Lionel Messi Farewell Match: শেষ বার আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি, চোখের জলে বিদায় নেওয়ার আগে ২টো গোল করালেন, একটা মারলেন

ম্যাচের ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে দেওয়া হল। ১০ নম্বর জার্সির প্রতি সম্মান জানাল গোটা স্টেডিয়াম। গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলেন হাজার হাজার সমর্থক। যেন সময়ও কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। যে মানুষটি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন বহন করেছেন, তাঁকেই শেষ বার নিজেদের করে নিল বুয়েনস আইরেস।

Published on: Oct 7, 2026, 07:57:04 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

এই রাতটা যে আসবে, তা জানত আর্জেন্টিনা, গোটা বিশ্ব। তবু কেউ চাইছিল না রাতটা আসুক। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টালে মঙ্গলবার (ভারতীয় সময় বুধবার ভোরে) তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ হয়নি। হয়েছে এক যুগের বিদায়। দেশের জার্সিতে শেষ বার মাঠে নামলেন লিওনেল মেসি। প্রতিপক্ষ ছিল বেনিন। ফল আর্জেন্টিনার পক্ষে ৩-০। কিন্তু স্কোরলাইন যেন এই রাতের আসল গল্প নয়। আসল গল্প এক জনের। ১০ নম্বর জার্সির মানুষটির।

নিজের দেশের হয়ে ১২৬তম গোলটি করে বিদায় নিলেন কিংবদন্তি মেসি (AP Photo/Gustavo Garello)
নিজের দেশের হয়ে ১২৬তম গোলটি করে বিদায় নিলেন কিংবদন্তি মেসি (AP Photo/Gustavo Garello)

ম্যাচ শুরুর আগেই বোঝা গিয়েছিল, এই রাত অন্য রকম। ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকে ভরে গিয়েছিল স্টেডিয়াম। টিকিট শেষ হয়ে গিয়েছিল মাত্র কিছু সময়ের মধ্যেই। মাঠে নামার সময় তিন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন মেসি। চার দিকে তখন আতশবাজি। গ্যালারি জুড়ে শুধু একটাই আওয়াজ, মেসি, মেসি। বিশাল এক ১০ নম্বর জার্সি মেলে ধরা হয়েছিল মাঠে। তার নীচে লেখা ছিল একটাই শব্দ, ধন্যবাদ।

তার পর এল সেই মুহূর্ত। ম্যাচের ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে দেওয়া হল। ১০ নম্বর জার্সির প্রতি সম্মান জানাল গোটা স্টেডিয়াম। গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলেন হাজার হাজার সমর্থক। যেন সময়ও কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। যে মানুষটি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন বহন করেছেন, তাঁকেই শেষ বার নিজেদের করে নিল বুয়েনস আইরেস।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য গোল এল না। বিরতিতে স্কোর ০-০। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল ছবি। মেসির পাস থেকে গোল করলেন নিকোলাস ওতামেন্দি। নিজের বিদায়ী ম্যাচে গোল করে স্মরণীয় রাত পেলেন তিনিও। পরে বাইরে থেকে দুরন্ত শটে ব্যবধান বাড়ালেন নিকো পাজ। আর শেষে পেনাল্টি। স্পট কিকে বল জালে পাঠালেন মেসি। দেশের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা পৌঁছে গেল ১২৬-এ। শেষ ম্যাচেও গোল করে গেলেন তিনি।

কিন্তু গোলের পর মেসির মুখের হাসির মধ্যেও লুকিয়ে ছিল বিদায়ের কষ্ট। দেশের হয়ে তাঁর ২০৮তম ম্যাচ। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়। বিশ্বকাপ জয়। দুটি কোপা আমেরিকা। অসংখ্য রাত, অসংখ্য গোল, অসংখ্য স্মৃতি। একটা সময় এই মেসিকেই আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সমালোচনা শুনতে হয়েছিল। দেশের হয়ে ট্রফি দিতে না পারায় উঠেছিল প্রশ্ন। ২০১৬ সালে অভিমানে আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। পরে ফিরেছিলেন। আর সেই প্রত্যাবর্তনের পরই বদলে যায় ইতিহাস।

২০২১ সালে কোপা আমেরিকা। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ। মেসি শেষ পর্যন্ত সব জবাব দিয়েছেন মাঠে। আর্জেন্টিনার মানুষের ভালবাসাও বদলে গিয়েছে। যাঁকে এক সময় মারাদোনার সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন করা হত, বিদায়ের দিনে সেই মেসিই দেশের সবচেয়ে বড় নায়ক।

বন্ধু রদ্রিগো দে পল বললেন, মেসি তাঁকে শুধু ভালো ফুটবলার নয়, ভালো মানুষও হতে শিখিয়েছেন। নেইমারও জানালেন, শুধু আর্জেন্টিনা নয়, গোটা ফুটবল বিশ্বই মেসির কাছে কৃতজ্ঞ। আর মেসি? তাঁর নিজের কথাই সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে, “আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি। সবটুকু দিয়েছি।”

হয়তো এরপরও ক্লাব ফুটবলে তাঁকে দেখা যাবে। কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর নয়। তাই এই ৩-০ শুধু একটি জয় নয়। এ এক মহার্ঘ বিদায়। এক জন ফুটবলারের নয়। এক যুগের। এক স্বপ্নের। এক ভালবাসার। মেসি মাঠ ছাড়লেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার হৃদয় থেকে কি কখনও সত্যিই বিদায় নেবেন?

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More