Mahrang Baloch:রয়েছে MBBS ডিগ্রি!‘বালোচিস্তানের সিংহী’ মেহরাং বালোচকে পাক সন্ত্রাসবিরোধী কোর্ট দিল কোন সাজা?কে তিনি?
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে মাহারাং বালোচ একজন এমবিবিএস ডিগ্রি প্রাপ্ত চিকিৎসক। তিনি ব্যাচেলার অফ সার্জারি ডিগ্রি পান কোয়েট্টার বোলান মেডিক্যাল কলেজ থেকে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে গদরের। সেখানে বালোচদের এক মিছিলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর এক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। সেই মামলা চলছিল পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে। আর পাকিস্তানের সেই সন্ত্রাসবিরোধী আদালতই এদিন ‘বালোচিস্তানের সিংহী’ মাহারাং বালোচকে শুনিয়ে দিল কড়া সাজা। শুধু মাহারাংই নন, তাঁর সঙ্গে বালোচিস্তান ইয়াখেতি কমিটির নেতা সিবগাহতুল্লাহ শাহকেও সাজা শুনিয়েছে ওই আদালত।

মাহারাং বালোচ ও সিবগাহতুল্লাহ শাহকে পাকিস্তানি কোর্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে ২০২৪-এ গদরের মিছিলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায়। পাকিস্তানের কোয়েট্টার ওই কোর্টর শুনানি এদিন বয়কট করেন মাহারাং ও বাকি আটক হওয়া বিওয়াইসি নেতারা। মাহরাং, আটক অন্যান্য বিওয়াইসি (BYC) নেতা এবং তাঁদের আইনজীবীদের দ্বারা আদালতের কার্যক্রম বয়কট অব্যাহত থাকার মধ্যেই এই সাজা ঘোষণার বিষয়টি সামনে এল। এমন কি, এই মামলায় পাকিস্তান সরকারের তরফের আইনজীবীর সাহায্যও প্রত্যাখ্যান করেন মাহারাং। বিবিসি উর্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ১২ জুন থেকে আটক নেতারা কোয়েটার হাড্ডা ডিস্ট্রিক্ট জেলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। প্রসঙ্গত, মাহারাংর বিরুদ্ধে পাকিস্তানে একের পর এক মামলা রয়েছে।
২০২৪ সালের ‘বালোচ রাজি মাচি’, এই জমায়েত নিয়েই যাবতীয় ঘটনার সূত্রপাত। পরে সেই জমায়েত অবস্থান কর্মসূচিতে বদলে যায় বলে দাবি করেছেন মাহারাংএর আইনজীবী। এই সমাবেশে কেবল বেলুচিস্তান থেকেই নয়, বরং প্রতিবেশী আফগানিস্তান ও ইরানের বেলুচ সম্প্রদায় থেকেও অংশগ্রহণকারীরা এসেছিলেন। সেই সময়ই মাহারাংএর নেতৃত্বাধীন বিওয়াইসি সমর্থকদের সঙ্গে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাত হয়। উল্লেখ্য, বালোচ সম্প্রদায়ের মধ্যে মাহারাংকে ‘বালোচিস্তানের সিংহী’ হিসাবে অভিহিত করা হয়।
কে মাহারাং বালোচ?
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে মাহারাং বালোচ একজন এমবিবিএস ডিগ্রি প্রাপ্ত চিকিৎসক। তিনি ব্যাচেলার অফ সার্জারি ডিগ্রি পান কোয়েট্টার বোলান মেডিক্যাল কলেজ থেকে। পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে কথিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন মাহরং বালুচ। নিখোঁজ বালুচ জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার এবং পাকিস্তানি রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহিতার দাবিতে ২০২৩ সালের শেষভাগে তুরবাত থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত ১,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রার নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আসেন। স্বভাবতই অস্বস্তি বাড়ে পাকিস্তানের। মাহরার-র এই আন্দোলন বা সক্রিয়তার বিষয়টি অত্যন্ত ব্যক্তিগত। অভিযোগ রয়েছে যে, ২০০৯ সালে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী, তাঁর বাবাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে নির্যাতনের চিহ্নসহ মাহারাংর বাবার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পাকিস্তানে সেদেশের প্রশাসনের দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন মাহারং-র বাবা। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে মাহারাং-র ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
ABOUT THE AUTHORSritama Mitraশ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More
E-Paper


