Mamata Banerjee in SC on TMC Logo: নাম-প্রতীক ফেরত পেতে সুপ্রিম কোর্টে মমতা, দ্রুত শুনানির আর্জি, কী বলল শীর্ষ আদালত?
এই মামলার কেন্দ্রে রয়েছে তৃণমূলের নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক। নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি অন্তর্বর্তী নির্দেশে দুই গোষ্ঠীকেই মূল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং পুরনো প্রতীক ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে। দুই শিবিরের মধ্যে দলের পরিচয়, নিয়ন্ত্রণ এবং সংগঠন নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম এবং ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলা করা হয়েছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিষয়টি তোলা হয়। মমতার হয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। প্রধান বিচারপতি জানান, চলতি সপ্তাহেই মামলাটি তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

এই মামলার কেন্দ্রে রয়েছে তৃণমূলের নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক। নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি অন্তর্বর্তী নির্দেশে দুই গোষ্ঠীকেই মূল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং পুরনো প্রতীক ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে। দুই শিবিরের মধ্যে দলের পরিচয়, নিয়ন্ত্রণ এবং সংগঠন নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম। তাঁদের নির্বাচনী প্রতীক করা হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্য গোষ্ঠী পেয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম। তাদের প্রতীক ‘খাম’। এই ব্যবস্থা আপাতত আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। মূল নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর-সহ আসন্ন উপনির্বাচনের আগে কমিশনের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ ভোটের প্রচারে দলের পরিচিত নাম এবং প্রতীক ব্যবহার করতে না পারার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই কারণেই মমতা শিবির দ্রুত আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে কপিল সিব্বলের বক্তব্য ছিল, ভোটের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর দলীয় প্রতীক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতে দ্রুত শুনানি প্রয়োজন। আদালত অবশ্য এই পর্যায়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। প্রধান বিচারপতি জানান, মামলাটি তালিকাভুক্ত হলে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে।
এই বিরোধের সূত্রপাত তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন থেকে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের ভিতরে দুই শিবিরের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত তৈরি হয়। এরপর উভয় গোষ্ঠীই নিজেদের তৃণমূলের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করে। দলীয় নাম, প্রতীক এবং সংগঠন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের বক্তব্য পেশ করে তারা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দুই গোষ্ঠী একই নাম ও প্রতীকের দাবি করায় এবং আসন্ন উপনির্বাচনের আগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকায় অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমিশন নির্বাচন প্রতীক সংক্রান্ত বিধির ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় বিষয়টি দেখছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর আবেদনে মূল দলীয় নাম এবং ঘাসফুল প্রতীক পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী গোষ্ঠী নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে।
এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে। মামলাটি চলতি সপ্তাহে শুনানির জন্য উঠলে প্রথমে আদালত নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত এবং দুই পক্ষের বক্তব্য শুনবে। এরপরই স্পষ্ট হবে, উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের পুরনো নাম ও প্রতীক নিয়ে কোনও পরিবর্তন আসে কি না।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


