MEA on World Leaders' Illness after BRICS: ব্রিকস সম্মেলনের পর বিশ্বনেতারা একের পর এক অসুস্থ? কী জানাল বিদেশ মন্ত্রক
বিদেশ মন্ত্রকের ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিটের তরফে লেখা হয়েছে, “ফেক অ্যালার্ট।” একই সঙ্গে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের “ক্ষতিকর” পোস্ট সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে ব্রিকস সম্মেলনের পর একাধিক রাষ্ট্রনেতার অসুস্থতার খবর নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে সরকারি ভাবে স্পষ্ট অবস্থান সামনে এল।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর একাধিক বিশ্বনেতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন—সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন খবরকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার মন্ত্রকের ফ্যাক্ট-চেকিং শাখা এক্স-এ পোস্ট করে জানায়, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বিদেশ মন্ত্রকের ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিটের তরফে লেখা হয়েছে, “ফেক অ্যালার্ট।” একই সঙ্গে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের “ক্ষতিকর” পোস্ট সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে ব্রিকস সম্মেলনের পর একাধিক রাষ্ট্রনেতার অসুস্থতার খবর নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে সরকারি ভাবে স্পষ্ট অবস্থান সামনে এল।
বিদেশ মন্ত্রকের এই বক্তব্যের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামফোসার দফতর জানিয়েছিল, তিনি অসুস্থতার কারণে আপাতত সরকারি ও জনসংযোগমূলক কর্মসূচি থেকে বিরতি নিয়েছেন। ৭৩ বছর বয়সি প্রেসিডেন্টকে চিকিৎসকেরা বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানানো হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের দফতর জানিয়েছে, রামফোসা সোমবার ব্রিকস সম্মেলন থেকে দেশে ফেরেন। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে রয়েছেন। সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা তাঁর হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
রামফোসার অনুপস্থিতির সময় দক্ষিণ আফ্রিকার ডেপুটি প্রেসিডেন্ট পল মাশাতিলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক কাজে ফিরতে পারেননি। তিনি একটি ছোট অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনিও বিশ্রামে আছেন। ফলে দেশের শীর্ষ দুই নেতারই একসঙ্গে জনসমক্ষে অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
মাশাতিলে জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকবেন। তবে তাঁর দফতর এবং সরকারের বিভিন্ন স্তরে কাজ ও দায়িত্ব স্বাভাবিক ভাবেই চালু রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এর মধ্যেই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে নিয়েও নানা দাবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি অপ্রমাণিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, শি জিনপিং চিকিৎসাজনিত কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্রিকস সম্মেলন থেকে ফিরে যান এবং বিশেষ বিমানে চিনে রওনা দেন। এমনকি তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের দাবিও ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে এই খবরগুলির কোনও স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় ব্রিকস সম্মেলন। এবারের সম্মেলনে ১১ সদস্যের এই জোটের দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন।
সম্মেলন শেষে প্রকাশিত নয়াদিল্লি ঘোষণায় পরমাণু সংঘাতের বাড়তে থাকা ঝুঁকি এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলা সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আন্তর্জাতিক বিরোধ মেটাতে আলোচনা, কূটনীতি এবং পরামর্শের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেও মত দেয় ব্রিকস।
এছাড়াও আমেরিকার শুল্কনীতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গও ঘোষণাপত্রে উঠে আসে। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন একতরফা শাস্তিমূলক, বৈষম্যমূলক ও সুরক্ষাবাদী পদক্ষেপের বিরোধিতা করে ব্রিকস সদস্য দেশগুলি। জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর এমন পদক্ষেপের নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনের পর বিশ্বনেতাদের অসুস্থতা নিয়ে সমাজমাধ্যমে যে নানা দাবি ছড়িয়েছে, তার মধ্যে অন্তত শি জিনপিংকে ঘিরে ছড়ানো খবরের কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই। আর রামফোসার অসুস্থতার খবর তাঁর দফতর জানিয়েছে ঠিকই, তবে সেটিকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য দাবির সঙ্গে সরকারি তথ্যকে এক করে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


