ইউরোপেও যুদ্ধের আঁচ! নরওয়ে-তে মার্কিন দূতাবাসের তীব্র বিস্ফোরণ, নেপথ্যে...
স্থানীয় সময় রবিবার রাত ১টা নাগাদ অসলোর পশ্চিমাংশে ওই মার্কিন দূতাবাস কম্পাউন্ড থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় আর সেখান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে।
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে তীব্র বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার ভোরে এই বিস্ফোরণে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটল এবং কারা এ জন্য দায়ী-তা উল্লেখ করা হয়নি বিবৃতিতে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসলো পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টা নাগাদ মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। তবে, বিস্ফোরণের কারণ বা এর পেছনে কারা জড়িত সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই।ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও জরুরি পরিষেবা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় তারা মার্কিন দূতাবাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। বর্তমানে ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাসগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কয়েকটি দূতাবাসে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে নরওয়ের মার্কিন দূতাবাসের কাছে বিস্ফোরণের সঙ্গে এই যুদ্ধের কোনও যোগ আছে কিনা, সে সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি অসলো পুলিশের কোনও কর্মকর্তা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রবিবার রাত ১টা নাগাদ অসলোর পশ্চিমাংশে ওই মার্কিন দূতাবাস কম্পাউন্ড থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় আর সেখান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। ঘটনার সময় মার্কিন দূতাবাসের পাশের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন হাইস্কুলের পড়ুয়া সেবাস্তিয়ান টরস্টাড (১৮)। তিনি বলেছেন, 'রাস্তায় ধোঁয়ার খুব ঘন একটা আস্তরণ ছিল। দূতাবাসের প্রবেশপথ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।' অসলোর পুলিশ জানিয়েছে, দূতাবাসের কন্স্যুলার বিভাগের প্রবেশপথে বিস্ফোরণটি ঘটে। ঘটনাস্থলে আর কোনও বিস্ফোরক ডিভাইস পাওয়া যায়নি। পরে পুরো শরীর সাদা পোশাকে ঢাকা পুলিশের দুই টেকনিশিয়ানকে ঘটনাস্থলে কাজ করতে দেখা যায়। এক বিবৃতিতে অসলোর পুলিশ বিভাগ বলেছে, 'কুকুর, ড্রোন ও হেলিকপ্টারের সাহায্য নিয়ে ঘটনাস্থলে তদন্ত চালানো হয়েছে। এক বা একাধিক সন্দেহভাজন অপরাধীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।'
রয়টার্স জানিয়েছে, দৈনিক দপ্তরিক সময়ের বাইরে তাদের জানানো মন্তব্যের অনুরোধে দূতাবাসটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল আক্রমণ শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে মার্কিন দূতাবাস আক্রান্ত হয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউরোপে কোনও মার্কিন দূতাবাসে বিস্ফোরণের এটিই সম্ভবত প্রথম ঘটনা।
E-Paper











