গৈরিক বসন ছেড়ে ঘরসংসার! বিয়ে সারলেন মহাকুম্ভের ‘IIT বাবা’, প্রয়াগরাজে সমালোচনা তুঙ্গে

মহাকুম্ভের মেলায় প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তা এবং তুখোড় ইংরেজি বলার কারণে দেশজুড়ে ভাইরাল হয়েছিলেন অভয় সিং।

Published on: Apr 7, 2026, 12:51:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলায় আলোচনায় উঠে আসা ‘আইআইটি বাবা’ অভয় সিং ফের খবরের শিরোনামে। তবে এবার তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। আধ্যাত্মিকতার গৈরিক বসন ছেড়ে এবার সাংসারিক জীবনে পা রেখেছেন মহাকুম্ভের ভাইরাল ‘আইআইটি বাবা’ অভয় সিং। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাতারাতি ভাইরাল হওয়া সেই মেধাবী সন্ন্যাসী এবার জীবনের এক নতুন ইনিংস শুরু করলেন। হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালার এক শিব মন্দিরে প্রেম করে বিয়ে করেছেন তিনি।

বিয়ে সারলেন মহাকুম্ভের ‘IIT বাবা’
বিয়ে সারলেন মহাকুম্ভের ‘IIT বাবা’

‘আইআইটি বাবা’র স্ত্রীর নাম প্রতীকা। তিনি পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদ অনুসারে, 'আইআইটি বাবা' এবং প্রতীকা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মহাশিবরাত্রিতে, হিমাচল প্রদেশের মন্দিরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর তাঁদের কোর্ট ম্যারেজ হয়। গত সোমবার অভয় সিং প্রতীকাকে সঙ্গে নিয়ে হরিয়ানার ঝাজ্জারে তাঁর আইনজীবী বাবার চেম্বারে পৌঁছলে এই বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসে।

কে এই ‘আইআইটি বাবা’?

মহাকুম্ভের মেলায় প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তা এবং তুখোড় ইংরেজি বলার কারণে দেশজুড়ে ভাইরাল হয়েছিলেন অভয় সিং। আইআইটি পাশ করার পর কেন তিনি সন্ন্যাসের কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। মহাকুম্ভে তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল দেশ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আধ্যাত্মিকতা নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছিলেন। তাঁকে 'নতুন যুগের সাধু' হিসেবে দেখতে শুরু করেছিলেন। আধুনিক উচ্চশিক্ষার সঙ্গে আধ্যাত্মিক জীবনের মিশেলই অভয়কে আলাদা করেছিল। হরিয়ানা নিবাসী অভয় সিং আইআইটি বম্বে থেকে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনা করেন। কিন্তু কানাডায় আকর্ষণীয় বেতনের চাকরি ছেড়ে সন্ন্যাসী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তিনি মাত্র ৩০ বছর বয়সে সন্ন্যাসের কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলেন।

‘আইআইটি বাবা’র বিয়ে

প্রতিবেদন অনুসারে, আইআইটি বাবা এবং প্রতীকা চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি, মহাশিবরাত্রিতে, হিমাচল প্রদেশের আঘানজার মহাদেব মন্দিরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি তাঁদের কোর্ট ম্যারেজ হয়। গত সোমবার অভয় সিং প্রতীকাকে সঙ্গে নিয়ে ঝাজ্জারে তাঁর বাবার চেম্বারে পৌঁছলে এই বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসে। প্রতীকা কর্ণাটকের বাসিন্দা। নব দম্পতি জানিয়েছেন যে, বিয়ের পর তাঁরা বর্তমানে হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় থাকছেন।

প্রয়াগরাজে সন্ন্যাসীদের প্রতিক্রিয়া

মহাকুম্ভের মঞ্চ থেকে শুরু করে বিয়ে-অভয় সিংয়ের জীবনের এই অপ্রত্যাশিত মোড় ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। প্রয়াগরাজের বেশ কয়েকজন সন্ন্যাসী অভয় সিংয়ের এই বিয়েতে আপত্তি জানিয়েছেন। এক প্রবীণ সন্ন্যাসী বলেছেন, 'একবার সন্ন্যাস গ্রহণ করলে তা আজীবনের। বিবাহ করা সন্ন্যাসের মর্যাদার পরিপন্থী।' আরেকজন আবার বলেন, 'যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ন্যাস গ্রহণ করে থাকেন, তবে এই আচরণ অনুচিত। এটি সমাজে সামনে একটি ভুল বার্তা দেবে।' তবে বারাণসীতে সন্ন্যাসীদের প্রতিক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন।এক সন্ন্যাসী বলেন, 'হিন্দু দর্শন অনুসারে চারটি আশ্রম আছে: ব্রহ্মচর্য, গৃহস্থ, বানপ্রস্থ এবং সন্ন্যাস। গৃহস্থ জীবনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।' বিয়ে প্রসঙ্গে এক সন্ন্যাসী বলেছেন, 'আধ্যাত্মিকতা কেবল ত্যাগের মধ্যেই নয়, বরং জীবনের ভারসাম্যের মধ্যেও নিহিত। যদি কোনও ব্যক্তি বিয়ে করেন, তবে তা তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক সিদ্ধান্ত।'