MH-60R Seahawk: ভারতীয় নৌবাহিনীতে শামিল ‘সিহক’ কপ্টার, আসছে আরও ২! চিনের ওপর নজরদারিতে কেন ট্রাম্প কার্ড এই যুদ্ধবিমান?

MH-60R Seahawk: ওয়াশিংটন ও নয়া দিল্লির মধ্যে এই কৌশলগত সামরিক অগ্রগতিকে 'চমৎকার খবর' বলে আখ্যা দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তাঁর মতে, এই অত্যাধুনিক সামরিক প্ল্যাটফর্মটি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তুলবে।

Published on: Jul 17, 2026, 21:00:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

MH-60R Seahawk: আগামী দিনে ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি আরও বাড়তে চলেছে। ভারতীয় নৌবাহিনী এখন সাগরের নিচে ডুবোজাহাজ অনুসন্ধান ও ধ্বংস করতে পারবে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়া প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও একধাপ মজবুত করে ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হলো আরও একটি শক্তিশালী ‘এমএইচ-৬০আর সিহক’ হেলিকপ্টার।

ভারতীয় নৌবাহিনীতে শামিল ‘সিহক’ কপ্টার
ভারতীয় নৌবাহিনীতে শামিল ‘সিহক’ কপ্টার

ওয়াশিংটন ও নয়া দিল্লির মধ্যে এই কৌশলগত সামরিক অগ্রগতিকে 'চমৎকার খবর' বলে আখ্যা দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তাঁর মতে, এই অত্যাধুনিক সামরিক প্ল্যাটফর্মটি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তুলবে। ভারতের মার্কিন দূতাবাস শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কেরলের কোচিতে এই অত্যাধুনিক ‘এমএইচ-৬০আর সিহক’ হেলিকপ্টারটি ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে সফলভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই সিরিজের আরও দুটি হেলিকপ্টার ভারতের মাটিতে এসে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ভাগ করে নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর লিখেছেন, 'আমাদের ক্রমবর্ধমান মার্কিন-ভারত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের জন্য এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি খবর! এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা আমাদের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে জোরদার করছে এবং একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতিকে আরও সুদৃঢ় করছে দেখে অত্যন্ত ভালো লাগছে।' মার্কিন লকহিড মার্টিন সংস্থার তৈরি এই কপ্টারটি নিয়ে ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও এক্স হ্যান্ডেলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছে, 'ভারতীয় উপকূলে স্পর্শ করল আরও একটি এমএইচ-৬০আর সিহক নৌ-হেলিকপ্টার! লকহিড মার্টিনের তৈরি করা সমস্ত রকম আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও সেন্সরে সুসজ্জিত এই হেলিকপ্টারটি গত সপ্তাহে কোচিতে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে আরও দুটি এসে পৌঁছাচ্ছে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিরক্ষা বন্ধন দিন দিন আরও শক্তিশালী হতে দেখে আমরা রোমাঞ্চিত।'

‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিখুঁত অপারেশন

ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির অংশ হিসেবে ভারতে একের পর এক এসে পৌঁছাচ্ছে অত্যাধুনিক ‘এমএইচ-৬০আর সিহক’ হেলিকপ্টার। আর এরই মধ্যে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ এই কপ্টারগুলির অভাবনীয় ও সফল কার্যকারিতার কথা প্রকাশ্যে এল। সংবাদসংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এই কপ্টারগুলি অভিযানে ঠিক যে ভূমিকা নেওয়ার কথা ছিল, তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পালন করেছে। ২০২০ সালে ভারতের নৌ-হেলিকপ্টার বহরকে ঢেলে সাজাতে মার্কিন ‘ফরেন মিলিটারি সেলস' (এফএমএস) কর্মসূচির অধীনে ২৪টি মাল্টি-রোল বা বহুমুখী যুদ্ধক্ষমতা সম্পন্ন এমএইচ-৬০আর সিহক হেলিকপ্টার কেনার জন্য একটি মেগা চুক্তি সই করেছিল ভারত। এরপর ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কেরলের কোচিতে অবস্থিত ‘আইএনএস গরুড়’ ঘাঁটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হেলিকপ্টারগুলিকে নৌবাহিনীতে শামিল করা হয়।

এই সিহক কপ্টার বহরের দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ, সার্বিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং লজিস্টিক সাপোর্ট বা রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আরও একটি বড় পদক্ষেপ নেয় ভারত। মার্কিন লকহিড মার্টিন সংস্থার তৈরি এই কপ্টারগুলির জন্য প্রায় ৭,৯৯৫ কোটি টাকার (প্রায় ৯৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) একটি বিশাল ‘সস্টেইনমেন্ট প্যাকেজ’-এ সবুজ সংকেত দেয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই চুক্তি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ কার্যক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বছর এই হেলিকপ্টারগুলির দ্বিতীয় স্কোয়াড্রন উদ্বোধনের সময় তৎকালীন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কে ত্রিপাঠী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন এই কপ্টারগুলিকে মোতায়েন করা হয়েছিল এবং সেগুলি অত্যন্ত সফলভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে। এই সামরিক প্ল্যাটফর্মটিকে 'অত্যন্ত শক্তিশালী' এবং 'সুপ্রতিষ্ঠিত' বলে বর্ণনা করে নৌপ্রধান বলেন, 'এমএইচ-৬০আর একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রমাণিত প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে ২৪টি এমএইচ-৬০আর কপ্টার অন্তর্ভুক্তির জন্য আমরা এই চুক্তিটি করেছিলাম।' সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন একাধিক মিশনে এই এমএইচ-৬০আর সিহক হেলিকপ্টার ইতিমধ্যেই তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।