বিপ্লবী সূর্যসেন-প্রীতিলতাকে সন্ত্রাসী আখ্যা! বাংলাদেশে ক্ষোভের মুখে নয়া সংগঠনের নেতা
মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশলাইনে অবস্থিত অস্ত্রাগারটি লুট করেন বিপ্লবীরা।
অখণ্ড ভারতের ঐতিহাসিক বিপ্লবী নেতা মাস্টারদা সূর্যসেন ও বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বিতর্কে জড়াল বাংলাদেশের জাতীয় বিপ্লব পরিষদের এক নেতা। আর ঢাকায় 'পাকিস্তান দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর এই মন্তব্যের পরপরই উপস্থিত অনেকেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

জানা গেছে, ওই নেতার নাম জিহাদী ইহসান। তিনি সংগঠনটির সহকারী সদস্য সচিব। ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে। তবে সোমবার ‘পাকিস্তান দিবস’ উপলক্ষ্যে প্রথম পুরানা পল্টন কার্যালয়ে সংগঠনটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালিব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. আরিফুল ইসলাম এবং মাওলানা জালালউদ্দীন রুমী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহিম ফেরদৌস। আলোচনা সভায় জিহাদী ইহসান বলেন, 'আমরা শুধু ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সালের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করি, কারণ এখানে ভারতের সহযোগীতা রয়েছে। কিন্তু ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত যতো আন্দোলন হয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করি না।'
এরপরেই ওই নেতা শহিদ তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ ও দুদু মিঞার সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বলেন, ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে সূর্যসেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের কর্মকাণ্ডকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখা যেতে পারে। এদিকে, জাতীয় বিপ্লব পরিষদের নেতার এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, সূর্যসেন ও প্রীতিলতা ছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রামী, যাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। তাঁদের ‘সন্ত্রাসী’ বলা ইতিহাস বিকৃতির শামিল বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। জিহাদী ইহসানের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে নেটিজেনরাও। শুধু তাই নয়, আলোচনা সভায় উপস্থিত অনেকেই তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন।
উল্লেখ্য, মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশলাইনে অবস্থিত অস্ত্রাগারটি লুট করেন বিপ্লবীরা। এরপর সেখানকার টেলিফোন-সহ বিভিন্ন সংযোগ বন্ধ করে উত্তোলন করা হয় ভারতীয় পতাকা। সেই দিন থেকে পর পর চার দিন চট্টগ্রাম ব্রিটিশ শাসন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। অন্যদিকে, ১৯৩২ সালের ১০ আগস্ট পাহাড়তলি ইউরোপিয়ান ক্লাবে হামলা করে এর দখল নেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের যোদ্ধা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। পরে পুলিশ তাদের আটক করলে সঙ্গে থাকা সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
E-Paper

