‘মোদী-বিরোধী মার্কিনিরা টাকা দিচ্ছে সিজেপিকে’, বিস্ফোরক দাবি মেরি মিলবেনের!

মার্কিন গায়কের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরোধী কিছু মার্কিন দাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন এই সংগঠনকে টাকা জোগাচ্ছেন। সেই অর্থ ব্যবহার করে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মকে সিজেপির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সংগঠিত করার ডাক দিয়েছেন মেরি।

Published on: Oct 14, 2026, 15:00:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ভারতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরোধিতায় কি আমেরিকা থেকে আর্থিক মদত পাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)? এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরোধী কিছু মার্কিন দাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন এই সংগঠনকে টাকা জোগাচ্ছেন। সেই অর্থ ব্যবহার করে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মকে সিজেপির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সংগঠিত করার ডাক দিয়েছেন মেরি। তবে বিদেশি অর্থসাহায্যের এই অভিযোগের সমর্থনে প্রকাশ্যে কোনও প্রমাণ দেননি তিনি। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎও আগেই বিদেশি অর্থ পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে সংগঠনটির অর্থের উৎস।

In a post on X, American singer Mary Millben wrote, “This is not the time to be silent"
In a post on X, American singer Mary Millben wrote, “This is not the time to be silent"

কী বলেছেন মার্কিন গায়িকা?

বুধবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে মেরি লেখেন, এখন আর চুপ করে থাকার সময় নেই। ভারতের তরুণ দেশপ্রেমীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, মোদী-বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে। তাঁর অভিযোগ, আমেরিকার কিছু দাতা বিশ্বজুড়ে রক্ষণশীল নেতাদের নিশানা করেন। তার পর সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে আমেরিকায় পড়াশোনা করা ব্যক্তিদের বেছে নিয়ে তাঁদের প্রভাবিত করা হয়। দেশে ফেরার পরে তাঁদের মাধ্যমে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা চলে বলে দাবি মেরির।

সিজেপি এবং অভিজিৎ দীপকের নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, এই সংগঠনও সেই ধরনের অর্থসাহায্য পাচ্ছে। তবে তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে কোনও নথি বা আর্থিক লেনদেনের বিবরণ প্রকাশ্যে আসেনি।

মেরির মতে, দেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা এবং পড়াশোনা করা তরুণদেরই এই ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতার মোকাবিলা করতে হবে। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় পাল্টা আন্দোলন গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।

মোদীর পাশে আগেও সরব হয়েছেন মেরি

ভারতের জাতীয় সংগীত এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের সূত্রে এ দেশে পরিচিতি পেয়েছেন মেরি মিলবেন। ২০২৩ সালে আমেরিকায় মোদীর সফরের সময়ও তিনি ভারতের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেছিলেন। এর আগেও একাধিক বার প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন মার্কিন গায়িকা।

সম্প্রতি মোদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রশংসা করে তাঁকে ‘ভারতীয় স্বপ্নের উজ্জ্বল প্রতীক’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। ফলে সিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর সাম্প্রতিক আক্রমণকে মোদী সরকারের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের ধারাবাহিকতা হিসাবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

অর্থের উৎস নিয়ে পাল্টা দাবি দীপকের

সিজেপির অর্থের উৎস নিয়ে অবশ্য আগেও প্রশ্ন উঠেছে। অভিজিৎ দীপকের আমেরিকায় পড়াশোনার খরচ এবং সংগঠনের আন্দোলন চালানোর অর্থ কোথা থেকে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কয়েক জন। এর জবাবে দীপকে জানিয়েছেন, তাঁর পড়াশোনার খরচ মিটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি ও শিক্ষাঋণের মাধ্যমে।

চলতি মাসের ১০ তারিখে এক সাক্ষাৎকারে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা আরও দাবি করেন, সংগঠনের কাজ চালাতে তিনি নিজে এবং তাঁর বন্ধুরা টাকা জোগাড় করেন। ভবিষ্যতে সংস্থার নিবন্ধন সম্পূর্ণ হলে অনলাইনে গণ-অর্থসংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। বড় কোনও শিল্পপতির কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার কথাও অস্বীকার করেন দীপকে।

জেলে সিজেপির দুই নেতা

এমন পরিস্থিতিতেই দিল্লিতে সিজেপির আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢুকে পড়া এবং শান্তি বজায় রাখার মুচলেকার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌরভ দাস ও অশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের তিহাড় জেলে রাখা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, মঙ্গলবার ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন সিজেপি সদস্যেরা। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁদের এই আন্দোলন।

এক দিকে সিজেপির বিদেশি অর্থসাহায্য নিয়ে অভিযোগ, অন্য দিকে সংগঠনের নেতাদের গ্রেফতারি—দুইয়ের জেরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। তবে মেরির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে স্বাধীন তদন্ত বা আর্থিক নথি সামনে না আসা পর্যন্ত মার্কিন দাতাদের অর্থ জোগানোর দাবিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসাবে দেখার অবকাশ নেই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More