Karnataka SIR Row: ভোটার তালিকায় নন্দন-নিখিলের নামেও গরমিল! সাধারণ ভোটারদের SIR নোটিস, ভিআইপিদের বাড়িতেই যাচাই

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুরনো ভোটার রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান তথ্যের মিল না থাকায় কয়েকটি ক্ষেত্রে সিস্টেম থেকে নোটিস তৈরি হয়েছে। তবে নন্দন নিলেকানি ও নিখিল কামাথের ক্ষেত্রে সেই নোটিস আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁদের হাতে পৌঁছেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Published on: Sep 10, 2026, 09:03:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কর্ণাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কয়েক জন পরিচিত ভোটারের নাম পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলেনি বলে চিহ্নিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানি, জেরোধার সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিখিল কামাথ এবং কন্নড় সিনেমার অভিনেতা শিবরাজকুমার।

Infosys co-founder Nandan Nilekani and Zerodha co-founder Nikhil Kamath.
Infosys co-founder Nandan Nilekani and Zerodha co-founder Nikhil Kamath.

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুরনো ভোটার রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান তথ্যের মিল না থাকায় কয়েকটি ক্ষেত্রে সিস্টেম থেকে নোটিস তৈরি হয়েছে। তবে নন্দন নিলেকানি ও নিখিল কামাথের ক্ষেত্রে সেই নোটিস আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁদের হাতে পৌঁছেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সিএনআর রাওকে নোটিস নয়

ভারতের অন্যতম বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এবং ভারতরত্ন সম্মানপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিএনআর রাওকে এসআইআর-এর সময় নোটিস দেওয়া হয়েছে—এমন খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্ক তৈরি হয়। পরে নির্বাচন কমিশন এবং গ্রেটার বেঙ্গালুরু অথরিটি বা জিবিএ স্পষ্ট করে জানায়, তাঁকে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি।

জিবিএ-র বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় সিএনআর রাওয়ের নামের ক্ষেত্রে একটি অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও তাঁকে নোটিস না দিয়ে সরাসরি তাঁর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রাখার সুপারিশ করেন। অর্থাৎ, নামের তথ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও তাঁকে শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়নি।

শিবরাজকুমারের ক্ষেত্রে বাড়িতেই যাচাই

কন্নড় অভিনেতা শিবরাজকুমারের নামও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পাওয়া যায়। তাঁর ক্ষেত্রেও সিস্টেম থেকে শুনানির জন্য নোটিস তৈরি হয়েছিল। তবে তাঁকে নথি নিয়ে জিবিএ-র দফতরে যেতে হয়নি। নির্বাচন আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতেই গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করেন।

নির্বাচন কমিশনের এক প্রবীণ আধিকারিক জানান, বিশিষ্ট ভোটারদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাঁদের শুনানিতে ব্যক্তিগত ভাবে হাজির না হয়েও বুথ লেভেল অফিসারের মাধ্যমে বাড়িতেই যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা যেতে পারে। এই সুবিধার আওতায় বিচারপতি, সাংসদ, বিধায়ক, প্রবীণ রাজনীতিক, আমলা এবং খেলাধুলা ও সিনেমা জগতের পরিচিত ব্যক্তিরাও পড়েন।

সাধারণ ভোটারদের সমস্যাই বেশি

তবে সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রে একই ধরনের অসঙ্গতি নিয়ে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠছে। ছোটখাটো বানান বা তথ্যের পার্থক্যের কারণেও অনেকে নোটিস পাচ্ছেন বলে অভিযোগ। বেঙ্গালুরুর এক প্রবীণ মহিলা জানান, বর্তমান ভোটার তালিকা এবং ২০০২ সালের নথিতে তাঁর নাম লেখার ধরনে সামান্য পার্থক্য ছিল। তাঁর দাবি, নামের আসল বানানে কোনও বড় পরিবর্তন হয়নি। ডিজিটাল রেকর্ড তৈরির সময় এই ফারাক তৈরি হতে পারে বলেই তাঁর ধারণা।

কুক টাউনের এক প্রযুক্তি কর্মীর ক্ষেত্রেও নামের ইংরেজি থেকে কন্নড়ে লেখার সময় সামান্য পরিবর্তনকে অসঙ্গতি হিসেবে ধরা হয়। পরে বিএলও তাঁকে জানান, ডিজিটাল রূপান্তরের সময় এই পার্থক্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নোটিসের কারণে তাঁকে দফতরে গিয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় কাটাতে হয়।

নোটিস পেলেও কী করবেন, তা নিয়েই বিভ্রান্তি

অনেক ভোটারের অভিযোগ, নোটিস জারি হলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ হচ্ছে না। ভোটার তালিকা এবং গণনা ফর্মে বিএলও ও ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের তথ্য থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের খুঁজে পাওয়া বা যোগাযোগ করা নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ওয়ার্ড অফিস বা বুথে গিয়ে জানতে চাইছেন, তাঁদের নামে নোটিস জারি হয়েছে কি না এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী।

নোটিস তালিকাতেও অসম্পূর্ণ তথ্য

নোটিসের তালিকা প্রকাশ হলেও সমস্যার পুরো সমাধান হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে শুনানির তারিখ, জায়গা বা সময় উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু ভোটারের দাবি, কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে আপলোড করা তালিকা পরে আর খোলা যাচ্ছিল না। ফলে নিজেদের নাম বা নোটিসের তথ্য যাচাই করতেও সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা।

অনেক ভোটার ইংরেজিতে নোটিসের সম্পূর্ণ কপি চেয়েছেন। তাঁদের দাবি, কন্নড় ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই নোটিসের পরিষ্কার কপি দেওয়া প্রয়োজন। কারণ গণনা ফর্মের তুলনায় নোটিসের ভাষা ও বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতির শ্রেণিবিভাগ সাধারণ মানুষের কাছে বেশি কঠিন বলে অভিযোগ।

এসআইআর নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

কর্ণাটকে ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হল পুরনো রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান তথ্য মিলিয়ে তালিকাকে আরও নির্ভুল করা। কিন্তু সামান্য তথ্যগত পার্থক্যের জন্য সাধারণ ভোটারদের নোটিস এবং বিশিষ্টদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে যাচাইয়ের ব্যবস্থা কেন আলাদা—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ম মেনেই যাচাই করা হচ্ছে। তবে নোটিসের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করা এবং সাধারণ ভোটারদের সহজ ভাবে সব তথ্য জানানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More