LPU Rape Allegation Row Update: ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল LPU, বিশ্ববিদ্যালয়ের 'স্ক্রিপ্টেড' ভিডিয়োতে নয়া বিতর্ক!

ঘটনার সূত্রপাত এলপিইউ ক্যাম্পাসে একটি ধর্ষণের খবর ছড়ানোকে কেন্দ্র করে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হস্টেলে এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। পরে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলেও গুজব ছড়ায়। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। 

Published on: Sep 28, 2026, 10:22:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

পঞ্জাবের লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি বা এলপিইউতে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। পরিস্থিতি শান্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ভিডিয়ো প্রকাশ করেছিল, তা নিয়েই এ বার উঠল নতুন প্রশ্ন। ওই ভিডিয়োয় যে তিন ছাত্রীকে দেখা গিয়েছিল, তাঁদেরই দাবি, কী বলতে হবে তা তাঁদের আগে থেকে বলে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাঁদের অনুমতি ছাড়াই ভিডিয়োটি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

পঞ্জাবের লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি বা এলপিইউতে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। (PTI)
পঞ্জাবের লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি বা এলপিইউতে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। (PTI)

ঘটনার সূত্রপাত এলপিইউ ক্যাম্পাসে একটি ধর্ষণের খবর ছড়ানোকে কেন্দ্র করে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হস্টেলে এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। পরে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলেও গুজব ছড়ায়। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এই খবরকে কেন্দ্র করে রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদের একাংশ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর করে এবং কিছু জায়গায় আগুনও জ্বালানো হয়।

বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি ছিল, ক্যাম্পাসে কাজ করা এক বাইরের ব্যক্তি নাকি মেয়েদের হস্টেলে ঢুকে এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সমর্থনে এখনও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যে ঘরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছিল, সেখানে থাকা তিন ছাত্রীও প্রথমে এমন কোনও ঘটনার কথা অস্বীকার করেন। পরে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটও গঠন করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে এলপিইউর রেজিস্ট্রার ডক্টর মনিকা গুলাটি একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেন। সেখানে পাঁচ নম্বর ঘরের তিন ছাত্রীকে দেখিয়ে বলা হয়, ওই ঘরে কোনও ধরনের ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রীরা ভিডিয়োয় জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘরে থাকছেন এবং তাঁদের ঘরে এমন কিছু ঘটেনি। পুলিশ এবং অন্য ছাত্রদের তাঁদের বিরক্ত না করার অনুরোধও করেন তাঁরা।

কিন্তু পরে সামনে আসে আর একটি ভিডিয়ো। সেখানে ওই একই ছাত্রীরা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের নির্দিষ্ট কিছু কথা বলতে বলেছিল। তাঁদের অভিযোগ, সেই অনুযায়ী ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়। পরে ভিডিয়োর একটি অংশ কেটে সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তাঁরা। এই অভিযোগ সামনে আসার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের ভিডিয়ো নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এর মধ্যেই বিক্ষোভ ক্রমশ হিংসাত্মক আকার নেয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। জালন্ধর ফগওয়ারা জাতীয় সড়কের একটি অংশও ছাত্রদের একাংশ অবরোধ করেন। পরে পুলিশ সেই রাস্তা খালি করে দেয়। পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, অশান্তির সময় তাদের কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

অন্য দিকে, এলপিইউ কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনাকে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর খবর বলে দাবি করেছে। ছাত্রদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়ে ক্যাম্পাসে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের জেরে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ দিনের জন্য নিয়মিত ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। স্থগিত করা হয়েছে মাঝের সেমেস্টারের পরীক্ষাও। নতুন পরীক্ষার সূচি পরে জানানো হবে।

এখন পুলিশের তদন্তে মূল প্রশ্ন, ধর্ষণের অভিযোগের আদৌ কোনও সত্যতা রয়েছে কি না। একই সঙ্গে ছাত্রীদের ভিডিয়ো নিয়ে ওঠা অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে। কারণ একটি অপ্রমাণিত অভিযোগ থেকেই যে ভাবে বড়সড় অশান্তি ছড়িয়েছে, তাতে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনা এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More