ফ্রিজ-ট্রলি ব্যাগে টুকরো দেহাংশ! স্ত্রী বেরোতেই প্রেমিকাককে ডেকে নৃশংস খুন নৌবাহিনীর কর্মীর
সপ্তাহ দুয়েক আগে রবীন্দ্রর স্ত্রী ভিজিয়ানাগরমে তাঁর বাপের বাড়িতে চলে যান। আর সেই সুযোগে রবিবার দুপুরে মৌনিকাকে নিজের বাড়িতে ডাকেন রবীন্দ্র।
আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়, সেখান থেকেই ঘনিষ্ঠতা। কিন্তু সেই সম্পর্কের পরিণতি যে এমন নৃশংস হতে পারে, তা ভাবলে শিউরে উঠছে গোটা দেশ। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে স্ত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেই প্রেমিকাকে ডেকে খুনের পর তাঁর দেহ তিন টুকরো করে ফ্রিজ ও খাটের তলায় লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠল ভারতীয় নৌবাহিনীর এক কর্মীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই কর্মীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বিশাখাপত্তনমের গাজুওয়াকা এলাকার এলভি নগরের একটি বাড়িতে। ধৃত যুবকের নাম চিন্তাদা রবীন্দ্র (৩০)। তিনি ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘আইএনএস দেগা’-তে টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত। গত প্রায় দু’বছর ধরে গজুবাকা এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি। ২০২১ সালে 'মিঙ্গল' নামক একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ৩১ বছর বয়সি পোলিপল্লি মৌনিকার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। রবীন্দ্র বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও মৌনিকার সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিচয়ের পর পার্ক, থিয়েটার-সহ বিশাখাপত্তনমের বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা দেখা সাক্ষাৎ করতেন। ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁদের মধ্যে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে রবীন্দ্রর স্ত্রী ভিজিয়ানাগরমে তাঁর বাপের বাড়িতে চলে যান। আর সেই সুযোগে রবিবার দুপুরে মৌনিকাকে নিজের বাড়িতে ডাকেন রবীন্দ্র। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে দুজনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। মেজাজ হারিয়ে রবীন্দ্র মৌনিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন বলে অভিযোগ। খুনের পর অপরাধ ঢাকতে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ছক কষেন ওই নৌকর্মী। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের পর রবীন্দ্র অনলাইনে একটি ছুরি অর্ডার করেন। সেই ছুরি দিয়ে তিনি মৌনিকার দেহ টুকরো টুকরো করেন। ধড় থেকে মাথা, পা ও হাত আলাদা করে ফেলা হয়। এরপর পা ও কোমর একটি ট্রলি ব্যাগে ভরে রাখা হয়। ধড়টি ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয়। মাথা ও হাত অন্য কোনও স্থানে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠেছে রবীন্দ্রর বিরুদ্ধে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত নিজেই হেঁটে স্থানীয় একটি থানায় গিয়ে অপরাধের কথা স্বীকার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, তাদের সম্পর্কের সময় মৌনিকা রবীন্দ্রর কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন বলে দাবি করছেন অভিযুক্ত। এছাড়া মৌনিকা প্রায়ই রবীন্দ্রর স্ত্রীর কাছে তাদের প্রেমের সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিতেন বলে অভিযোগ। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। রবিবার অশান্তির সময় উত্তেজিত হয়ে রবীন্দ্র এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০২৪ সালে রবীন্দ্র অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করার পর থেকে মৌনিকার হয়রানি ও হুমকিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই খুনের পরিকল্পনা করছিলেন রবীন্দ্র। অন্যদিকে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্রিজ ও বাড়ির ভেতর থেকে দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করেছে। তবে মৌনিকার মাথা এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত মাথাটি অন্য কোথাও ফেলে দিয়েছে বা পুড়িয়ে ফেলেছেন। নিখোঁজ দেহাংশ উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে একটি খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত রবীন্দ্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দেহাংশ উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে।
শ্রদ্ধা ওয়াকারকে নৃশংস খুন
এই ঘটনাটি ২০২২ সালের ১৮ মে দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি উস্কে দিয়েছে। দিল্লিতে লিভ-ইন পার্টনার আফতাব আমিন পুনাওয়ালা শ্রদ্ধা ওয়াকারকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর দেহ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে কয়েক দিন ধরে দেহের টুকরোগুলো রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেন তিনি।
E-Paper

