Miami Airport Plane Accident: মায়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ৫
জানা গিয়েছে, বিমানটি Prime Air Flight 7598 হিসেবে পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে মায়ামির উদ্দেশে আসছিল। স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ২টা নাগাদ অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে অতিক্রম করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পরে সেটি রানওয়ের পাশের সড়কে উঠে গিয়ে সেখানে পার্ক করা গাড়িগুলিতে আছড়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত আরও তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। অ্যামাজনের কার্গো পরিষেবায় ব্যবহৃত একটি Boeing 767 বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে বিমানবন্দরের পাশের একটি সড়কে থাকা একাধিক গাড়িতে ধাক্কা মারে। এরপর বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার জেরে মায়ামি বিমানবন্দরে বেশ কয়েক ঘণ্টা বিমান চলাচল ব্যাহত হয়।

জানা গিয়েছে, বিমানটি Prime Air Flight 7598 হিসেবে পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে মায়ামির উদ্দেশে আসছিল। স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ২টা নাগাদ অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে অতিক্রম করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পরে সেটি রানওয়ের পাশের সড়কে উঠে গিয়ে সেখানে পার্ক করা গাড়িগুলিতে আছড়ে পড়ে। ওই সড়কটি বিমানবন্দরের আশপাশের গুদাম ও অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ব্যবহার করেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নীল-সাদা রঙের Boeing 767 বিমানটি রানওয়ের শেষপ্রান্ত পেরিয়ে পাশের দিকে চলে যাচ্ছে। এরপর সেটি আছড়ে পড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ির উপর। সংঘর্ষের পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বিপুল সংখ্যক দমকল ও উদ্ধারকারী দল।
মিয়ামি-ডেড কাউন্টির ফায়ার চিফ রে জাদাল্লাহ জানিয়েছেন, বিমানটি কয়েকটি গাড়িতে ধাক্কা মারে এবং কয়েকজন মানুষ গাড়ির ভিতরে আটকে পড়েন। উদ্ধারকারী দলকে একটি গাড়ির নিচে আটকে থাকা এক ব্যক্তিকেও উদ্ধার করতে হয়েছে। দুর্ঘটনার ফলে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় বিমানের ককপিটে পাইলট ও কো-পাইলটও আটকে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন জাদাল্লাহ। তবে তাঁরা বেঁচে আছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়নি। একইভাবে মৃতদের মধ্যে বিমানের আরোহী ছিলেন কি না, নাকি তাঁরা সকলেই গাড়িতে থাকা ব্যক্তি ছিলেন, তাও নিশ্চিত করা যায়নি।
আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ধারকাজে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ। ফায়ার চিফের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০টি দমকলের গাড়ি এবং ২০০-র কাছাকাছি কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ ও গাড়ির মধ্যে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করা।
দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সমস্ত রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ব্যস্ত এই বিমানবন্দরে উড়ান পরিষেবা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের উড়ানের পরিস্থিতি জেনে নিতে বলা হয়।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। Federal Aviation Administration (FAA) এবং National Transportation Safety Board (NTSB) বিষয়টি তদন্ত করবে। NTSB জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য বিশেষ দল পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, অ্যামাজনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করার সময় একটি দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে।
এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের লুইসভিল বিমানবন্দরে একটি UPS কার্গো বিমান একই ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল। রানওয়ে দিয়ে দ্রুতগতিতে এগোনোর সময় বিমানের একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। সেই ঘটনায় তিন পাইলট এবং মাটিতে থাকা ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন আরও ২৩ জন।
মায়ামির এই দুর্ঘটনার পর ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে বড় বিমানবন্দরে অবতরণের সময় কার্গো বিমানের নিরাপত্তা এবং রানওয়ের আশপাশের এলাকায় কর্মরত মানুষের সুরক্ষা। তদন্ত শেষ হলেই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা আরও স্পষ্ট হবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


