Unique animal facts 2026:পুরুষের পেটে সন্তান! এই প্রাণীদের মধ্যে বাবাই হল ‘মা’, আসল মায়ের ভূমিকাটা কী

Unique animal facts 2026: প্রকৃতির নিয়মে মা হওয়ার আনন্দ কেবল নারী প্রাণীদের জন্যই বরাদ্দ বলে আমরা জানি। কিন্তু সমুদ্রের নিচে এমন এক জগত আছে যেখানে বাবারা ‘মাতৃত্ব’ গ্রহণ করে।

Published on: May 7, 2026, 12:47:45 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Unique animal facts 2026: প্রকৃতির বৈচিত্র্য এবং বিস্ময়ের কোনো শেষ নেই। সাধারণত প্রাণিজগতে সন্তান ধারণ এবং জন্মের দায়িত্ব থাকে নারী সদস্যের ওপর। কিন্তু সমুদ্রের গভীরে এমন কিছু প্রাণী রয়েছে যারা প্রকৃতির এই চিরন্তন নিয়মকে বদলে দিয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নাম হলো সিহর্স (Seahorse)। তবে প্রশ্ন হলো, সিহর্সই কি একমাত্র প্রাণী যেখানে পুরুষ সদস্য মা হয়? এই নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদনটি নিচে দেওয়া হলো।

পুরুষের পেটে সন্তান! এই প্রাণীদের মধ্যে বাবাই হল ‘মা’, আসল মায়ের ভূমিকাটা কী
পুরুষের পেটে সন্তান! এই প্রাণীদের মধ্যে বাবাই হল ‘মা’, আসল মায়ের ভূমিকাটা কী

প্রকৃতির নিয়মে মা হওয়ার আনন্দ কেবল নারী প্রাণীদের জন্যই বরাদ্দ বলে আমরা জানি। কিন্তু সমুদ্রের নিচে এমন এক জগত আছে যেখানে বাবারা ‘মাতৃত্ব’ গ্রহণ করে। সিহর্স বা সমুদ্রঘোড়া হলো সেই বিরল প্রজাতির অন্যতম, যেখানে পুরুষ সদস্যটি নিজের শরীরে সন্তান ধারণ করে এবং জন্ম দেয়। তবে সিহর্সই এই তালিকার একমাত্র নাম নয়।

সিহর্সের অদ্ভুত সন্তান ধারণ প্রক্রিয়া

সিহর্স হলো ‘সিনগনাথিডি’ (Syngnathidae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এদের প্রজনন প্রক্রিয়া অত্যন্ত অনন্য। স্ত্রী সিহর্স মিলনের সময় পুরুষ সিহর্সের পেটে থাকা একটি বিশেষ থলিতে (Brood Pouch) ডিম পেড়ে দেয়। এরপর সেই ডিমগুলোকে নিষিক্ত করার দায়িত্ব থাকে পুরুষের ওপর। ডিমগুলো থেকে বাচ্চা না বের হওয়া পর্যন্ত বাবা সিহর্স সেগুলোকে রক্ষা করে এবং নিজের শরীরের পুষ্টি দিয়ে বড় করে তোলে। এমনকি জন্মের সময় প্রসব বেদনাও সহ্য করতে হয় পুরুষ সিহর্সকেই। একবারে প্রায় ২০০ থেকে ১০০০টি বাচ্চার জন্ম দিতে পারে একটি বাবা সিহর্স।

সিহর্স কি একমাত্র উদাহরণ?

না, সিহর্স একমাত্র প্রাণী নয়, তবে তারা সেই বিরল পরিবারের অংশ যেখানে পুরুষরা গর্ভাবস্থা (Male Pregnancy) বহন করে। সিহর্সের পাশাপাশি আরও দুটি সমগোত্রীয় প্রাণী রয়েছে যাদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে:

১. পাইপফিশ (Pipefish): এরা সিহর্সের খুব কাছের আত্মীয়। লম্বাটে শরীরের এই মাছগুলোর ক্ষেত্রেও পুরুষ সদস্যটি স্ত্রী মাছের দেওয়া ডিম নিজের পেটে বা লেজের নিচের একটি বিশেষ অংশে বহন করে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের না হওয়া পর্যন্ত তারা সেগুলোকে পাহারা দেয়।

২. সি ড্রাগন (Sea Dragon): দেখতে অনেকটা সামুদ্রিক শ্যাওলার মতো এই অদ্ভুত সুন্দর প্রাণীগুলোও পুরুষ গর্ভাবস্থার জন্য পরিচিত। সি ড্রাগনদের ক্ষেত্রে পেটে থলি থাকে না, বরং লেজের নিচের এক ধরণের আঠালো জায়গায় ডিমগুলো আটকে থাকে। বাবা সি ড্রাগন সেই ডিমগুলো নিয়েই সমুদ্রের তলদেশে ঘুরে বেড়ায় যতক্ষণ না বাচ্চা জন্ম নিচ্ছে।

কেন এই বিবর্তন?

বিজ্ঞানীদের মতে, পুরুষ গর্ভাবস্থার পেছনে একটি শক্তিশালী বিবর্তনীয় কারণ রয়েছে। যখন পুরুষ সদস্যটি ডিম পাহারা দেয় এবং সন্তান ধারণ করে, তখন স্ত্রী সদস্যটি খুব দ্রুত আবার নতুন ডিম তৈরি করার শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। এর ফলে এই প্রজাতিগুলো খুব দ্রুত নিজেদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়। এটি তাদের বংশধারা টিকিয়ে রাখার একটি প্রাকৃতিক কৌশল।

সিহর্সের অদ্ভুত সন্তান ধারণ প্রক্রিয়া
সিহর্সের অদ্ভুত সন্তান ধারণ প্রক্রিয়া

অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রে কি এমন হয়?

কিছু প্রজাতির ব্যাঙ এবং মাছের ক্ষেত্রে বাবাদের সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল হতে দেখা যায়। যেমন— 'ডাইভিং বেল স্পাইডার' বা কিছু জলজ পোকা ডিম পিঠে করে বয়ে বেড়ায়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘গর্ভাবস্থা’ বা ভ্রূণকে নিজের শরীরের টিস্যু থেকে পুষ্টি সরবরাহ করার বিষয়টি কেবল সিহর্স এবং তার সমগোত্রীয় প্রাণীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

সিহর্স, পাইপফিশ এবং সি ড্রাগন আমাদের শেখায় যে প্রকৃতির কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। পুরুষ হয়েও মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করা এই প্রাণীগুলো সমুদ্রের বাস্তুসংস্থানের এক অমূল্য অংশ। তাদের এই অনন্য জীবনচক্র আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবীটা কত বিচিত্র ও রহস্যময়।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More