Manipur NRC-Census Row Update: মণিপুরে আদমশুমারির আগে এনআরসির দাবি, সর্বসম্মত প্রস্তাব বিধানসভায়

প্রস্তাবে ২০২২ সালের ৫ আগস্ট এবং ২০২৪ সালের ১ মার্চ বিধানসভায় গৃহীত একই ধরনের সিদ্ধান্তের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর তোলা প্রস্তাবটি শাসক-বিরোধীর সমর্থনে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। এর ফলে মণিপুরে নাগরিকত্ব ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে রাজ্যের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ফের রাজনৈতিক গুরুত্ব পেল।

Published on: Sep 3, 2026, 11:38:29 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মণিপুরে আসন্ন আদমশুমারির আগে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি করার দাবি জানিয়ে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশ করল রাজ্য বিধানসভা। বুধবার ১২তম মণিপুর বিধানসভার অষ্টম অধিবেশনের সন্ধ্যাকালীন বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী তথা হাউস লিডার ওয়াই খেমচাঁদ সিং এই প্রস্তাব পেশ করেন। রাজ্য ও দেশের স্বার্থে আদমশুমারি শুরুর আগেই মণিপুরে এনআরসি আপডেট করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মণিপুরে আসন্ন আদমশুমারির আগে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি করার দাবি জানিয়ে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশ করল রাজ্য বিধানসভা। ( Vishma Ahanthem)
মণিপুরে আসন্ন আদমশুমারির আগে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি করার দাবি জানিয়ে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশ করল রাজ্য বিধানসভা। ( Vishma Ahanthem)

প্রস্তাবে ২০২২ সালের ৫ আগস্ট এবং ২০২৪ সালের ১ মার্চ বিধানসভায় গৃহীত একই ধরনের সিদ্ধান্তের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর তোলা প্রস্তাবটি শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের সমর্থনে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। এর ফলে মণিপুরে নাগরিকত্ব ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে রাজ্যের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ফের রাজনৈতিক গুরুত্ব পেল।

অন্যদিকে, অধিবেশনে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে ছিল ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের রাজ্য অর্থব্যবস্থা নিয়ে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহাহিসাব নিরীক্ষক বা সিএজি-র রিপোর্ট এবং ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সাধারণ, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজস্ব ক্ষেত্র সংক্রান্ত সিএজি রিপোর্ট। এছাড়াও মণিপুর বেসরকারি স্কুল নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ বিধি, ২০২৪ এবং মণিপুর টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি প্ল্যানিং-এর ষষ্ঠ সংশোধনী অধ্যাদেশ, ২০২৬ বিধানসভায় পেশ করা হয়।

ব্যবসা পরামর্শদাতা কমিটির ২০২৬ সালের রিপোর্টও উপস্থাপন করেন খেমচাঁদ। পাশাপাশি, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের সম্পূরক অনুদানের প্রথম কিস্তির দাবিও বিধানসভায় তোলা হয়। মোট ৩১টি দাবি ও একটি অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন মিলিয়ে এর পরিমাণ ৩,৮৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১২ কোটি টাকা রাজ্যের সংযুক্ত তহবিল থেকে বরাদ্দের জন্য ধার্য করা হয়েছে এবং ৩,৮৪৯ কোটি টাকা বিধানসভার ভোটের মাধ্যমে অনুমোদনের জন্য চাওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্পূরক দাবির প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প, নাবার্ড এবং বহিঃসহায়তা নির্ভর প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর বক্তব্য, এর মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ও বাইরের উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রতি রাজ্য সরকারের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।

অধিবেশনে মণিপুরের নিরাপত্তা ও শান্তি পরিস্থিতিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। কংগ্রেস বিধায়ক কে রঞ্জিত সিংয়ের ‘কলিং অ্যাটেনশন মোশন’-এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কোন্থৌজাম বলেন, রাজ্যের অখণ্ডতা রক্ষায় সরকার ও সাধারণ মানুষের দৃঢ় সংকল্প রয়েছে। ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে কোনও জমি বিনিময় সংক্রান্ত সরকারি রিপোর্ট নেই বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে অধিকাংশ অংশের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন।

আরেকটি ‘কলিং অ্যাটেনশন মোশন’-এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তি ফিরিয়ে আনতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ধর্মীয় ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের এগিয়ে এসে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া আস্থার সংকট দূর করার আবেদন জানান তিনি।

দিনের শেষে মুখ্যমন্ত্রী সাতটি সরকারি বিল এবং উপমুখ্যমন্ত্রী নিমচা কিপগেন একটি বিল পেশ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও মণিপুর ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিস বিল, ২০২৬ বিধানসভায় উত্থাপন করেন। একাধিক প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইন সংস্কার সংক্রান্ত বিল পেশের মধ্য দিয়ে অধিবেশনে সরকারের আইন প্রণয়নের উদ্যোগও স্পষ্ট হয়েছে। পরে বিধানসভা আগামী ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতুবি করা হয়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More