্রয় অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আদালতের পর্যবেক্ষণে রাজ্য পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কর্নাটক হাই কোর্টের এক সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে ঘিরে বেআইনি অনুপ্রবেশের বিষয়টি ফের জাতীয় স্তরে আলোচনায় উঠে এসেছে। (@CMofKarnataka X)
কর্নাটক হাই কোর্টের এক সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে ঘিরে বেআইনি অনুপ্রবেশের বিষয়টি ফের জাতীয় স্তরে আলোচনায় উঠে এসেছে। (@CMofKarnataka X)

মামলাটি দায়ের করেছিলেন বেঙ্গালুরুর এক চিকিৎসক। তাঁর অভিযোগ, তিনি একজন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে পুলিশ এবং ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-কে তথ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে উল্টে তাঁর বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের করা হয়। চিকিৎসকের দাবি, ওই অনুপ্রবেশকারীর অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে হেনস্তার মামলা রুজু করে।

মামলার শুনানিতে কর্নাটক হাই কোর্টের বিচারপতি এম নাগপ্রসন্ন ঘটনাক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, চিকিৎসক সকাল ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ এফআরআরও-কে সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিক সম্পর্কে জানান। অথচ মাত্র ১৫ মিনিট পরে, অর্থাৎ সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।

এই ঘটনাকে "প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ" বলে উল্লেখ করে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে অভিযোগ গ্রহণ, যাচাই এবং এফআইআর নথিভুক্ত করা সম্ভব হল। আদালতের মতে, ঘটনাক্রম থেকেই স্পষ্ট যে বিষয়টি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শুনানির সময় আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, যদি কোনও ব্যক্তি বেআইনি অনুপ্রবেশের তথ্য প্রশাসনকে জানানোর পর উল্টে তাঁর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে তা ভুল বার্তা দেয়। এতে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরা উৎসাহিত হতে পারে এবং দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আদালত মন্তব্য করে।

বিচারপতি নাগপ্রসন্ন বলেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থার উচিত আইন অনুযায়ী কাজ করা। যদি সরকারি ব্যবস্থাই এমনভাবে পরিচালিত হয় যাতে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরা পরোক্ষভাবে সুবিধা পায়, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে কোনওরকম গাফিলতি বা পক্ষপাতমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ করে।

এই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি অনুপ্রবেশকে জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরছে। সেই আবহেই কর্নাটক হাই কোর্টের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আদালতের এই মন্তব্য একটি নির্দিষ্ট মামলার শুনানির সময় করা পর্যবেক্ষণ। মামলার চূড়ান্ত রায় বা সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে অভিযোগগুলির সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের আইনি অবস্থান শেষ পর্যন্ত আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More