ভারতে মন্দিরে হামলার ছক পাকিস্তানি জঙ্গিদের, অ্যালার্ট গোয়েন্দাদের- রিপোর্ট
সূত্র অনুসারে, লস্কর-ই-তৈবা ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি মসজিদে বিস্ফোরণের প্রতিশোধ নিতে চাইছে।
আবারও রাজধানীতে জঙ্গি হামলার ছক! গোয়েন্দা সূত্রে খবর, দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে চাঁদনি চক এলাকার একটি মন্দিরে হামলা চালাতে পারে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি)। ইতিমধ্যে নয়া দিল্লিজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

গোয়েন্দা তথ্য উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএনআই-র রিপোর্ট দাবি করছে, লালকেল্লার আশপাশের স্থান এবং চাঁদনি চকের কিছু অংশ-সহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলিতে হামলা চালাতে পারে লস্কর। জঙ্গিরা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) হামলার পরিকল্পনা করছে, যার সম্ভাব্য লক্ষ্য চাঁদনি চকের একটি মন্দির। সূত্র অনুসারে, লস্কর-ই-তৈবা ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি মসজিদে বিস্ফোরণের প্রতিশোধ নিতে চাইছে এবং সম্ভবত ভারতে একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসলামাবাদে ওই মসজিদে বিস্ফোরণের প্রতিশোধ নিতে তারা ভারতের বিখ্যাত মন্দিরগুলিকে টার্গেট করতে পারে। যা ইঙ্গিত দেয় যে বিখ্যাত ধর্মীয় স্থানগুলি এখনও এই জঙ্গি গোষ্ঠীর রাডারে রয়েছে। এই তথ্যের পর, দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিতে, বিশেষ করে ওল্ড দিল্লিতে নজরদারি জোরদার করেছে। অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যানবাহন তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে এবং ধর্মীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্রগুলির কাছে পরিদর্শন শুরু করা হয়েছে।
এর আগে এএনআই-র রিপোর্ট দাবি করা হয়, ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসে হরিয়ানা, দিল্লি-এনসিআর, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশে নাশকতার ছক কষছে খলিস্তানি ও বাংলাদেশি জঙ্গি শিবির। এএনআই বলছিল, ‘২৬শে জানুয়ারির আগে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলি একটি সতর্কতা জারি করেছে যে খালিস্তানি সন্ত্রাসী সংগঠন এবং বাংলাদেশ-ভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলি দিল্লি এবং দেশের আরও বেশ কয়েকটি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করতে পারে।’ গোয়েন্দা সূত্র অনুসারে, এএনআই-র-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঞ্জাব-ভিত্তিক গ্যাংস্টাররা ক্রমবর্ধমানভাবে খালিস্তানি এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত উগ্রপন্থী হ্যান্ডলারদের 'পদাতিক সৈনিক' হিসেবে কাজ করছে। এই হ্যান্ডলাররা তাদের এজেন্ডা এগিয়ে নিতে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যাহত করতে অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সমস্ত গ্যাংস্টাররা আরও পাকাপোক্তভাবে সক্রিয় করছে, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি এনসিআর-এ। এরা ক্রমেই খলিস্তানিদের সঙ্গে সংযোগ রাখছে বলেও খবর রয়েছে গোয়েন্দা সূত্রের কাছে।
দিল্লি বিস্ফোরণ
গত বছরেরই ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ হয়। সেই ঘটনায় হামলাকারী-সহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছেন অনেকে। সেই হামলার ঘটনায় ‘ডক্টেরস মডিউল’-এর হাত ছিল। যাঁদের যোগ পাওয়া গিয়েছে জইশ জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পাতিয়ালা হাউস কোর্টের একটি বিশেষ এনআইএ আদালত ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্ত শেষ করার জন্য তদন্তের সময়কাল ৪৫ দিন বাড়িয়েছে। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) ৯০ দিনের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করেছিল। একইসঙ্গে, আদালত সাত অভিযুক্তকে বিচারিক হেফাজতের মেয়াদ ১৩ মার্চ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
E-Paper

