কাশ্মীরে সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গি এখন মাত্র একজন, অমরনাথ যাত্রার মাঝে উপত্যকায় অভিযান
নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, মহম্মদ লতিফ ভাটের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ছত্তিশগড়ের দুই পরিযায়ী শ্রমিককে খুন, গত ২২ জুলাই জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের এক হেড কনস্টেবলকে গুলি করে হত্যা এবং চলতি অমরনাথ যাত্রাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা অভিযানে বড় সাফল্যের দাবি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের দাবি, বর্তমানে গোটা জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র একজনে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে থাকা সেই একমাত্র সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গি হল কুলগামের বাসিন্দা মহম্মদ লতিফ ভাট। তাঁকে ধরতে সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) যৌথভাবে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, মহম্মদ লতিফ ভাটের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ছত্তিশগড়ের দুই পরিযায়ী শ্রমিককে খুন, গত ২২ জুলাই জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের এক হেড কনস্টেবলকে গুলি করে হত্যা এবং চলতি অমরনাথ যাত্রাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে তার যোগ রয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরে মাত্র একজন স্থানীয় জঙ্গি সক্রিয় থাকলেও বিদেশি জঙ্গির সংখ্যা এখনও ৪০ থেকে ৫০ জনের মধ্যে। কয়েক বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে এই পরিবর্তন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় পাঁচ বছর আগে স্থানীয় সক্রিয় জঙ্গির সংখ্যা ছিল ৫০ থেকে ৬০ জন। এমনকি ২০২৫ সালের মে মাসেও সরকারি নথিতে ১৭ জন সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির উল্লেখ ছিল। এর মধ্যে ১৪ জন কাশ্মীরে এবং তিন জন জম্মু অঞ্চলে সক্রিয় ছিল। সেই সময় বিদেশি জঙ্গির সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০।
নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, স্থানীয় যুবকদের জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর অন্যতম কারণ নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) কড়া পদক্ষেপ। গত কয়েক বছরে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানো চক্র এবং মাদক পাচারের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যকলাপে অর্থ সরবরাহের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। এর ফলে জঙ্গি সংগঠনগুলির আর্থিক নেটওয়ার্ক অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৮ জুলাই অনন্তনাগ জেলার একটি জঙ্গলে যৌথ অভিযানে লস্কর-ই-তইবার ‘এ’ ক্যাটাগরির জঙ্গি জাকির আহমেদ গনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই সময় তার সঙ্গে ছিলেন মহম্মদ লতিফ ভাট। বাহিনী দু'জনকে ঘিরে ফেললেও ভাট পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তদন্তকারীদের দাবি, ওই দু'জন একসঙ্গে অমরনাথ যাত্রায় হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। সেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ‘অপারেশন শেরুওয়ালি’ নামে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছিল।
জাকির গনি নিহত হলেও ভাট পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক হামলার অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরে সবচেয়ে ওয়ান্টেড জঙ্গি তিনিই। তাঁকে ধরতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের আরও দাবি, ভাটকে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি গোপনে সাহায্য করছেন।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ২২ জুলাই হেড কনস্টেবল আশিক হুসেনকে হত্যার ঘটনায় এবং সম্প্রতি দুই পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি করে খুনের ঘটনায় বেশ কিছু মিল পাওয়া গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই ক্ষেত্রেই হামলাকারীর মাথায় টুপি ছিল এবং অস্ত্র একটি বস্তার মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। হামলাকারী খুব কাছ থেকে গুলি চালায় বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
নিরাপত্তা সংস্থার হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, মহম্মদ লতিফ ভাট কীভাবে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেন, সে বিষয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য মেলেনি। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টারে দাবি করা হয়েছে, লতিফ ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর কাশ্মীর রেভলিউশন আর্মি বা কেআরএ-তে যোগ দেন। তদন্তকারীদের মতে, কেআরএ আসলে লস্কর-ই-তইবারই একটি শাখা, যা পাকিস্তানের ভূমিকা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এর আগে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-ও একই ধরনের কৌশলে গড়ে তোলা হয়েছিল বলে নিরাপত্তা সংস্থার দাবি।
নিরাপত্তা আধিকারিকদের বক্তব্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও অনন্তনাগে একটি অভিযানের সময় লতিফ ভাট পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। লতিফ এবং জাকির গনি—দু'জনেই দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার বাসিন্দা। গনি ২০২৩ সালে বাড়ি ছেড়েছিলেন। অন্যদিকে, ভাট ২০২৫ সালের গোড়ার দিকে কয়েক মাসের জন্য নিখোঁজ ছিলেন। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই সময়ই সে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হন এবং পরে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসা তাদের জন্য বড় সাফল্য হলেও বিদেশি জঙ্গিদের উপস্থিতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুরু করে উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি মহম্মদ লতিফ ভাটকে গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও যৌথ অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


