Ladakh Update: পাক-চিন যৌথ সীমান্ত কমিশনের পর লাদাখের ২৮ কৌশলগত এলাকা ভারতের সরকারি মানচিত্রে, নাম গোগরা ও হটস্প্রিংয়েরও

২ অক্টোবর কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, লাদাখের মোট ২৮টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে স্ট্যান্ডার্ড নাম দিয়ে সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে যুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্র এই কাজ করেছে লাদাখ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে।

Published on: Oct 3, 2026, 09:03:27 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে প্রথম যৌথ সীমান্ত কমিশনের বৈঠকের ঠিক কয়েক দিন পরেই লাদাখের ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে সরকারি মানচিত্রে আনুষ্ঠানিক ভাবে চিহ্নিত করল ভারত। এর মধ্যে রয়েছে ২০২০ সালের ভারত-চিন সীমান্ত সংঘাতের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা গোগরা এবং হট স্প্রিং। ফলে এই পদক্ষেপের সময় নিয়ে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তান ও চিন সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন কাঠামো তৈরি করার পরেই লাদাখের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিকে সরকারি মানচিত্রে স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরে দিল্লি কি বেজিংকে নিজেদের অবস্থান আরও এক বার জানিয়ে দিল?

পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে প্রথম যৌথ সীমান্ত কমিশনের বৈঠকের ঠিক কয়েক দিন পরেই লাদাখের ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে সরকারি মানচিত্রে আনুষ্ঠানিক ভাবে চিহ্নিত করল ভারত।
পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে প্রথম যৌথ সীমান্ত কমিশনের বৈঠকের ঠিক কয়েক দিন পরেই লাদাখের ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে সরকারি মানচিত্রে আনুষ্ঠানিক ভাবে চিহ্নিত করল ভারত।

২ অক্টোবর কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, লাদাখের মোট ২৮টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে স্ট্যান্ডার্ড নাম দিয়ে সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে যুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্র এই কাজ করেছে লাদাখ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে। সরকারের বক্তব্য, এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিকে নির্ভুল ভাবে চিহ্নিত করা যাবে এবং সীমান্ত এলাকার বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে।

নতুন তালিকায় গোগরা এবং হট স্প্রিংয়ের মতো এলাকা রয়েছে। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ভারত এবং চিনের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনার সময় এই এলাকাগুলি বড় সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। প্যাংগং হ্রদ এলাকায় সংঘাতের পর পূর্ব লাদাখের একাধিক স্থানে দুই দেশের সেনা মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। পরে সেনা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে লাদাখ সীমান্ত এখনও ভারত-চিন সম্পর্কের অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়।

এ বার যে ২৮টি স্থানকে সরকারি ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে একাধিক পাহাড়, গিরিপথ, হিমবাহ, নদী এবং নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। আলিশা গিরি, ব্রাংসা, চাপচিংগাল পাস, কানিষ্কা পিক, কারুন পির, কুকসেল, মার্তণ্ড গিরি, জোরাওয়ার পিক, দেহরা কম্পাস এবং ড্রাক কার্পোর মতো নাম রয়েছে তালিকায়। রয়েছে শামাল লুংপা, যা ১৯৫০-এর দশকে টহল ও সেনা চলাচলের রুট হিসাবে ব্যবহৃত হত বলেও সরকারি তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তান ও চিনের সদ্য চালু করা সীমান্ত কমিশনের সময়ের মিলই নজর কাড়ছে। ১৬ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে পাকিস্তান-চিন বাউন্ডারি জয়েন্ট কমিশনের প্রথম বৈঠক হয়। দুই দেশ জানিয়েছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত সমীক্ষা, পণ্য ও মানুষের চলাচল এবং সীমান্ত এলাকার সহযোগিতা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে। পরের বৈঠক চিনে করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

তবে এই কমিশন নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে এসেছে দিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে এমন কোনও সীমান্ত মেনে নেয় না ভারত, যার ভিত্তিতে ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে ফের জানানো হয়েছে। ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান-চিন সীমান্ত চুক্তিকেও ভারত স্বীকৃতি দেয় না।

সেই প্রেক্ষাপটে লাদাখের ২৮টি কৌশলগত স্থানকে সরকারি মানচিত্রে স্পষ্ট ভাবে চিহ্নিত করার ঘটনা নিছক প্রশাসনিক কাজ, না কি এর মধ্যে কূটনৈতিক বার্তাও রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি ঘোষণায় অবশ্য সরাসরি পাকিস্তান বা চিনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের কোনও যোগের কথা বলা হয়নি। কেন্দ্রের ব্যাখ্যা মূলত মানচিত্রে নির্ভুল পরিচয়, প্রশাসনিক ভাবে স্পষ্ট থাকা এবং জনসচেতনতার জন্যই এই পদক্ষেপ। তবু সময়ের হিসাব বলছে, পাকিস্তান-চিন সীমান্ত কমিশনের প্রথম বৈঠকের পরেই লাদাখের সংবেদনশীল এলাকাগুলিকে সরকারি মানচিত্রে আরও স্পষ্ট করে তুলল দিল্লি। তাই কূটনৈতিক স্তরে এই পদক্ষেপের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা চলছেই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More