Mahua Moitra: মাঝরাতে সার্কিট হাউস ছাড়ার নোটিশ, সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি পেলেন না মহুয়া মৈত্র

মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, কলকাতা হাই কোর্টের তরফে তাঁকে সুরক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের তরফে মাঝরাতে সার্কিট হাউস খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাকে তাঁর সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

Published on: Aug 24, 2026, 14:18:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউস থেকে গভীর রাতে ঘর খালি করার নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তবে তাঁর দায়ের করা মামলায় জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদনে গুরুত্ব দিল না দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে মামলাটি উল্লেখ করা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই আবেদনকে আদালত গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে আপাতত সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া মৈত্রের জরুরি শুনানির আর্জি থেকে কোনও সুরাহা মিলল না।

মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, কলকাতা হাই কোর্টের তরফে তাঁকে সুরক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের তরফে মাঝরাতে সার্কিট হাউস খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। (HT_PRINT)
মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, কলকাতা হাই কোর্টের তরফে তাঁকে সুরক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের তরফে মাঝরাতে সার্কিট হাউস খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। (HT_PRINT)

মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, কলকাতা হাই কোর্টের তরফে তাঁকে সুরক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের তরফে মাঝরাতে সার্কিট হাউস খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাকে তাঁর সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটি উল্লেখ করেন মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, একজন নির্বাচিত সাংসদকে গভীর রাতে যে ভাবে সার্কিট হাউস থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। আইনজীবীর দাবি, এই ঘটনায় শুধু ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্নই নয়, সাংবিধানিক অধিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে।

আদালতে মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী দাবি করেন, কলকাতা হাই কোর্ট ইতিমধ্যেই তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছে। তা সত্ত্বেও তাঁকে রাতের অন্ধকারে সার্কিট হাউস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানানো হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ অগাস্ট। ওই সময় কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে ছিলেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর অভিযোগ, গভীর রাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মহুয়ার দাবি, হাই কোর্টের সুরক্ষা নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা তাঁকে মাঝরাতে কার্যত হেনস্থা করেন। একই সময়ে সার্কিট হাউসের বাইরে একদল লোক বিক্ষোভ দেখায় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এই ঘটনার পরই আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর আইনজীবীর দাবি, প্রশাসনের এই আচরণ একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সাংবিধানিক অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত। তাই বিষয়টির দ্রুত শুনানি প্রয়োজন। এমনকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসন এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী।

তবে মহুয়া মৈত্রের আইনজীবীর জরুরি শুনানির আবেদনে সাড়া দেয়নি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। মামলাটি উল্লেখ করা হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা এই আবেদন গুরুত্ব দিচ্ছি না।” ফলে দ্রুত শুনানির যে আবেদন করা হয়েছিল, তা থেকে আপাতত কোনও স্বস্তি পেলেন না কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। একদিকে মহুয়ার অভিযোগ, হাই কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের তরফে তাঁকে মাঝরাতে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানির আর্জি গুরুত্ব না পাওয়ায় মামলাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, সে দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More