CJP protest: তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভে দমনপীড়ন নয়, সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ! বিশেষ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
CJP protest: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র নেতৃত্বাধীন সাম্প্রতিক আন্দোলনে দিল্লি এবং দেশের অন্যান্য জায়গায় পাথর ছোড়া-সহ বিভিন্ন হিংসাত্মক ঘটনার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জির শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ এই মন্তব্য করেছে।
CJP protest: তরুণ ছাত্র আন্দোলনকারীদের সামলানোর সময়ে কর্তৃপক্ষের সংযম বজায় রাখা এবং সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করা উচিত, কারণ হিংসা থামাতে যে কোনও হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে কেবল আরও উসকে দেয়। বুধবার একটি মামলার শুনানিতে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট।

'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র নেতৃত্বাধীন সাম্প্রতিক আন্দোলনে দিল্লি এবং দেশের অন্যান্য জায়গায় পাথর ছোড়া-সহ বিভিন্ন হিংসাত্মক ঘটনার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জির শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ এই মন্তব্য করেছে। দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যে ছাত্র আন্দোলনের সময়ে হিংসার ঘটনা সম্পর্কিত বিচারাধীন অন্য মামলাগুলির সঙ্গে এই আবেদনটি যুক্ত করে আদালত জানায়, সমস্ত বিষয় একসঙ্গে শোনা হবে। গত ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ অভিযানে হিংসা ও নৈরাজ্য ছড়ানোর ঘটনায় জড়িত আয়োজক এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি নতুন পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রাক্তন আধিকারিক মণীশ সোলাঙ্কি এই আবেদনটি দায়ের করেছেন। ওই আবেদনে শীর্ষ আদালতের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, সরকার বা রাজ্যগুলো যেন শুধুমাত্র কোনও রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে এই ছাত্র আন্দোলনের জেরে হওয়া হিংসার মামলাগুলো তুলে না নেয়। একই সঙ্গে, পুলিশের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বা অবমাননাকর মন্তব্যকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে। শুনানিকালে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী রিজওয়ান আহমেদ যুক্তি দিয়ে বলেন, যেখানে সরকার ও পুলিশের ভূমিকা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সেখানে এই আন্দোলনের মূল আয়োজকরা কীভাবে তদন্তের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন?
আইনজীবী রিজওয়ান আহমেদ আদালতে সওয়াল করে বলেন, 'ঘটনার ১৫ দিন কেটে গেছে। স্পর্শকাতর এলাকায় এই তাণ্ডব ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করার পরও তারা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এক টেলিভিশন চ্যানেল থেকে অন্য চ্যানেলে গিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নতুন করে আগুনে ঘি ঢালছে। সরকার হয়তো ব্যাকফুটে চলে যেতে পারে, কিন্তু সমাজ এবং এই সর্বোচ্চ আদালত পিছপা হতে পারে না।' এই আর্জির প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই আবেদনের সমস্ত বিষয়বস্তু আগে থেকে বিচারাধীন থাকা মূল মামলাগুলোর সঙ্গেই খতিয়ে দেখা হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, 'যেখানে বেশ কয়েকটি সম্পর্কিত বিষয় ইতিমধ্যেই বিচারাধীন রয়েছে, সেখানে এই মামলাটিও সেই মূল বেঞ্চের সঙ্গে শোনাই যুক্তিসঙ্গত হবে। আমরা সমস্ত ধরনের পরামর্শ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভিন্নমতকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।' শুনানি চলাকালীন আবেদনকারীর আইনজীবী রিজওয়ান আহমেদ নোটিশ জারির জন্য চাপ দিলে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, 'গণতন্ত্রে এই ধরনের শান্তিপূর্ণ মিছিলের সময়ে বলপ্রয়োগকারী বাহিনীকেও সংযম দেখাতে হবে। তরুণরা যাতে হিংসায় জড়িয়ে না পড়েন, তার জন্য কর্তৃপক্ষের খুব সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পাল্টা হিংসাত্মক জবাব পরিস্থিতিকে কেবল জটিল করে তুলবে। সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হল শোনার শক্তি- তারা কী বলছে এবং কেন আন্দোলন করছে, তা মনোযোগ দিয়ে শোনা।'
পাশাপাশি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার উপরে আস্থা প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত আরও বলেছে, 'পরিস্থিতি কী ভাবে সামলাতে হয় তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আমাদের চেয়ে ভাল বোঝে, তাই বিষয়টা তাদের বিবেচনার উপরেই ছেড়ে দেওয়া যাক। আমরা আপনাদের বক্তব্য শুনেছি। নির্দিষ্ট দিনে বিষয়টি আবার উঠলে কেন্দ্র সরকারের মতামত কী, তা-ও দেখা যাক।'
E-Paper

