ভারত কি মায়ানমারের সঙ্গে এলাকা অদল বদল করবে? মুখ খুলল দিল্লি

সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘সীমান্তের কিছু এলাকা রয়েছে যেগুলোর বিষয়ে এখনও কোনও সুরাহা হয়নি। ওই সব এলাকা নিয়ে আলোচনা চলছে।’

Published on: Aug 5, 2026, 17:49:38 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মণিপুর সংলগ্ন এলাকায় যৌথ সীমান্তের কয়েক দশকের পুরনো সীমানা-নির্ধারণহীন অংশ নিয়ে মীমাংসার লক্ষ্যে সম্ভাব্য ভূখণ্ড বিনিময় দীর্ঘদিনের আলোচনার মধ্যে রয়েছে, বলে খবর। এই বিষয়ে নয়া দিল্লিতে বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অবস্থান স্পষ্ট করল দিল্লি।

ভারত কি মায়ানমারের সঙ্গে এলাকা অদলবদল করবে? মুখ খুলল দিল্লি
ভারত কি মায়ানমারের সঙ্গে এলাকা অদলবদল করবে? মুখ খুলল দিল্লি

সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘সীমান্তের কিছু এলাকা রয়েছে যেগুলোর বিষয়ে এখনও কোনও সুরাহা হয়নি। ওই সব এলাকা নিয়ে আলোচনা চলছে।’ প্রসঙ্গত, বেশ কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে,ভারত মণিপুর সীমান্তে মিয়ানমারের সঙ্গে ভূখণ্ড বিনিময়ের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এই তথ্য কতটা ঠিক বা ভুল, তা নিয়ে দিল্লির তরফে নিশ্চিতভাবে কোনও তথ্য উঠে আসেনি। আমেরিকার ম্যাগাজিন, দ্য ডিপ্লোম্যাট কিছুদিন আগে দাবি করেছিল, ভারত সরকার মায়ানমারের সাথে মণিপুরের সীমান্তে ৬৫ ও ৬৮ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রায় ১.৪ বর্গমাইল ভূখণ্ড বিনিময়ের একটি ‘প্রস্তাব’ পর্যালোচনা করে। ৬৫ ও ৬৮ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় ২.৮ কিলোমিটার। বিনিময়ের জন্য প্রস্তাবিত এলাকাটি মণিপুরের চান্দেল জেলায় অবস্থিত, যা মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের কাবাউ উপত্যকার সংলগ্ন। ২৬ মে, ২০২৬ তারিখের ‘সরকারি নথিপত্র’ অনুযায়ী, সীমানা নির্ধারণের কাজ তিন মাসের মধ্যে,অর্থাৎ আগস্ট নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ওই ম্যাগাজিনের রিপোর্ট সামনে আসার পরই এই বিষয়ে প্রশ্ন যায় বিদেশমন্ত্রকের কাছে। সাংবাদিকদের সেই প্রশ্নের উত্তরে দিল্লি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, এটি অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও মিজোরামের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চল ও চিন রাজ্যে প্রবেশ করেছে। এই সীমান্তের বড় একটি অংশই পাহাড়ি, বনাচ্ছাদিত ও উন্মুক্ত হলেও রয়েছে কিছু ছিদ্র জাতীয় এলাকা। এটি এমন সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্য দিয়ে গেছে যাঁরা ঐতিহাসিকভাবেই সীমান্তের উভয় পাশে বসবাস করে আসছেন। মূলত, মণিপুরের কাবাউ উপত্যকা ও অরুণাচলের লোহিত এলাকা ঘিরে এই নির্ধারণ-হীন এলাকা রয়েছে বলে খবর। এই এলাকায় মায়ানমারের সঙ্গে থাকা ১৭১ কিলোমিটার সীমান্ত নিয়ে কোনও সুরাহা এখনও পর্যন্ত বের হয়নি বলে খবর।

'দ্য ডিপ্লোম্যাট'-এর তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ভূখণ্ড বিনিময়ের মূল উদ্দেশ্য হল, ভারত-মায়ানমার সীমান্তের অমীমাংসিত অংশের সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা। এর ফলে অবৈধ অভিবাসন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলাচল এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ রুখতে নয়াদিল্লি ওই সীমান্তে বেড়া নির্মাণ করতে সক্ষম হবে। এদিকে, 'ইম্ফল টাইমস'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ‘কোঅর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টিগ্রিটি’ ভারত সরকারকে রাজ্যের ভূখণ্ডের সামান্য অংশও মায়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে যে, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তারা তীব্র গণ-প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলবে। প্রসঙ্গত, জাতি দাঙ্গায় সম্প্রতি মণিপুর কীভাবে জ্বলে উঠেছিল, তা দেখেছে গোটা দেশ। এরপর এই সতর্কবাণীও বেশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।

  • Sritama Mitra
    ABOUT THE AUTHOR
    Sritama Mitra

    শ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More