Delhi Crime: চলন্ত বাসে নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ, অপরাধস্থল নিয়ে দিল্লি-UP পুলিশ তরজা

Delhi Crime: তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে চিহ্নিত করা হয় বলে দিল্লি পুলিশের দাবি। এরপর কাশ্মীরি গেট থেকে প্রায় ১৫ মিনিটের দূরত্বে উত্তর দিল্লির তিমারপুরের একটি পার্কিং লটে বাসটির সন্ধান পায় এবং সেখান থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।

Published on: Sep 1, 2026, 23:14:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Delhi Crime: গত ৪ অগস্ট চলন্ত বাসে নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে দিল্লি পুলিশ ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের মধ্যে চাপানউতর। নির্যাতিতা গ্রেটার নয়ডার পরি চক থেকে বাসে উঠেছিলেন, পরে কাশ্মীরি গেটের কাছে তাঁকে নামিয়ে দিয়ে পালানোর অভিযোগ ওঠে চালক ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে। দিল্লি পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দাবি, ঘটনার সূত্র তাদের এলাকাতেই। ফলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অপরাধস্থল কোন রাজ্যের সীমানায়?

চলন্ত বাসে নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ, অপরাধস্থল নিয়ে দিল্লি-UP পুলিশ তরজা
চলন্ত বাসে নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ, অপরাধস্থল নিয়ে দিল্লি-UP পুলিশ তরজা

সূত্রের খবর, গত ৪ অগস্ট রাতে গ্রেটার নয়ডার পরি চক থেকে একটি স্লিপার বাসে ওঠেন ১৬ বছর বয়সি নাবালিকা। চলন্ত বাসেই তাঁর উপর যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। পরি চক থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরে পুরনো দিল্লির কাশ্মীরি গেট বাস টার্মিনালের কাছে রিং রোডে নাবালিকাকে ফেলে রেখে অভিযুক্তেরা বাস নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। এরপর কাশ্মীরি গেট থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান নাবালিকা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ।

তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে চিহ্নিত করা হয় বলে দিল্লি পুলিশের দাবি। এরপর কাশ্মীরি গেট থেকে প্রায় ১৫ মিনিটের দূরত্বে উত্তর দিল্লির তিমারপুরের একটি পার্কিং লটে বাসটির সন্ধান পায় এবং সেখান থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। দিল্লি পুলিশের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়েছিল। কিন্তু এখানেই শুরু হয়েছে দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে টানাপড়েন। সোমবার দিল্লি পুলিশ ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনার পর উত্তরপ্রদেশের গৌতমবুদ্ধ নগর কমিশনারেট দাবি করে, বিষয়টি সম্পর্কে তাদের আগে কিছুই জানানো হয়নি। তাদের বক্তব্য, ঘটনাটি যে এলাকায় ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে আসছে, সেটি তাদের অধীনেই পড়ে। গৌতমবুদ্ধ নগর কমিশনারেটের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রবিশঙ্কর নিম (Ravishankar Nim) দাবি করেছেন, ৩১ অগস্টের আগে দিল্লি পুলিশ নয়ডা পুলিশকে এই ঘটনা সম্পর্কে কোনও তথ্য দেয়নি। এমনকী নির্যাতিতার তরফ থেকেও গৌতমবুদ্ধ নগর পুলিশকে কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি বলে দাবি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের।

নয়ডা পুলিশের বক্তব্য, তদন্তে পাওয়া নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং প্রকাশ্যে আসা ঘটনার বর্ণনার মধ্যে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। ফলে ঘটনাটি ঠিক কোথায় ঘটেছে এবং কোন পুলিশ বাহিনীর এক্তিয়ারে তদন্ত হওয়া উচিত, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে ঘটনাস্থল নিয়ে প্রাথমিক জটিলতা থাকলেও অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত করার ক্ষেত্রে আইনি বাধা নেই। দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (নর্দার্ন রেঞ্জ) মধুর বর্মা (Madhur Verma) জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (Bharatiya Nyaya Sanhita) নতুন বিধান অনুযায়ী, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ যে কোনও থানায় জানানো হলে তা গ্রহণ করে তদন্ত করা যেতে পারে।

দিল্লির পুলিশের বক্তব্য, উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরীর একটি স্কুলের একাদশ শ্রেণির নিগৃহীতা ছাত্রীর বয়স বছর ষোলো। মন দিয়ে লেখাপড়া না–করায় ঘটনার দিন মা তাকে বকাবকি করেছিলেন, মেয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয় তাঁর। এরপরে বাড়িতে কিছু না জানিয়ে মৈনপুরী থেকে নয়ডার সেক্টর ৬৩–তে এক তুতো বোনের বাড়ির দিকে রওনা হয় নাবালিকা। প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার যাওয়ার পরে ভারী বৃষ্টি ও অন্ধকারের মধ্যে ঠাহর করতে না–পেরে রাত ন’টা নাগাদ গ্রেটার নয়ডার পরী চক এলাকায় নেমে পড়ে সে। পরী চক থেকে ওই আত্মীয়ের বাড়ি আরও অন্তত ২৫ কিলোমিটার। এ দিকে মুষলধারে বৃষ্টি, রাস্তায় লোকজন কার্যত নেই। ভিজে চুপচুপে হয়ে মেয়েটি দেখে, ওই রুটে একটি বাস আসছে। নাবালিকাকে দেখে বাস থামিয়ে কন্ডাক্টর জানতে চায়, সে কোথায় যাবে? নয়ডার সেক্টর ৬৩ শুনে জানায়, বাসও ওই দিকেই যাবে, পথে তাকে নামিয়ে দেবে। কন্ডাক্টরের আশ্বাসে বাসটিতে ওঠার পরে কিশোরী দেখে, আর কোনও যাত্রী সেখানে নেই। দূরপাল্লার যাত্রিবাহী স্লিপার বাসের জানলায় মোটা পর্দা। এফআইআরে নির্যাতিতা জানিয়েছে, স্টার্ট দেওয়ার পরেই কন্ডাক্টর তাকে উদ্দেশ করে অশালীন ইঙ্গিত করতে থাকে। এর পরে চালক ও কন্ডাক্টর মিলে তাকে যৌন নির্যাতন করে। বাধা দিলে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনাটি সামনে আসার পর দিল্লির মহিলা কমিশনও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ করেছে। অভিযোগের দ্রুত তদন্ত শেষ করে সাত দিনের মধ্যে পুলিশকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।