Manipur Violence Latest Update: ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু, ১৪টি ঘরে আগুন! নাগা-কুকি সংঘাতে ফের রক্তাক্ত মণিপুর

পরিস্থিতি সামাল দিতে কড়া পদক্ষেপ করছে প্রশাসন। কামজং জেলায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। অন্য দিকে, কাংপোকপি জেলায় ২৪ ঘণ্টার বন্‌ধের ডাক দিয়েছে কুকি সংগঠন। নতুন করে অশান্তি ছড়ানোয় রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

Published on: Oct 11, 2026, 08:42:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ফের অশান্ত মণিপুর। পাহাড়ি জেলাগুলিতে নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগুনে পুড়েছে ১৪টি ঘর। কোথাও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় গুলির লড়াই, কোথাও গ্রামরক্ষীদের উপর হামলা, আবার কোথাও চলন্ত গাড়িতে থাকা সাধারণ যাত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে মণিপুরের নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কড়া পদক্ষেপ করছে প্রশাসন। কামজং জেলায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। অন্য দিকে, কাংপোকপি জেলায় ২৪ ঘণ্টার বন্‌ধের ডাক দিয়েছে কুকি সংগঠন। নতুন করে অশান্তি ছড়ানোয় রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু, ১৪টি ঘরে আগুন! নাগা-কুকি সংঘাতে ফের রক্তাক্ত মণিপুর (প্রতীকী ছবি) (HT_PRINT)
২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু, ১৪টি ঘরে আগুন! নাগা-কুকি সংঘাতে ফের রক্তাক্ত মণিপুর (প্রতীকী ছবি) (HT_PRINT)

নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পরেই উত্তেজনা

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর রাতে কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে হিংসার সূত্রপাত। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় গুলির লড়াই শুরু হয়। পুলিশের দাবি, এলাকায় বেআইনি বাঙ্কার তৈরির অভিযোগ পেয়ে তা ভাঙতে অভিযান চালানো হয়েছিল। যৌথ বাহিনীতে ছিল মণিপুর পুলিশ, ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটেলিয়ন এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

অভিযানের সময় স্থানীয় কয়েক জন মহিলা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই সময় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পাল্টা গুলি চালায় বাহিনীও। এই সংঘর্ষে ডমখোনেই টৌথাং নামে ৪২ বছরের এক কুকি মহিলার মৃত্যু হয়। তিনি পাঁচ সন্তানের মা ছিলেন।

এর পরেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের সদস্যদের অন্তত ১৪টি ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। চাসাদ থানায় আগুন লাগানোর চেষ্টাও হয়। থানার কাছে কয়েকটি কাঠের দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গ্রামরক্ষীদের উপর হামলা, গুলিতে মৃত সাধারণ যাত্রী

শনিবার সকালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। কামজং জেলার মাকুই গ্রামে হামলায় তিন নাগা গ্রামরক্ষীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। তাঁদের হত্যার পিছনে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সেই অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়।

একই জেলায় নিংচৌ চিংডং গ্রামে আরও দুই নাগা গ্রামরক্ষীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। তাঁদের নাম নাগাচানসো নিংশেন এবং লেইশিশান হুংয়ো। সীমান্তের ওপার থেকে আসা সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সরকারি ভাবে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি।

কাংপোকপি জেলাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাপোন গ্রামে নাগা গ্রামরক্ষীদের উপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। সেখানে এক জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও দু'জন।

অন্য দিকে, উখরুল জেলায় জাতীয় সড়ক ২০২-এর কাছে গুলিতে মৃত্যু হয়েছে সন্দীপ রাই নামে ৩০ বছরের এক সাধারণ যাত্রীর। গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে পুলিশের দাবি। কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।

বন্‌ধ, নিষেধাজ্ঞা, শান্তি ফেরানোর চেষ্টা

নতুন করে হিংসা ছড়ানোয় কামজং জেলার চাসাদ থানার ৪০০ মিটারের মধ্যে জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। কুকি সংগঠন কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি কাংপোকপি জেলায় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টার বন্‌ধের ডাক দিয়েছে। একের পর এক হামলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংহ। রাজ্যে শান্তি ফেরানোর জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানান তিনি। রাজ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন মোদী।

সব মিলিয়ে, মণিপুরে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা সত্ত্বেও নতুন করে প্রাণহানি ও অগ্নিসংযোগ রাজ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একের পর এক হামলার ঘটনায় আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। এখন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, নতুন করে হিংসা ছড়ানো আটকানো এবং নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ফেরানো।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More