BRICS Summit: ব্রিকস কূটনীতিতে বলিউড ট্যুইস্ট! কিশোর কুমারের কালজয়ী গান গেয়ে তাক লাগলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

BRICS Summit: অষ্টাদশতম ব্রিকসের এক ফাঁকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও সেরেছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

Updated on: Sep 13, 2026, 12:09:15 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

BRICS Summit: ব্রিকস সম্মেলনে (BRICS Summit 2026) ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রনায়কসুলভ ভূমিকার পাশাপাশি বলিউড সিনেমা ও সঙ্গীতের প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। দিল্লির একটি হোটেলে পিয়ানোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি গেয়ে শোনালেন ১৯৬৫ সালের কালজয়ী চলচ্চিত্র 'তিন দেবিয়া'-এর কিশোর কুমারের (Kishore Kumar) গাওয়া বিখ্যাত গান— 'খোওয়াব হো তুম ইয়া কোই হাকিকত।'

কিশোর কুমারের কালজয়ী গান গেয়ে তাকে লাগলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী (Instagram/anwaribrahim_my)
কিশোর কুমারের কালজয়ী গান গেয়ে তাকে লাগলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী (Instagram/anwaribrahim_my)

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিজেই ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন ভিডিওটি। তাঁর গলায় কিশোর কুমারের গান শুনে খুশি নেটিজেনরাও। ভারতের রাজধানীতে ব্রিকস সম্মেলনের অংশীদার দেশ হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার। সরকারি বৈঠকের পাশাপাশি একটি অনানুষ্ঠানিক আয়োজনে দেব আনন্দ অভিনীত ১৯৬৫ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘তিন ‍‍‍দেবিয়া‌‌‌’-এর রোমান্টিক গানটি পরিবেশন করেন তিনি। পাশে ছিলেন একজন পিয়ানোবাদক। এস. ডি. বর্মণের সুরে কিশোর কুমারের গাওয়া গানটি নিজের কণ্ঠে তুলে ধরেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, যা উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে বেশ উচ্ছ্বাস তৈরি করে। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের এই গান পরিবেশন ভারতীয় সংস্কৃতি ও সিনেমার প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অনুরাগেরই প্রতিফলন।

এদিকে, অষ্টাদশতম ব্রিকসের এক ফাঁকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও সেরেছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তিনি বলেন, 'দেখতে পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী কত জনপ্রিয়। আমাকে যে কত মেসেজ ওঁর কাছে পৌঁছে দিতে হল।' তাঁর এই কথা থেকে পরিষ্কার, মালয়েশিয়াতেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা কোন পর্যায়ে। এবারের ব্রিকস সম্মেলনে মালয়েশিয়া 'অংশীদার দেশ' (Partner Country) হিসেবে উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেয়। যেখানে বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা, উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। ২০২২ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আনোয়ারের প্রথম ভারত সফর। আর শুরুতেই ভারত-মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছল। দুই দেশের সম্পর্ককে 'সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব'-এর (Comprehensive Strategic Partnership) স্তরে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ডিজিটাল প্রযুক্তি ও পর্যটন সহযোগিতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

উল্লেখ্য, শনিবার ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রিত নেতাদের জন্য আয়োজিত গালা ডিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ব্রিকসের নৈশভোজের তালিকায় ছিল ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের নানা পদ—যেমন খান্ডভি মিল-ফেই, কুম্ব গালোটি, পনির লাবাবদার, গুচ্ছি মারমিক, বাজরা পোলাও, বিটরুট রাইতা, জিলিপির সঙ্গে ওল্ড দিল্লি ফ্রুট ক্রিম এবং শাহতুত ফিরনি। ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ গ্রহণের পরপরই এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এই ঘোষণায় ব্রিকস নেতারা বিশ্ব শাসন ব্যবস্থায় সংস্কার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির জোরালো অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।