অগ্নিবীরদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! চার বছরের বদলে ছ’বছর সেনায় থাকার সুযোগ, ২ বছর বাড়ছে চাকরির মেয়াদ
২০২২ সালে দেশের তিন বাহিনীতে নিয়োগের জন্য অগ্নিপথ প্রকল্প চালু করেছিল কেন্দ্র। এই প্রকল্পে সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনায় চার বছরের জন্য নিয়োগ করা হয় অগ্নিবীরদের। চার বছরের মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশকে নিয়মিত সেনাকর্মী হিসাবে রেখে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
অগ্নিপথ প্রকল্পে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও আরও দু’বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন অগ্নিবীররা। এই মর্মে শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে পারেন দেশের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল এন এস রাজা সুব্রহ্মণি। বুধবার এমনই খবর প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ চার বছর থেকে বেড়ে ছ’বছর হতে পারে। তবে এই অতিরিক্ত সময় সেনায় কাজ করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সংশ্লিষ্ট অগ্নিবীরের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হবে বলে সরকারি সূত্রে খবর।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
২০২২ সালে দেশের তিন বাহিনীতে নিয়োগের জন্য অগ্নিপথ প্রকল্প চালু করেছিল কেন্দ্র। এই প্রকল্পে সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনায় চার বছরের জন্য নিয়োগ করা হয় অগ্নিবীরদের। চার বছরের মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশকে নিয়মিত সেনাকর্মী হিসাবে রেখে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তাঁদের আরও ১৫ বছর নিয়মিত চাকরি করার সুযোগ দেওয়া হয়। বাকি ৭৫ শতাংশকে চার বছর পর সেনা থেকে অবসর নিতে হয়।
এ বার সেই নিয়মেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কারণ, অগ্নিপথ প্রকল্পে নিয়োগ হওয়া প্রথম ব্যাচের চার বছরের চাকরির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীরদের সেনা থেকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ৩০০ জন অগ্নিবীরের চাকরির মেয়াদ শেষ হবে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের আরও দু’বছর কাজের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্র।
তিন বাহিনীর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন বাহিনীর আধিকারিকেরা অগ্নিবীরদের কাজের দক্ষতা এবং পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট। বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানও প্রশংসা পেয়েছে। ফলে প্রশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ অগ্নিবীরদের আরও কিছু দিন বাহিনীতে রেখে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
সূত্রের খবর, অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ, কেউ চাইলে অতিরিক্ত দু’বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করতে পারবেন। তবে কত জন এই সুযোগ পাবেন, কোন কোন শর্তে তাঁদের মেয়াদ বাড়ানো হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রথম ব্যাচে কত জন?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিপথ প্রকল্পের প্রথম দফায় তিন বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ২৪ হাজার ৪০০ জন নিয়োগ পেয়েছিলেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীতে প্রায় ১৯ হাজার, বায়ুসেনায় ২৮৫০ এবং নৌসেনায় ২৫৫০ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ৩০০ জনের চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
শুরু থেকেই অগ্নিপথ প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে মাত্র চার বছরের চাকরি এবং অধিকাংশ অগ্নিবীরের স্থায়ী চাকরি না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিয়মিত সেনাকর্মীদের মতো পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার বিষয়টিও বিতর্কের অন্যতম কারণ।
এই পরিস্থিতিতে আরও দু’বছরের চাকরির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবকে অগ্নিপথ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসাবে দেখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং নতুন নিয়মের বিস্তারিত এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সিডিএসের ঘোষণার দিকেই এখন নজর প্রতিরক্ষা মহলের।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


