LA Mayor Election: ইতিহাস আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে, লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন

৩ নভেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে মেয়র নির্বাচন হয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাওয়া ভোটের হিসাবে নিত্যা পেয়েছেন ৫২.১ শতাংশ ভোট। অন্য দিকে, কারেন বাসের ঝুলিতে গিয়েছে ৪৭.৯ শতাংশ ভোট। সংখ্যার হিসাবে নিত্যা পেয়েছেন ৪ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৫০টি ভোট। বাস পেয়েছেন ৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭৯৬টি।

Published on: Nov 6, 2026, 09:59:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের নজর কাড়ল ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক রাজনৈতিক মুখ। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হলেন ৪৫ বছর বয়সি নিত্যা রমন। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সমর্থনপুষ্ট এই প্রগতিশীল নেত্রী হারিয়ে দিলেন বিদায়ী মেয়র কারেন বাসকে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের প্রশাসনের দায়িত্ব পেতে চলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মহিলা। শুধু তাই নয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের ইতিহাসে প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হতে চলেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের নজর কাড়ল ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক রাজনৈতিক মুখ। (AP)
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের নজর কাড়ল ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক রাজনৈতিক মুখ। (AP)

৩ নভেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে মেয়র নির্বাচন হয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাওয়া ভোটের হিসাবে নিত্যা পেয়েছেন ৫২.১ শতাংশ ভোট। অন্য দিকে, কারেন বাসের ঝুলিতে গিয়েছে ৪৭.৯ শতাংশ ভোট। সংখ্যার হিসাবে নিত্যা পেয়েছেন ৪ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৫০টি ভোট। বাস পেয়েছেন ৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭৯৬টি। অর্থাৎ, ৩৪ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন নিত্যা। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারই পরাজয় স্বীকার করে নিত্যাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিদায়ী মেয়র। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

এই জয়কে লস অ্যাঞ্জেলেসের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন হিসাবে দেখা হচ্ছে। ২০০৫ সালের পর এই প্রথম কোনও নির্বাচনে বর্তমান মেয়রকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসছেন নতুন কোনও প্রার্থী। ২০২২ সালে মেয়র পদে বসেছিলেন কারেন বাস। তাঁর আমলে শহরের একাধিক সমস্যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, আবাসনের সঙ্কট এবং নাগরিক পরিষেবার বেহাল দশা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভয়াবহ দাবানলের মোকাবিলা নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়ে বাস প্রশাসন। সেই ক্ষোভই নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

নিত্যার রাজনৈতিক উত্থানের পিছনেও রয়েছে দীর্ঘ সামাজিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা। ভারতের কেরলের ত্রিশূরে জন্ম তাঁর। মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় চলে যান তিনি। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে নগর পরিকল্পনা নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে ভারতে ফিরে দিল্লি ও চেন্নাইয়ে বস্তিবাসীদের অধিকার এবং নাগরিক পরিষেবা নিয়ে কাজ করেন। চেন্নাইয়ে ‘ট্রান্সপারেন্ট চেন্নাই’ নামে একটি নাগরিক গবেষণা উদ্যোগও শুরু করেছিলেন তিনি।

২০১৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিরে গৃহহীন মানুষের সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০২০ সালে প্রথম বার সেখানকার সিটি কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালেও দ্বিতীয় বার জয়ী হয়েছিলেন তিনি।

মেয়র নির্বাচনের লড়াইয়ে নিত্যার অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল গৃহহীন মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান। শহরের রাস্তায় তাঁবু ও অস্থায়ী শিবিরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি সাশ্রয়ী আবাসন তৈরি, উন্নত গণপরিবহণ, রাস্তা ও ফুটপাতের সংস্কার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির কথাও বলেছেন তিনি। ২০২৮ সালের অলিম্পিকের আগে শহরের পরিকাঠামো উন্নত করাও তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে নিত্যার জয় সহজ ছিল না। কারেন বাসের পাশে ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, কমলা হ্যারিস এবং ন্যান্সি পেলোসির মতো ডেমোক্র্যাট নেতারা। অন্য দিকে, নিত্যা ভরসা রেখেছিলেন প্রগতিশীল সংগঠন ও সাধারণ ভোটারদের উপর। এক সময় বাসকে সমর্থন করলেও পরে নিজেই মেয়র পদে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই লড়াইয়েই শেষ পর্যন্ত জয় পেলেন কেরলের মেয়ে নিত্যা রমন।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More