Andhra Pradesh School: অন্ধ্রপ্রদেশের স্কুলে হাড়হিম-কাণ্ড! ক্লাসরুমে ইলেকট্রিক করাত দিয়ে দুই ছাত্রীর উপর হামলা যুবকের
Andhra Pradesh School: স্কুলের পঠনপাঠন চলাকালীন আচমকাই স্কুল চত্বরে ঢুকে পড়ে অভিযুক্ত যুবক। এরপর সরাসরি ক্লাসরুমে ঢুকে দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর উপর করাত দিয়ে হামলা চালায় সে।
Andhra Pradesh School: শিক্ষকের উপস্থিতিতেই দশম শ্রেণির ক্লাসরুমে ঢুকে দুই ছাত্রীর উপর যন্ত্রচালিত করাত (চেইন-স) দিয়ে নৃশংস হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর (Andhra Pradesh) জেলার রাপ্তাদু গ্রামের জেলা পরিষদ হাইস্কুলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এই হামলায় দুই ছাত্রীই গুরুতর জখম হয়েছে, যার মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পালানোর সময় অভিযুক্ত যুবককে ধর্মাবরম রেল স্টেশন থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২১ বছর বয়সি ধৃত যুবকের নাম হেমন্ত ওরফে দাম্মু। সে শ্রী সত্য সাই জেলার ধর্মাবরম মণ্ডলের নাগালুরের বাসিন্দা এবং মূল আক্রান্ত ছাত্রীর দূরসম্পর্কের আত্মীয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের পঠনপাঠন চলাকালীন আচমকাই স্কুল চত্বরে ঢুকে পড়ে অভিযুক্ত যুবক। এরপর সরাসরি ক্লাসরুমে ঢুকে দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর উপর করাত দিয়ে হামলা চালায় সে। যন্ত্রচালিত করাতের আঘাতে মূল আক্রান্ত ছাত্রীর গলা ও পেটে গভীর ক্ষত তৈরি হয় এবং তাঁর ডান হাতটি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ওই ছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হয় তার অপর এক সহপাঠী ছাত্রীও। চোখের সামনে এমন ভয়ঙ্কর হামলার ঘটনায় পড়ুয়া ও শিক্ষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, স্কুলটিতে মেরামতির কাজ চলায় হাতে করাত থাকা ওই যুবককে মিস্ত্রি ভেবে ভুল করেছিলেন নিরাপত্তারক্ষী ও কয়েকজন শিক্ষক। সেই সুযোগেই ক্লাস চলাকালীন বিনা বাধায় সে ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ে।
রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ছাত্রীকেই দ্রুত অনন্তপুরের সরকারি সাধারণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা ছাত্রীটির জটিল অস্ত্রোপচার চলছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়েই তৎপর হয় পুলিশ। অভিযুক্তের খোঁজে শুরু হয় তদন্ত ও তল্লাশি। শেষ পর্যন্ত ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। কেন ওই ব্যক্তি স্কুলে ঢুকে ছাত্রীর উপর এমন হামলা চালাল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। হামলার নেপথ্যে ব্যক্তিগত কোনও শত্রুতা বা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা, তা জানার চেষ্টা চলছে। তবে যন্ত্রচালিত করাত নিয়ে একজন যুবক কীভাবে ক্লাসরুম পর্যন্ত পৌঁছে গেল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।
ছাত্রীর চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী
এই নৃশংস ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, 'রাপ্তাদু জেলা পরিষদ হাই স্কুলের ক্লাসরুমের ভিতরে দশম শ্রেণির ছাত্রীর উপর এই বর্বরোচিত হামলায় আমি গভীর ভাবে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ। যারা স্কুলের ভিতরে আমাদের মেয়েদের নিশানা করে, সমাজে তাদের কোনও স্থান নেই। আমি ব্যক্তিগত ভাবে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছি এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছি। এই ঘটনায় দায়ী নরপশুকে খুঁজে বার করে দ্রুত কঠোরতম আইনি শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
হামলার নিন্দায় নারা লোকেশ
সমাজের মধ্যে স্কুলের মতো নিরাপদ জায়গায় এক ছাত্রীর উপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী নারা লোকেশও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের অমানবিক ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি মহিলা ও ছাত্রীর নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
E-Paper

