বাস্কেটবল পোল, পুল-আপ! মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাডেটের মর্মান্তিক পরিণতি, হুলুস্থূল...
বিশাল ভার্মার লিঙ্কডইন অ্যাকাউন্ট অনুযায়ী, তিনি উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি পুনের ওই প্রতিষ্ঠানে বি.টেক কোর্সে ভর্তি হন।
সাত সকালে পুনের একটি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বাস্কেটবলের পোল মাথায় পড়ে ২০ বছরের এক পড়ুয়ার মৃত্যুতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের পুনেতে অবস্থিত তোলানি মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে। মৃত ছাত্রের নাম বিশাল ভার্মা। তিনি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কলেজ ক্যাম্পাসেই। নিয়মিত সকালে হাঁটতেন , শরীর চর্চা করতেন ওই ছাত্র। রবিবার তিনি বাস্কেটবল পোস্টের রিং ধরে পুল-আপ করছিলেন। সেই সময়ে আচমকাই পুরো বাস্কেটবল পোস্টটি ভেঙে তাঁর উপরে পড়ে যায়। ভারী লোহার কাঠামোটি সরাসরি তাঁর মাথায় পড়ায় গুরুতর আহত হন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাস্কেটবল পোলের আঘাতে বিশালের গোটা শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। ক্যাম্পাসের কর্মী ও সহপাঠীরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গুরুতর মাথার চোটের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকেরা।
বিশাল ভার্মার লিঙ্কডইন অ্যাকাউন্ট অনুযায়ী, তিনি উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি পুনের ওই প্রতিষ্ঠানে বি.টেক কোর্সে ভর্তি হন। চর বছর পর, ২০২৮ তাঁর কোর্স শেষ হওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে, এই আকস্মিক ঘটনায় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে। তোলানি মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল ডঃ সঞ্জিত কানুনগো ঘটনাটিকে 'অত্যন্ত মর্মান্তিক' বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বাস্কেটবল পোস্টের রিং ধরে পুল-আপ করার চেষ্টা করছিলেন, তখন পুরো কাঠামোটি তাঁর উপর ভেঙে পড়ে। যার জেরে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। কী ভাবে এমন গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটল, তা আমরা তদন্ত করে দেখব।' প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ অনুমান করছে, বাস্কেটবল পোস্টে ভিত দুর্বল ছিল অথবা যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ফ্রেমে মরচে পড়ে বা ফিটিংসে সমস্যার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ইন্সপেক্টর সন্তোষ পাটিল বলেছেন, এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত জারি রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এবং কী ভাবে এমন গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মাত্র পাঁচ মাস আগেই হরিয়ানার রোহতকে ১৬ বছর বয়সি এক ন্যাশনাল লেভেল বাস্কেটবল প্লেয়ার একই ভাবে প্রাণ হারান। অনুশীলনের সময় বাস্কেটবল পোল পড়ে গিয়েছিল তাঁর মাথায়। এর আগে, হরিয়ানার বাহাদুরগড় জেলায় একই ধরনের একটি ঘটনায় ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছিল। সর্বশেষ পুনের ঘটনা আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিকাঠামোগত নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।
E-Paper

