Iran-US: অবশেষে সুখবর! ৩০ দিনের মধ্যেই যুদ্ধের পূর্বাবস্থায় ফিরবে হরমুজ প্রণালী, বড় দাবি ইরানের

Iran-US: ইরান দাবি করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি ৩০ দিনের মধ্যে তুলে নিতে হবে এবং প্রথম ধাপেই ইরানের জব্দ হওয়া অর্থের একটি অংশ মুক্ত করতে হবে।

Published on: May 24, 2026, 19:50:44 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Iran-US: পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মাঝেই এবার বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পথে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র? চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সম্ভাব্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ওয়াশিংটন এবং তেহরান, এমনই দাবি করা হয়েছে একাধিক রিপোর্টে। ইতিমধ্যে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের পূর্বাবস্থায় ফিরতে পারে।

৩০ দিনের মধ্যেই যুদ্ধের পূর্বাবস্থায় ফিরবে হরমুজ প্রণালী : ইরান (AFP)
৩০ দিনের মধ্যেই যুদ্ধের পূর্বাবস্থায় ফিরবে হরমুজ প্রণালী : ইরান (AFP)

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তি অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে স্ট্রেইট অফ হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়াও ইরান দাবি করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি ৩০ দিনের মধ্যে তুলে নিতে হবে এবং প্রথম ধাপেই ইরানের জব্দ হওয়া অর্থের একটি অংশ মুক্ত করতে হবে। যদিও পারমাণবিক ইস্যু-সহ এক বা দুইটি শর্ত নিয়ে এখনও মতভেদ রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেছে, এই প্রাথমিক চুক্তিতে পারমাণবিক বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়। দুই পক্ষের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, তাতে উভয় পক্ষের ছাড় অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এটি সম্ভবত আরও ৬০ দিনের জন্য বর্ধিত করা হতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই জলপথের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলির উপর নৌ অবরোধ জারি করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ দ্রুত বদলে গেছে। আর এই সংঘাতের সরাসরি কোপ পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর। নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের জেরে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই জলপথে নৌ-চলাচল এক ধাক্কায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তখন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫ থেকে ১৪০টি ছোট-বড় বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করত। বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হতো এই জলপথকে। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হতেই সেই চেনা ছবিটা পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমানে এই জলপথটির ওপর ইরানের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আগের চেয়ে বহুগুণ কড়া হয়েছে। এর পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনও পাল্টা চাল হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোর সঙ্গে যুক্ত বা বাণিজ্য করা সমস্ত আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে।