MEA on India-Israel Pact Rumour: পাক-সৌদি-তুরস্কের চুক্তির জবাবে ইজরায়েল-ভারতের ‘ডিফেন্স প্যাক্ট’? কী বলল বিদেশমন্ত্রক

ভাইরাল হওয়া দাবিটির সূত্র ছিল তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ‘স্ট্র্যাটর্কা’-র একটি প্রতিবেদন। সেখানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পাকিস্তানি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা জোটকে মোকাবিলা করার জন্য ভারত ইজরায়েলের কাছে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে।

Published on: Aug 8, 2026, 10:14:04 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে নতুন ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে যখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে, তখনই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি। বলা হয়, এই চুক্তির পাল্টা হিসেবে ভারত নাকি ইজরায়েলের সঙ্গে একটি ‘ডিফেন্স প্যাক্ট’ বা প্রতিরক্ষা চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সেই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করে দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। তুরস্কের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টকে কেন্দ্র করেই এই গুজব ছড়িয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

সম্প্রতি দাবি করা হয়, ভারত নাকি ইজরায়েলের সঙ্গে একটি ‘ডিফেন্স প্যাক্ট’ বা প্রতিরক্ষা চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে।
সম্প্রতি দাবি করা হয়, ভারত নাকি ইজরায়েলের সঙ্গে একটি ‘ডিফেন্স প্যাক্ট’ বা প্রতিরক্ষা চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া দাবিটির সূত্র ছিল তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ‘স্ট্র্যাটর্কা’-র একটি প্রতিবেদন। সেখানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পাকিস্তানি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা জোটকে মোকাবিলা করার জন্য ভারত ইজরায়েলের কাছে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। সমাজমাধ্যমে প্রতিবেদনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

এর পরই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের ফ্যাক্ট-চেক শাখা। ‘এক্স’-এ ওই তুর্কি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে সেটিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে চিহ্নিত করা হয়। বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন বিভ্রান্তিকর পোস্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে ভুয়ো কনটেন্ট তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও সতর্ক করেছে মন্ত্রক।

এই ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরের পর। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, তিন দেশের মধ্যে যৌথ নিরাপত্তা এবং সামরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করাই এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের কোনও একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে তা তিনটি দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই চুক্তিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা মহলে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বা মুসলিম দেশগুলির ন্যাটো-ধাঁচের জোট তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই ধরনের অভিহিতকরণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান আলাদা বিষয়, চুক্তিটি যে তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

ভারতও গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তির যাবতীয় দিক ভারত খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে।

এরই মধ্যে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক নিয়ে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ফোনে কথা হয়েছে। তবে এই কথোপকথনকে কোনও নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার কোনও ভিত্তি নেই বলে বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট করেছে।

রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ফোনটি ইজরায়েলের পক্ষ থেকেই করা হয়েছিল। দুই রাষ্ট্রনেতা ভারত ও ইজরায়েলের ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

ফলে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তির জবাবে ভারত-ইজরায়েল নতুন কোনও ‘ডিফেন্স প্যাক্ট’-এর উদ্যোগ নিয়েছে- সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই দাবি আপাতত সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত-ইজরায়েলের কৌশলগত সম্পর্ক অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সাম্প্রতিক ফোনালাপকে নতুন কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তির উদ্যোগ হিসেবে দেখার কোনও সরকারি ভিত্তি নেই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More