Ancient wild bees discovery Portugal: হাজার বছরের পুরনো হাড়ের ভেতর মৌমাছি! কবরখানার নীচে আস্ত একটা ‘শহর’

Millions of bees beneath cemetery: প্রকৃতি আমাদের মাঝে মাঝে এমন সব উপহার দেয় যা কল্পনাকেও হার মানায়। সম্প্রতি পর্তুগালের দক্ষিণ উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এমন এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন যা বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিরল।

Published on: Apr 16, 2026 9:49 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Eucera bees fossils: প্রকৃতি এবং ইতিহাসের এক অদ্ভুত মেলবন্ধনের গল্প উঠে এসেছে পর্তুগালের এক প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যে। কয়েক হাজার বছরের পুরনো হাড়ের ভেতরে মৌমাছিদের চমৎকারভাবে সংরক্ষিত বাসা খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।

হাজার বছরের পুরনো হাড়ের ভেতর মৌমাছি! কবরখানার নীচে আস্ত একটা ‘শহর’
হাজার বছরের পুরনো হাড়ের ভেতর মৌমাছি! কবরখানার নীচে আস্ত একটা ‘শহর’

প্রকৃতি আমাদের মাঝে মাঝে এমন সব উপহার দেয় যা কল্পনাকেও হার মানায়। সম্প্রতি পর্তুগালের দক্ষিণ উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এমন এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন যা বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিরল। প্রায় ৩,০০০ বছর আগেকার এক কবরস্থানের মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অসংখ্য বুনো মৌমাছির বাসা, যা আশ্চর্যজনকভাবে আজও অক্ষত রয়েছে। সাধারণত পোকামাকড়ের শরীর বা বাসা সময়ের সাথে সাথে পচে মাটির সাথে মিশে যায়, কিন্তু এখানে প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়ম বদলে দিয়েছে।

আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট

পর্তুগালের ‘ওডেসেইক্স’ (Odemira) উপকূলে প্যালিওন্টোলজিস্ট বা জীবাশ্মবিদরা যখন খননকার্য চালাচ্ছিলেন, তখন তারা মাটির নিচে প্রাচীন হাড়ের কাঠামো খুঁজে পান। কিন্তু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পর তারা অবাক হয়ে দেখেন যে, ওই হাড়ের ছিদ্রগুলোর ভেতরে মৌমাছিরা তাদের বাসা তৈরি করেছিল। গবেষকদের মতে, এই মৌমাছিগুলো ‘ইউসেরা’ (Eucera) প্রজাতির, যারা মাটির নিচে বা গর্তে বাসা তৈরি করতে পছন্দ করে।

কেন এই আবিষ্কার এত গুরুত্বপূর্ণ?

পোকামাকড়ের জীবাশ্ম পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। কারণ তাদের শরীরের বাইরের আবরণ বা ‘এক্সোস্কেলিটন’ অত্যন্ত নরম হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে, মৌমাছিরা যখন তাদের বাসার ভেতর লার্ভা বা গুটি (Cocoon) তৈরি করেছিল, তখন কোনো এক বিশেষ প্রাকৃতিক কারণে সেই জায়গাটি দ্রুত সিল বা বন্ধ হয়ে যায়। সম্ভবত কোনো প্রবল বন্যা বা বালির ঝড়ের ফলে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারেনি, যার ফলে কয়েক হাজার বছর ধরে এই মৌমাছিগুলো অবিকৃত অবস্থায় থেকে গেছে।

গবেষকরা সিটি স্ক্যান (CT Scan) ব্যবহার করে দেখেছেন যে, ওই বাসাগুলোর ভেতরে আজও মৌমাছির লার্ভা এবং তাদের তৈরি করা মোমের আস্তরণ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এটি তখনকার জলবায়ু এবং পরিবেশ সম্পর্কে আমাদের মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত

বিজ্ঞানীদের মতে, ৩,০০০ বছর আগের আবহাওয়া বর্তমানের চেয়ে কিছুটা আলাদা ছিল। মৌমাছিদের এই বিশাল সংখ্যায় এবং এভাবে সংরক্ষিত থাকা প্রমাণ করে যে, তৎকালীন সময়ে এই অঞ্চলে গাছপালা এবং ফুলের প্রাচুর্য ছিল অনেক বেশি। বর্তমানের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই আবিষ্কার আমাদের সতর্ক করছে। যদি মৌমাছিরা ৩,০০০ বছর আগের প্রতিকূলতা সহ্য করে টিকে থাকতে পারে, তবে আধুনিক পরিবেশ দূষণ কেন তাদের আজ বিলুপ্তির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে গবেষণার অবকাশ রয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব ও জীববিজ্ঞানের মিলন

এই আবিষ্কারটি কেবল প্রত্নতাত্ত্বিকদের জন্য নয়, বরং জীববিজ্ঞানী এবং পরিবেশবিদদের জন্যও এক বিশাল সম্পদ। হাড়ের ভেতরে এই বাসাগুলো প্রমাণ করে যে প্রাণিকুল সবসময়ই টিকে থাকার জন্য অদ্ভুত সব আশ্রয় খুঁজে নেয়। মানুষের ইতিহাসের সাথে প্রকৃতির এই অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের চিত্রই ফুটে উঠেছে ওডেসেইক্সের এই কবরে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More