Kochi Synagogue Fire: কোচির ইহুদি উপাসনালয়ের সামনে অগ্নিসংযোগ, ধৃত যুবক! বিদেশি হ্যান্ডলারের নির্দেশে হামলা?
ঘটনাটি ঘটে সোমবার, ১২ অক্টোবর রাত পেরিয়ে ভোরে। সময় তখন আনুমানিক রাত আড়াইটে। কোচির এরনাকুলাম মার্কেট এলাকায় ঐতিহাসিক কাদাভুমবাগম সিনাগগের উল্টো দিকে রয়েছে ব্লসম নার্সারি। পুলিশের অভিযোগ, একটি নীল গাড়িতে চড়ে সেখানে পৌঁছয় অভিযুক্ত। তার পর নার্সারির চত্বরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সে।
গভীর রাতে গাড়ি নিয়ে এসে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল ইহুদি উপাসনালয়ের ঠিক উল্টো দিকের একটি নার্সারিতে। শুধু আগুন লাগিয়েই ক্ষান্ত হয়নি অভিযুক্ত। নিজের মোবাইলে সেই ঘটনার ভিডিয়োও রেকর্ড করে সে। কেরলের কোচিতে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করার পর তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অভিযুক্তের সঙ্গে বিদেশে থাকা কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল। এমনকি ‘বস’-এর নির্দেশে নির্দিষ্ট জায়গায় হামলা চালানোর বিনিময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা পাওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে একটি সাধারণ অগ্নিসংযোগের ঘটনা এখন বৃহত্তর নিরাপত্তা-তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে বিদেশি যোগ বা কোনও জঙ্গি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এখনও প্রমাণিত নয়।

গভীর রাতে আগুন, ক্যামেরায় ধরা পড়ল অভিযুক্ত
ঘটনাটি ঘটে সোমবার, ১২ অক্টোবর রাত পেরিয়ে ভোরে। সময় তখন আনুমানিক রাত আড়াইটে। কোচির এরনাকুলাম মার্কেট এলাকায় ঐতিহাসিক কাদাভুমবাগম সিনাগগের উল্টো দিকে রয়েছে ব্লসম নার্সারি। পুলিশের অভিযোগ, একটি নীল মারুতি সুজুকি ইগনিস গাড়িতে চড়ে সেখানে পৌঁছয় অভিযুক্ত। তার পর নার্সারির চত্বরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সে।
এর পর মোবাইল ফোনে গোটা ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ড করে ঘটনাস্থল ছাড়ে অভিযুক্ত। এনডিটিভির হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজেও সেই দৃশ্য দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
ইহুদি উপাসনালয়ের এত কাছে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায় প্রথম থেকেই সতর্ক ছিল পুলিশ। রাতের অন্ধকারে বাজার এলাকার একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকায় তদন্তে প্রাথমিক ভাবে কিছুটা সমস্যা হয়। তবু আশপাশের ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং প্রায় ১৫০ জনের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তের গাড়ির সন্ধান পান তদন্তকারীরা। শেষ পর্যন্ত গাড়িটির সূত্র ধরেই এরনাকুলামের পুথেনক্রুজ এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় ৩২ বছরের এক যুবককে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে তাঁর নাম এল্ডো পল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোবাইল ঘেঁটে বিদেশি যোগাযোগের সন্দেহ
তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে ধৃতের মোবাইল ফোন থেকে। পুলিশের দাবি, ফোনের প্রাথমিক পরীক্ষায় কয়েক জন সন্দেহভাজন বিদেশি যোগাযোগ এবং বিভিন্ন অনলাইন গোষ্ঠীর সঙ্গে কথোপকথনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে ‘বস’ বলে উল্লেখ করত অভিযুক্ত, এমনটাই সন্দেহ তদন্তকারীদের।
পুলিশের অনুমান, নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করা, সেখানে অগ্নিসংযোগের মতো হামলা চালানো, তার ভিডিয়ো তৈরি করে নির্দেশদাতার কাছে পাঠানো এবং তার বিনিময়ে অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। সেই টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে ওই ব্যক্তির পরিচয়, সম্ভাব্য বিদেশি যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলি এখনও নিশ্চিত হয়নি। এর পিছনে সুসংগঠিত কোনও আন্তর্জাতিক চক্র রয়েছে কি না, তা জানতে অভিযুক্তের মোবাইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের ফরেন্সিক পরীক্ষা চলছে।
আগের অগ্নিসংযোগের সঙ্গেও যোগ?
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে মুভাত্তুপুঝায় আগের একটি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও। পুলিশের দাবি, ধৃতের ফোনে সেই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সন্দেহজনক কিছু ভিডিয়ো পাওয়া গিয়েছে। জেরায় ওই ঘটনার সঙ্গে নিজের যোগ থাকার কথা অভিযুক্ত স্বীকার করেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তবে দুই ঘটনার মধ্যে কোনও পরিকল্পিত যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া, অভিযুক্তের ফোনে সন্দেহজনক মাদক কেনাবেচা সংক্রান্ত কথোপকথনের সূত্রও মিলেছে বলে খবর। সেই তথ্য আলাদা করে খতিয়ে দেখছে গ্রামীণ পুলিশ। তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিও তথ্য পরীক্ষা করছে বলে জানিয়েছে কোচি পুলিশ।
সব মিলিয়ে, একটি নার্সারিতে আগুন লাগানোর ঘটনা এখন একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ঐতিহাসিক সিনাগগকে লক্ষ্য করেই কি হামলা, নাকি তার পাশে অন্য কোনও কারণে আগুন লাগানো হয়েছিল? বিদেশে থাকা কোনও নির্দেশদাতার ভূমিকা ছিল কি না? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। আপাতত পুলিশি সন্দেহের ভিত্তিতে তদন্ত এগোলেও, বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব প্রমাণের জন্য আরও তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষা।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


